‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি আগের চেয়ে বড় হয়েছে’ -প্রীত রেজা

বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি ভালো হওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার বিশেষ দিনটির মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখে ছবি এবং ভিডিও। ওয়েডিং ডায়রি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রীত রেজার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহরিয়ার কবির হিমেল।

আনন্দধারা : ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে কীভাবে এলেন?

প্রীত রেজা : আমার স্বপ্ন ছিল ফটোসাংবাদিক হব, পত্রিকায় ছবির নিচে আমার নাম থাকবে। সেই লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় কন্ট্রিবিউটিং ফটোগ্রাফার হিসেবে ফিচারের জন্য ছবি তোলা শুরু করি। মনে আছে, আমার প্রথম ছবিটি প্রকাশিত হয়েছিল আজকের কাগজে। এভাবে কাজ করতে করতে একসময় উপলব্ধি করলাম, ফটোগ্রাফি ভালোভাবে শেখার জন্য অর্থের প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গে কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হয়। বাঁচতে হলে টাকা লাগে। টাকার জন্যই সিনিয়রদের দেখাদেখি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি শুরু করি। কিন্তু কাজটা ভালো লাগত না। কারণ এই কাজে সম্মান নেই। পত্রিকার চাকরিটা আমার তখন ভালো লাগছে। সামাজিক একটা মর্যাদাও তৈরি হচ্ছে ফটোসাংবাদিক হিসেবে। কিন্তু এই আমি যখন রাতে বিয়ের ছবি তুলি, তখন সম্মানটা আর থাকে না। এই ব্যাপারটা সব জায়গায় ঘটে, এমনকি আমার পত্রিকা অফিসে, আমার ফটোগ্রাফি স্কুলেও। অথচ আমার ফটোগ্রাফি পড়াশোনার খরচসহ অন্যান্য খরচ চলে কিন্তু বিয়ের ছবি তুলেই। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির প্রতি তাই আমার একটা

কৃতজ্ঞতাবোধ কাজ করে। একইসঙ্গে আরেকটি বিষয় উপলব্ধি করলাম। আমি টাকার জন্য ছবি তুলছি, কিন্তু যে মানুষটির বিয়ে তার জন্য দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যখন বলেন, ‘ইউ মেড আওয়ার ডে’, তখন দারুণ ভালোলাগা কাজ করে। ফটোজার্নালিজমের ছাত্র হওয়ার কারণে পোর্ট্রেট ছাড়াও বিয়ের অন্য রকম ছবি তোলার ব্যাপারে চিন্তা করি। সেখান থেকে আমি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করা শুরু করলাম যে সমস্যাটা কোথায়! কেন এটি একটি সম্মানজনক পেশা হতে পারে না? পত্রিকায় ততদিনে ওয়েজ বোর্ডের অধীনে চলে এসেছি। নিরাপদ ক্যারিয়ার। কিন্তু বিয়ের ছবি তোলার ব্যাপারে সামাজিক প্রতিকূলতা আমাকে জেদি করে তুলল। এই জেদ থেকেই আমি ভাবলাম, তাহলে বিয়ের ছবিই তুলব। আমি দেখাতে চেয়েছি, পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এবং ফটোজার্নালিজমে পড়াশোনা করার পরও কেউ ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হতে পারে।

এভাবেই শুরু। ২০১০ সালে প্রথম বিয়ের ছবির একটি প্রদর্শনী করি। তানজিম ওয়াহাব, ম্যাক সুমন এবং কামরুজ্জামান ছিলেন প্রদর্শনীর কিউরেটর। আরেকজন মানুষের কথা বলতে চাই- তিনি শহিদুল আলম। শহিদুল কিন্তু বিয়ের ছবির প্রদর্শনীর কথা শুনে অন্য অনেকের মতো নাক সিটকাননি। তিনি গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন।

আনন্দধারা : ওয়েডিং ফটোগ্রাফির সামাজিক গুরুত্ব তৈরির পাশাপাশি এটিকে একটি ভালো ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর ব্যাপারেও আপনার অবদান আছে। ফটোগ্রাফার হিসেবে এবং ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার এই পথচলা নিয়ে কিছু বলবেন।

প্রীত রেজা : আমি আসলে প্রথম থেকেই চেয়েছি এটিকে একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে তৈরি করতে। চেয়েছি ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে একটা বড় জায়গায় নিয়ে যেতে। ধীরে ধীরে আমি উপলব্ধি  করি, এজন্য একটা অবকাঠামো প্রয়োজন। একটা অফিস প্রয়োজন, যেখানে গ্রাহক এসে কথা বলতে পারবেন। একটা ভালো টিম প্রয়োজন। আমার মনে আছে, ধানমন্ডিতে এআর প্লাজার উল্টোদিকের ভবনের তিনতলায় আমার ছোট্ট একটা অফিস ছিল। এরপর আমাদের অফিস বড় হয়েছে। এখন আমাদের অফিসে প্রায় ৪৫ জন কাজ করেন।

আনন্দধারা : এভাবেই তাহলে ওয়েডিং ডায়রির শুরু।

প্রীত রেজা : এভাবেই শুরু। আমি চেয়েছি এটা ব্যক্তি আমিকেন্দ্রিক না হয়ে একটি টেকসই প্রতিষ্ঠান হোক। একা কাজ করলে হয়তো আমার জন্য ব্যাপারটি আরো সহজ হতো। এই ৪৫ জনকে নিয়মিত বেতন দেয়ার চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু এমনটি আমি চাইনি। আরেকটি কথা আপনার সঙ্গে শেয়ার করে আনন্দ পাব। আল্লাহর রহমতে এখন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি আগের চেয়ে বড় হয়েছে। অনেকগুলো ফার্ম কাজ করছে। বেশিরভাগ ফার্মেই আমার কোনো না কোনো ছাত্র বা পুরনো সহকর্মী আছেন। এতে আমার আনন্দ হয়। আমি চেয়েছি সবাই মিলে বড় হতে। চেয়েছি একটা সুস্থ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠুক। বাজারে একজন আরেকজনের প্রতিযোগী হলেও সবার মধ্যে একটা সহযোগিতা ও জ্ঞান আদান-প্রদানের মানসিকতা থাকা দরকার। নিজে বড় হতে হলে আরেকজনকে লাথি মারতে হবে- এমনটি আমি বিশ্বাস করি না।

আনন্দধারা : এখন ২০১৯ সালে এই ইন্ডাস্ট্রি কী অবস্থায় আছে বলে মনে করেন?

প্রীত রেজা : আমার মনে হয় আমরা এখন উল্টোপথে হাঁটছি এবং আমরা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছি। কীভাবে? প্রথমত, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি কোনো সামাজিক সেবা নয়। পেশা হিসেবে এটাকে টেকসই হতে হবে। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন মোজাম্মেল ভাই ছিলেন, পরে অপূর্ব ভাই আসেন। তখন আমাদের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দাম কমিয়ে বেশি বেশি কাজ করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ওয়েডিং ফটোগ্রাফাররা বছরে ২০-৩০টার বেশি ওয়েডিং করেন না। সস্তায় মাসে ২০টা কাজ করার চেয়ে মানসম্পন্ন কাজ অল্প করা ভালো। আমাদের দেশে শ্রমের দাম কম। এজন্য আমরাই দায়ী। এমন না যে আমি চাইলেই রাতারাতি পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিতে পারি। কিন্তু নিজের কাজের গুরুত্ব বুঝতে হবে। গ্রাহককেও গুরুত্বটি বোঝাতে হবে। গ্রাহক যদি মনে করেন বেশি টাকা দিয়ে তিনি ওই সেবা এবং মান পাচ্ছেন না, তাহলে কিন্তু তিনি আমাকে কাজ দেবেন না। আমি বলছি না যে অর্থই এখানে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু মানের চেয়ে এখন সংখ্যা গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। হওয়া উচিত কিন্তু উল্টোটা। এভাবে বাজারে টিকে থাকা যাবে না। ক্যামেরা কেনাটা সহজ, শুরু করাটাও সহজ, কিন্তু টিকে থাকাটা কঠিন। লম্বা রেসের ঘোড়া কিন্তু কম।

এদিক থেকে আমার মনে হয় ইন্ডাস্ট্রি নাজুক অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন আছে। প্রতিযোগীদের এক হওয়ার প্রয়োজন আছে।

আনন্দধারা : আপনার কি মনে হয় না বাংলাদেশে, বিশেষত ঢাকায় ওয়েডিং ফটোগ্রাফির মার্কেট এখন স্যাচুরেটেড?

প্রীত রেজা : এখন অনেক ওয়েডিং ফটোগ্রাফার আছে বাজারে, তাই আপনার মনে হচ্ছে মার্কেট স্যাচুরেটেড। কিন্তু যে অল্পকিছু ফার্ম বা ফটোগ্রাফার কাজটি পেশাদারভাবে, গুরুত্ব দিয়ে, ভালোবেসে করছেন, দিনশেষে তারাই কিন্তু টিকে আছেন। যে ছেলেটি শখে ক্যামেরা কিনেছে, অল্প টাকায় বিয়ের ছবি তুলছে হাতখরচের জন্য, তার কাছে কিন্তু এটা পার্ট টাইম কাজ। এটা খারাপ কিছু না, কিন্তু এই ফটোগ্রাফার বন্ধুদের আমি বলব কাজটার গুরুত্ব বুঝতে। অনেক গ্রাহক কিন্তু না বুঝেই শখের ফটোগ্রাফারদের দিয়ে পেশাদার ফটোগ্রাফারদের মাপছেন।

আনন্দধারা : তাহলে আপনি বলতে চান, গ্রাহকের জন্য পেশাদার ফটোগ্রাফারকে কাজ দেয়া জরুরি?

প্রীত রেজা : অবশ্যই। আমি আমার গ্রাহকদের একটা কথা বলি, বেশি জিততে গিয়ে আবার হেরে যাচ্ছেন না তো? আপনি কিন্তু জিনিস কিনছেন না, সেবা কিনছেন। এখানে আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আসলে আস্থা কিনছেন, বিশ্বাস কিনছেন।

আনন্দধারা : আগের তুলনায় গ্রাহকরা কতটুকু সচেতন হয়েছেন বলে আপনার মনে হয়?

প্রীত রেজা : গ্রাহকরা আমার মনে হয় বরাবরই সচেতন। আমি সৌভাগ্যবান যে, আমার গ্রাহকরা ভালো কাজ বোঝেন। তারা আমার কাজ পছন্দ করেন বলেই আমার কাছে আসেন। আমাকে কেন বলতে হবে যে আমিই সেরা? মানুষ বলবে। তবে একইসঙ্গে এটাও ঠিক, অনেক গ্রাহকের ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তেমন ধারণা থাকে না। এক্ষেত্রে ফটোগ্রাফাররাই অনেক সময় গ্রাহককে বিভ্রান্ত করে ফেলেন। গ্রাহককে আপনার বোঝানোর প্রয়োজন নেই যে, আপনি ভালো ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন। আপনার সেলিং পয়েন্ট হওয়া উচিত আপনি, আপনার কাজ, ক্যামেরা নয়।

আফটার সেলস সার্ভিসটাও আমার মনে হয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কেন ৪৫ জন মানুষ কাজ করেন? কারণ আমরা ওই সেবাটুকু দিতে চাই। গ্রাহক যদি ছবি বা ভিডিও বুঝে পাওয়ার পর আমাকে বলেন, কিছু ছবির এডিটিং বা ভিডিওর কালার কারেকশন তার পছন্দ হয়নি, ভালো আফটার সেলস সার্ভিস না থাকলে কিন্তু আমি ওই সেবা তাকে দিতে পারব না। তখন কিন্তু সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

আনন্দধারা : ডব্লিউ পিপিবি নিয়ে বলুন।

প্রীত রেজা : ডব্লিউ পিপিবি আমার সন্তানের মতো। ইন্ডাস্ট্রির সবাই এক হওয়ার জন্য, জ্ঞান ও দক্ষতা আদান-প্রদানের একটা জায়গা তৈরির জন্য আমরা অনেকে মিলে এটি শুরু করি। নিজে ভালো থাকতে হলে আশপাশের সবাইকে নিয়ে ভালো  থাকাটা দরকার। আন্তর্জাতিক বেশকিছু বড়মাপের ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। চেষ্টা করেছি তাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার। এই আয়োজনে আমি একা ছিলাম না। ছেলেপেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে। একটা ভালোবাসার জায়গা থেকে ছেলেপেলে বলছি, তবে এরা কিন্তু সবাই একেকটা কোম্পানির সিইও। প্রথম তিন বছর আমি এটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে আমি সবসময় চেয়েছি এখানে নতুন নেতৃত্ব আসুক, কারণ এটি কারো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। এখন রনি ভাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন।

আনন্দধারা : আপনার আন্তর্জাতিক কাজের অভিজ্ঞতা বিষয়ে জানতে চাই।

প্রীত রেজা : আমার বরাবরই মনে হতো আমাদের দেশের ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রিটা ছোট। সাকিব আল হাসানসহ অনেক সেলিব্রিটির ওয়েডিং করলাম, কিন্তু এরপর কী? এই প্রশ্নটা আমি সবসময় নিজেকে করি। যত বড় হচ্ছি, ততই নিজের অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা নিজের চোখে ধরা পড়ছে। তাই সবসময় নিজেকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা থাকে। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার চিন্তা আসে। বিভিন্ন দেশে কাজ করাটা আমার জন্য একটা বড় প্রাপ্তি এবং এটা আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। আমরা বাঙালিরা কিন্তু সব পারি, শুধু সুযোগটা পাই না। বাংলাদেশে আমরা অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে কাজ করি। ছোট জায়গায় দেড় হাজার দুই হাজার গেস্ট থাকে। আমার মনে আছে, আমেরিকার একটা বিয়েতে আমাকে একবার বলা হলো, গেস্ট অনেক বেশি হয়ে গেছে। কত গেস্ট? ১৭০ জন! ফটোসাংবাদিক হিসেবেও আমি বাংলাদেশে অনেক প্রতিকূলতার মাঝে ছবি তুলেছি। তাই বিদেশের প্রোগ্রামে কাজ করা আমার জন্য সহজ।

আনন্দধারা : এই প্রসঙ্গে আরেকটা প্রশ্ন করি। আমার মনে হয় আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো সব একইরকম হয়ে যাচ্ছে। যারা বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন, তারা নতুন কী করতে পারেন যাতে পুরো ব্যাপারটা আরো ইন্টারেস্টিং হয়, আরো মোমেন্টস পাওয়া যায়? আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন?

প্রীত রেজা : আমি আমার গ্রাহকদের প্রশ্ন করি, গত এক বছরে যত বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন, তার মধ্যে কোনটা আপনার বিশেষভাবে মনে আছে? দেখা যায় কোনো অনুষ্ঠানের কথাই আমরা সেভাবে মনে করতে পারি না। সব অনুষ্ঠানের গল্প তো একই। ৮০০ টাকার গিফট, ১০০০ টাকার খাওয়া, স্টেজে ছবি তুলে চলে আসা। আমাদের অনুষ্ঠানগুলোতে খাওয়াটাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। এরচেয়ে কিছু কম গেস্ট দাওয়াত দিয়ে সেই টাকা দিয়ে একটা লাইভ পিয়ানো বা সানাই রাখুন। মানুষকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দিন। একটা উইশবোর্ড রাখুন, যেখানে মানুষ মন্তব্য করতে পারে। মানুষকে আপনার অনুষ্ঠান মনে রাখার সুযোগ দিন। এই জায়গায় আমাদের ভাবনার পরিবর্তন দরকার।

আনন্দধারা : সবশেষে দুটো প্রশ্ন করব। নতুন ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের জন্য এবং গ্রাহকদের জন্য সংক্ষেপে আপনার পরামর্শ কী?

প্রীত রেজা : নতুন ফটোগ্রাফারদের বলব, নিজেকে আগে প্রশ্ন করুন, আপনি কেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হতে চান। আমরা সবসময় ট্রেন্ডে চলতে চাই। আজ থেকে বারো বছর আগে আমি যখন শুরু করি, তখন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ট্রেন্ড ছিল না। ভেবে দেখুন বাজারে নতুন ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের চাহিদা আছে কিনা। অনেকে হয়তো ভাববেন, আমি প্রতিযোগী বাড়াতে চাই না বলে একথা বলছি। ব্যাপারটা তা নয়। পেশাদার হিসেবে টেকসই হতে হলে বাজার বিশ্লেষণ করা খুব জরুরি। এখন শুরু করলে হয়তো আমি ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হতাম না। তারপরও যারা এটিকে ভালোবাসেন, করতে চান, অবশ্যই এগিয়ে আসুন। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি কিন্তু অন্য অনেক ধরনের কাজ থেকে কঠিন। অল্প সময়ে অনেক কিছু ম্যানেজ করতে হয়। ব্যাপারগুলো মাথায় রাখুন।

গ্রাহকদের জন্য বলব ফটোগ্রাফার নেয়ার আগে তার আগের কাজগুলো দেখুন। বাছাই করা পোর্টফোলিও দেখার সঙ্গে সঙ্গে একটা পুরো অনুষ্ঠানের ছবি দেখুন। আপনার পরিচিত কেউ তার কাছে ছবি তুলেছেন কিনা খোঁজ নিন। আমার কাছ থেকে সার্ভিস নিতে হবে, তা বলছি না। তবে পেশাদারি মানসিকতা আছে এমন ফটোগ্রাফারকে কাজ দিন। আপনার ছবিগুলো নিরাপদে থাকছে কিনা, অনুষ্ঠানের পর সময়মতো ছবি পাবেন কিনা- এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন। বেশি জিততে গিয়ে যেন হেরে না যাই।

ছবি : ওয়েডিং ডায়রি

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।