সাধ্য অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করি


আরিফ মাহমুদ

তরুণ উদ্যোক্তা আরিফ মাহমুদ। যিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ট্রিপল-ই) লেখাপড়া সম্পন্ন করেও আপন স্বপ্ন পূরণে নিজেকে যুক্ত করেন ব্যবসার সঙ্গে। Aesthetic Events নামে তৈরি করেন একটি ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান। নিজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

আনন্দধারা : ওয়েডিং বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা কখন থেকে শুরু?

আরিফ মাহমুদ : ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ব্যবসা করার। পরিবারের ইচ্ছাতেই ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। ওয়েডিং ছাড়া আমার আরো অন্যান্য ব্যবসা থাকলেও এ ব্যবসার মাঝে আমি একটা প্রাণ খুঁজে পাই। বিয়ে হচ্ছে মানুষের জীবনের একটা অপরিসীম অধ্যায়। ভালোলাগা থেকেই ওয়েডিংকে ব্যবসা হিসেবে নিয়ে কাজ শুরু করি।

আনন্দধারা : এই পেশাতে কাজ করতে কেমন লাগে?

আরিফ মাহমুদ : তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়ে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সারা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কে দ্রুত সবকিছু জানা যায়। তাছাড়া আরেকটা বড় বিষয় হচ্ছে, এই পেশার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা সম্ভব। মানুষের সঙ্গে মিশতে আমার খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন নিত্যনতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করা যায়। এ পেশায় ভবিষ্যৎ অনেক সুন্দর। কাজটা করে আমার ভালো লাগে এবং এই কাজের মধ্যেই নিজের সত্তাকে খুঁজে পাই।

আনন্দধারা : ওয়েডিংয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অবস্থান কোথায়?

আরিফ মাহমুদ : মূলত এশিয়ার মধ্যে যে ইভেন্টগুলো সেগুলো অনেক জমকালো হয় আর ইউরোপে তার বিপরীত। বর্তমানে আমাদের ওয়েডিং একটা ভালো অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। আমরা এ প্রজন্ম প্রফেশনালি শুরু করাতে সব জায়গায় ওয়েডিংয়ের একটা ভালো অবস্থান তৈরি হয়েছে ।

আনন্দধারা : এই পেশায় কাজ করতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আরিফ মাহমুদ : শিক্ষাটা সব ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ পেশার ওপর লেখাপড়া না করলেও এর সম্পর্কে ধারণা নিয়েই তো অবশ্যই ব্যবসা করতে এসেছি। এই পেশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যবস্থাপনা। সেজন্য লেখাপড়ার বিকল্প কিছু নেই।

আনন্দধারা : পেশা হিসেবে বাংলাদেশে ওয়েডিংয়ের সম্ভাবনা কেমন?

আরিফ মাহমুদ : পেশা হিসেবে ওয়েডিংয়ের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারি বা বেসরকারিভাবে হলগুলোর মাঝে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার পরিপূর্ণ পদক্ষেপ নিলে এ পেশায় আরো ভালো করা সম্ভব।

আনন্দধারা : ওয়েডিংয়ে কোন বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন?

আরিফ মাহমুদ : আমাদের এই ব্যবসাটা তো সরাসরি কাস্টমার রিলেটেড। সেহেতু আমাদের প্রথম এবং প্রধান গুরুত্ব থাকে কাস্টমারের চাহিদার ওপর। কাস্টমারের চাহিদার ওপর আমরা কাজ করি। যে কোনো ওয়েডিংয়ের আগে সরাসরি কাস্টমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারপর কাজটা করি।

আনন্দধারা : আপনার প্রতিষ্ঠান গ্রাহকসেবা কীভাবে প্রদান করে?

আরিফ মাহমুদ : প্রত্যেক কাস্টমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করি কিন্তু অন্য ব্যবসায় এটা সম্ভব নয়। সরাসরি কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করি।

আনন্দধারা : একটি ওয়েডিংয়ের বাজেট কত হয়?

আরিফ মাহমুদ : আমরা ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা আর অ্যাভারেজ ভাবে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যে কাজ করি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কাস্টমারের দোরগোড়ায় তাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে দেয়া। ৫০ হাজারটাকার কথা যে বললাম সেটা আসলে কাস্টমারের বাজেট কম থাকলেও আমরা কাস্টমারকে সর্বোচ্চ সেবার মাধ্যমে সে কাজটা করে দেয়ার চেষ্টা করি।

আনন্দধারা : বর্তমানে বাংলাদেশে ওয়েডিংয়ের জনপ্রিয়তা কেমন?

আরিফ মাহমুদ : বর্তমানে ওয়েডিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। শহরকেন্দ্রিক ছাড়াও আস্তে আস্তে ওয়েডিং এখন গ্রামের দিকেও যাচ্ছে। কারণ দিন দিন মানুষের মনমানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছে। সে কারণে আমাদের ব্যবসাও রিচ করছে।

আনন্দধারা : ওয়েডিংয়ে আপনারা কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করেন?

আরিফ মাহমুদ : ওয়েডিংয়ের লাইটটা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া আগে ন্যাচারাল ফুল ব্যবহার করা হলেও এখন আর তা হয় না। এখন সব আর্টিফিশিয়াল ফুল ব্যবহার করা হয়। কারণ আর্টিফিশিয়াল ফুল সহজে নষ্ট হয় না, দেখতেও সেটা সুন্দর আর বারবার ব্যবহারও করা যায়।

আনন্দধারা : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আরিফ মাহমুদ : আন্তর্জাতিকভাবে ইভেন্টটাকে দাঁড় করাতে চাই। দেশের বাইরে থেকে আমাদের দেশে অনেক ইভেন্ট কোম্পানি এসে কাজ করছে। বর্তমানে এশিয়ার দেশগুলোতে কাজ করার অনেক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে।

যোগাযোগ : অ্যাস্থেটিক ইভেন্টস্, ৫৫/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা। ০১৬৮৩৮৩৯৬০৪

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।