তারুণ্যের ক্যারিয়ার ভাবনা

তৌশিয়াত শাইক

আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পেশা হিসেবে এটি খুবই জনপ্রিয়। তাছাড়া বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগ্রহী তরুণদের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। তাই আমার কাছে ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল আকর্ষণীয় পেশা। ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ারের স্থিতিশীলতা যেমন অন্য অনেক পেশা থেকে বেশি, তেমনি এসব পেশায় সামাজিক মান-মর্যাদাও ঈর্ষণীয়। সে কারণেই আমি এ ব্যাপারে অনেক বেশি মনোযোগী। আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেশকিছু ভাগ রয়েছে। এর মধ্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখযোগ্য। আমি সিভিলকেই বেছে নিয়েছি। আমি জানি এখানে ক্যারিয়ার গড়া কঠিন। তবে আমি কঠিনের সঙ্গে হাঁটতে চাই। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর দরকারমতো এমবিএ, মাস্টার্স, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করার সুযোগও রয়েছে।

 

আরিফুল ইসলাম সাব্বির

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সব পেশা থেকে শিক্ষকতা পেশা সবার কাছে সম্মানের বটে! দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করার কাজ এই পেশা থেকে তৈরি হয়। কেননা শিক্ষকরা সমাজের আলোকবর্তিকা। অন্ধকারে থাকা মানুষগুলোকে আলোকিত করে শিক্ষার আলোয়। আমিও সেদিকেই অগ্রসর হব এবং শিক্ষার আলোয় সমাজ তথা দেশকে আলোকিত করতে চাই। ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করব এবং সে পথেই এগোচ্ছি। যেহেতু রেজাল্টে বিভাগের ভালো অবস্থানে আছি, সেহেতু শিক্ষক হওয়ার দিকেই বেশি আগ্রহ। তাছাড়া জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি; আমিও তার অংশীদার হতে চাই।

 

তাইয়ুম আহমেদ

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়

আমি একজন ব্যাংকার হতে চাই। কারণ বর্তমানে চাকরির বাজারে ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। তরুণ-তরুণীদের পছন্দের প্রথম কাতারে রয়েছে এই পেশা। কারণ এই পেশাটিকে সবাই চিন্তামুক্ত একটি পেশা হিসেবেই মনে করেন এবং এর ভবিষ্যৎও অনেক ভালো। ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই খাতে ক্যারিয়ারকে অনেক বেশি নিরাপদ মনে করা হয়। ব্যাংকিং সেক্টরে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো প্রবেশ করায় এই পেশার সুযোগ দিনে দিনে বাড়ছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর সেবার মান সরকারি ব্যাংকের তুলনায় ভালো বলে গ্রাহকসংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে বাড়ছে বেসরকারি ব্যাংকের নতুন শাখা। সেই সঙ্গে সেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজন পড়ছে অধিক কর্মীর। আর ভালো জনশক্তি সংগ্রহের জন্য ব্যাংকিং সেক্টরে কাজের ভালো পরিবেশের সঙ্গে রয়েছে ভালো বেতন কাঠামো। তাই আমি নিজেকে এই পেশার জন্য গড়ে তুলতে আগ্রহী।

 

খন্দকার আশিক মাহমুদ

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যারিয়ার হিসেবে আমার পছন্দের জায়গা টেলিকম সেক্টর। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে বাড়ছে এর ব্যবহার। বিশেষ করে ইন্টারনেটকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে টেলিকম খাতের প্রসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর এজন্য এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন পড়ছে দক্ষ কর্মীবাহিনী। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে এই খাতকেই আমি বেছে নিতে চাই। এই খাতে ক্যারিয়ার গড়লে একজন কর্মী অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বেতন ও কাজের পরিবেশও ভালো। আমি জানি টেলিকমিউনিকেশনে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে গ্র্যাজুয়েটসহ নেটওয়ার্কিং, ইলেক্ট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার ও টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। পাশাপাশি এ সেক্টরের জন্য নিজেকে গড়তে হবে স্মার্ট ও রুচিশীলভাবে। হতে হবে দক্ষ ও প্রগতিশীল। থাকতে হবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। আমিও নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছি।

 

শেখ সোহেল রানা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

উন্নত বিশ্বের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ নিজের জায়গা করে নিয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ওষুধ শিল্পের বিস্তার ঘটেছে। এই সেক্টরে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বর্তমানে অনেকেই ডিগ্রি পাস করে এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। কাজের ক্ষেত্র অনেক বড় হওয়ায় এ সেক্টরে চাকরি পেতে তেমন কষ্ট পোহাতে হয় না। সেলসম্যান থেকে শুরু করে রিজিওন্যাল ম্যানেজার পর্যন্ত খুব সহজেই পাড়ি দেয়া যায়। তবে তার জন্য থাকতে হবে অধ্যবসায় ও ইচ্ছা। পরিশ্রমীরা এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যায়। আমি বিসিএসের জন্য এত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারব না। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাই যত দ্রুত চাকরিতে ঢুকব ততই আমার সেই স্বপ্ন পূরণ সহজ হবে। এ কারণেই আমি এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাই।

 

রাহাতুল ইসলাম

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। তাই আমি সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাই। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং উপযুক্ত স্থান। পণ্য বাজারজাত করতে প্রচুর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং কর্মীর প্রয়োজন। যদিও এক সময় সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একই ডিপার্টমেন্ট ছিল কিন্তু বর্তমানে সেলস ও মার্কেটিং আলাদা ডিপার্টমেন্ট ধরা হয়। বিশ্বে যত ধরনের পণ্য রয়েছে, তার সবগুলোর জন্যই দরকার এই দুই বিভাগ। দেশীয় কোম্পানির পাশাপাশি বিদেশি অনেক কোম্পানিও বাংলাদেশে তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। ফলে বাড়ছে এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান। তাই এসব বিভাগে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য পেশা হিসেবে আমার পছন্দের জায়গা সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং।

 

ছবি : হৃদয় তানভীর ও সংগ্রহ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup