তারুণ্যের ক্যারিয়ার ভাবনা

জিএম ফারহান মোরশেদ খান

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম অনেক দুরন্ত স্বভাবের। কখনো নিজেকে ট্রাফিক পুলিশ, আবার কখনোবা নিজেকে ভাবতাম পাড়ার মুদি দোকানদার। আবার কখনোবা নিজেকে ডাক্তার কল্পনা করে মজা পেতাম। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম, একই সঙ্গে সবকিছু করা সম্ভব না। আমি এখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। শেষ বর্ষের একজন ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার উপযুক্ত সময়। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে চাই। কারণ আমি মনে করি সামরিক বাহিনীতে যোগদান করে আমি নিজের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করার পাশাপাশি নিজের দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করতে পারব। নিজের দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ এই পেশায় অনেক বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সাহসিকতা আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায় সামরিক বাহিনীকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে।

 

 

জামসেদুর রহমান সজীব

বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ

আমার গল্প বলতে বা গল্প উপস্থাপন করতে খুব ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকে লেখালেখির পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। এক সময় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করি। তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। ভালোলাগা এক সময় নেশায় পরিণত হয়। এমনকি স্বপ্ন দেখা শুরু করি আগামীতে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে নেয়ার। বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন মাধ্যমই নয়, মুক্ত চিন্তার চর্চা ও মত প্রকাশের বাহকও। সমাজে পরিবর্তন আনতেও চলচ্চিত্র আজ বিরাট ভূমিকা পালন করার ক্ষমতা রাখে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, একজন স্বাধীন চিন্তার ও সৃষ্টিশীল মানুষ চলচ্চিত্রে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মেলে ধরতে পারেন। চলচ্চিত্র একটি দলগত কাজ। এখানে ভিন্ন মতের, ভিন্ন চরিত্রের, ভিন্ন প্রতিভার মানুষেরা এক হন। তারা নিজ নিজ স্থান হতে নিজেদের কাজগুলো করেন এবং সুন্দর একটি গল্প বলার চেষ্টা করেন। একটি চলচ্চিত্র একটি সময়কে বহন করে। সে সময়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলে সেলুলয়েডের মাধ্যমে। মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। একটি চলচ্চিত্র মানুষকে ভাবতে শেখায়। স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখায়। চলচ্চিত্রের মতো এমন শক্তিশালী মাধ্যমকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমার অনেককিছুই ভালো লাগে। গল্প, গান, চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফিসহ অনেক কিছু। চলচ্চিত্রে এ সবকিছুর সম্মিলন ঘটে। তাই চলচ্চিত্র আমাকে অনেক কাছে টানে। বাংলাদেশের অনেক খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার রয়েছেন যারা নিজেদের কাজকর্মে গোটা বিশ্বের দরবারে স্বদেশি চলচ্চিত্রের নাম পৌঁছে দিয়েছেন। জহির রায়হান, তারেক মাসুদ, মোরশেদুল ইসলাম, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অনেকে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের যোদ্ধা। তারা আমাদের গর্ব। আমারও ইচ্ছা হয় তাদের মতো চলচ্চিত্রকার হতে। ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করলে অনেকেই চায় নিশ্চিত ও নিরাপদ একটি পথ বেছে নেয়ার। কিন্তু ক্যারিয়ার হিসেবে আমি সেই পথকেই বেছে নেব, যে পথে আমি আমৃত্যু নিরলসভাবে হাঁটতে পারব। চলচ্চিত্র আমার সে পথের নাম।

 

রোজেল কাজী

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিটি মানুষের আলাদা শখ থাকে, আর সেই শখটাকে যদি সে পেশা হিসেবে নিতে পারে, তাহলে কর্মের প্রতি কখনো অনীহা আসে না। কাজে সর্বদা ভালোবাসা বিরাজ করে। ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল। সেই থেকে ছবি আঁকা বিশেষ করে কার্টুন আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছবি আঁকা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শিল্পপ্রেম প্রতিনিয়ত নাড়া দিচ্ছিল। তাই শিল্পচর্চার মাধ্যমটাকে পরিবর্তন করে ক্যামেরা দিয়ে ‘ছবি আঁকি’ যা আমার কাছে অংকন শিল্পের পরিপূরক। আর এভাবেই আমার আলোকচিত্র শিল্পের জগতে প্রবেশ। আমার ভালোলাগা ভালোবাসা সবই আলোকচিত্র শিল্পকে ঘিরে আবর্তিত। আলোকচিত্র শিল্পের মাধ্যমে আমি আমার মনের ভাব প্রকাশ করি। দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা প্রকাশের মাধ্যম আলোকচিত্র শিল্প। আলোকচিত্র শিল্পের মাঝে আমি সবরকম আশ্রয় খুঁজে পাই। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমি আঁকড়ে ধরে আছি এই শিল্পচর্চাকে। আমার জীবন এটি ছাড়া অচল। যেহেতু অন্য পেশা গ্রহণ করলে শিল্পচর্চা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে, তাই এ শিল্পকেই আমি আমার পেশা হিসেবে নিতে চাই। এজন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে একজন উন্নতমানের আলোকচিত্রশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

এনামূল হক

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)

অর্থ উপার্জন কিংবা জীবিকার তাগিদেই পেশা নির্বাচন করে মানুষ। ব্যক্তিগত রুচিবোধ কিংবা শখকে কেন্দ্র করেও মানুষ বেছে নেয় তার জীবিকার মাধ্যমটি। ছোটকাল থেকেই ক্যারিয়ারবিষয়ক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ পড়ার একটা মোহ কাজ করত আমার মধ্যে। এক সময় পাইলট হয়ে আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখতাম কখনোবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সাগর পাড়ি দেব ভাবতাম। কিন্তু কোথাও নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। কেননা এসব আমার কাছে অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক মনে হয়েছিল। অবশেষে আবিষ্কার করলাম যে আমি গণমানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে তাদের জন্য কিছু করতে চাই। জানতে চাই তাদের সুখ, দুঃখ এবং জানিয়ে দিতে চাই সবাইকে। সেই বোধ থেকেই হয়তো আমার ভেতর সাংবাদিকতা করার ইচ্ছাটা জন্ম নিয়েছে। তাই পড়াশোনার বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতাকেই বেছে নিয়েছিলাম সবার অমত থাকা সত্ত্বেও। বাড়িতে জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমি সাংবাদিকতা বাদে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে পড়ব না। সবাই পরবর্তী সময়ে আমার কঠোর আবদার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। সে কারণেই পড়াশোনাটা আমার পছন্দের পেশাকে ঘিরেই করছি। পাশাপাশি শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছি দেশের নামকরা এক সংবাদমাধ্যমে। দিনশেষে নিজেকে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কাজ করতে চাই গণমাধ্যমে গণমানুষের স্বার্থে। সাংবাদিকতা নয়, এ আমার সংযুক্ত থাকার প্রত্যয়। মানুষের সঙ্গে সংযুক্তি থাকার এ পথ মসৃণ নয় জেনেও পা বাড়িয়েছে এ পথে। শত কিছুর মাঝেও এ পথেই চলতে চাই, যেতে চাই বহুদূর।

 

মো. মানিক হোসেন

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আমি একজন ভালো মার্চেন্ডাইজার ও উদ্যোক্তা হতে চাই। সেক্ষেত্রে আমাকে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। আমি ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিদ্ধান্ত নেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব। অদম্য ইচ্ছা ছিল দেশের টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে কাজ করব। কিন্তু কোনো সরকারি কলেজে ভর্তি হতে না পেরে পরে খুলনা খানজাহান আলী কলেজ অব সায়েন্সে ভর্তি হয়ে যাই। ২০১৬ সালে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চাকরির উদ্দেশ্যে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ চলে আসি। তিন মাস ট্রেনিং করার পর চাকরির পরীক্ষা দিতে দিতে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রথম চাকরি নিজেকে ধরা দিল। নিট কনসার্ন গ্রুপ লিমিটেডে চাকরি পেলাম। কিন্তু নিজেকে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারলাম না। এর মাঝে বুঝতে পারলাম ডিপ্লোমা দিয়ে ভালো কিছু করা যাবে না। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়া শুরু করি। তবে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতায় অনেক কিছু শিখেছি ও দেখেছি বাংলাদেশের টেক্সটাইল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির অবস্থা খুবই করুণ। অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেকে এমনভাবে তৈরি করব চাকরি না খুঁজে নিজেই যেন দেশের মানুষকে চাকরি দিতে পারি। আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে একটা বায়িং হাউজ দেব। বিশ্বের নামিদামি বিদেশি বায়ারদের আমাদের দেশ থেকে টেক্সটাইল পণ্য নিতে উৎসাহিত করব। আমাদের দেশে বিনিয়োগ করার জন্য সাহায্য করব। বাংলাদেশের টেক্সটাইল গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। সেই ছোট থেকেই একটি লেখা দেখে অনেক অনুপ্রেরণা পেতাম Made in Bangladesh. এই লেখাটি আমি সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই। সব দেশের মানুষের শরীরে আমার দেশের স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিতে চাই। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি করতে চাই। শেষ কথা আমরা এগোলে দেশ এগোবে।

ছবি : হৃদয় তানভীর  ও সংগ্রহ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup