‘সফলতার একটা অঙ্ক আছে’- কুমার বিশ্বজিৎ

দর্শকনন্দিত কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। এখনো তার কণ্ঠের গান শ্রোতারা পছন্দ করেন। শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বলেছেন তার সংগীত জীবনের সফলতার সংজ্ঞা, তার অনুপ্রেরণা, নতুন সংগীতশিল্পীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন জাহিদ আকবর

আনন্দধারা : আপনার কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?

কুমার বিশ্বজিৎ : সফল কিনা জানি না। তবে আমার কাজের বিষয়ে আমি খুব মনোযোগী। আমার কাছে কাজের মানে হলো একাগ্রতা, অনুশীলন আর পরিশ্রম। যতটা হয়েছি তার পেছনে এসব কিছুর অবদান রয়েছে। এগুলো ছাড়া সফল হতে পারতাম না। সফলতা মানে একাগ্রতা, অনুশীলন আর পরিশ্রম।

আনন্দধারা : সংগীতের একজন সফল মানুষ বলা হয় আপনাকে। এটা কীভাবে দেখেন?

কুমার বিশ্বজিৎ : সবকিছুর একটা কেমেস্ট্রি থাকে। আমার সংগীতের একটা কেমেস্ট্রি আছে। একটা অঙ্ক আছে। এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি। সেই কারণে এতটা পথ অতিক্রম করতে পেরেছি। নিজে খুশি না হলে কোনো কাজ করিনি আজ পর্যন্ত। অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের ভালোলাগাটা বিসর্জন দেয়নি। এটা করতে গেলে হয়তো সফল হতে পারতাম না।

আনন্দধারা : এই সফলতার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

কুমার বিশ্বজিৎ : যে কোনো কাজে সফল হতে গেলে পরিবারের একটা ভূমিকা থাকে। আমার বেলাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবারের অপার ভালোবাসা পেয়েছি। সংগীতে যারা আমাকে সুযোগ দিয়েছে। ভালো ভালো গান করা বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। গীতিকার, সুরকার, মিউজিশিয়ান, ছবির পরিচালক, প্রযোজক যারা আমার গান শুনছেন সবার কাছে আমার অনেক ঋণ। তারা সবাই না থাকলে এখানটায় দাঁড়াতে পারতাম না।

আনন্দধারা : সফল কোন ব্যক্তিকে নিজের আদর্শ হিসেবে মানা হয়?

কুমার বিশ্বজিৎ : যাদের গান শুনে শুনে নিজেকে তৈরি করেছি- তাদের সবাই আমার কাছে আদর্শ। তাদের গান না শুনলে হয়তো আজকের আমি হতাম না। তাদের গায়কী, গানের ভঙ্গি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এককভাবে কারো নাম বলা খুব মুশকিল। অনেকের সমন্বয়ে এই আমি তৈরি হয়েছি।

আনন্দধারা : একজন সফল ব্যক্তি হতে হলে তার কী ধরনের গুণাবলি থাকা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

কুমার বিশ্বজিৎ : সফল হতে বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্য না থাকলে কোনা কিছু করা যাবে না। সময়কে বুঝতে হবে। সময়কে বুঝে নিজের ঐতিহ্যকে বুকে ধারণা করে এগিয়ে যেতে হবে। কী করছি এটা ভাবতে হবে। সফলতার লক্ষ্যে ধৈর্যের পাশাপাশি পরিশ্রম করে যেতে হবে, তাহলে সফলতা এসে ধরা দেবে।

আনন্দধারা : নিজেকে সফল হিসেবে গড়ে তুলতে চাওয়া নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

কুমার বিশ্বজিৎ : খ্যাতির পেছনে দৌড়ালে চলবে না। একান্তভাবে নিজের মনে কাজ করে যেতে হবে। সহজলব্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সময় বলে দেবে কতদূর যাবে। কাজের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। কী করতে চাচ্ছি সেটার ব্যাপারে পরিষ্কার একটা ধারণা থাকতে হবে। কাজের মধ্যে ভার্সেটাইলিটি থাকতে হবে। তাহলে তাকে কেউ আটকাতে পারবে না বলে বিশ্বাস করি।

আনন্দধারা : সফলতাকে কীভাবে পরিমাপ করেন?

কুমার বিশ্বজিৎ : ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’, ‘চর্তুদোলায় চড়ে’ গানের সফলতার পর ‘চন্দনা গো’ গানটা মানুষ পছন্দ করে। তারপর ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ গানটা মানুষ গ্রহণ করল। সবকিছু ধাপে ধাপে এসেছে। কোনোকিছুর জন্য তাড়াহুড়ো করিনি। এরপর ‘ছোট ছোট আশা’ গানটি। একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে সবকিছুর মধ্যে। আর সফলতা পরিমাপ করা যায় না। ভালো কাজ, মন্দ কাজের পরিমাপ করা যায়। সময় বলে দেবে সফলতা।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup