স্বাস্থ্য ফিচার: অ্যালার্জিক অ্যাজমা

অ্যালার্জি আর হাঁপানির যোগাযোগ এক সূত্রে। হাঁপানি হলো আসলে অ্যালার্জিক ইনফ্ল্যামেশন। কোনো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে শ্বাসনালিতে প্রদাহ হলে তা হাঁপানির লক্ষণ, যা একেবারেই অবহেলা করা যাবে না। কাশি হওয়া, জোরে হাঁটলে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। বুকে চাপ, ধরে থাকা। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি অ্যালার্জিক অ্যাজমার লক্ষণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যালার্জি চারপাশের বাতাসের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু তাই কি আর নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকা যায়। অ্যালার্জেন একই থাকলেও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার প্রকাশ বা ম্যানিফেস্টেশন হয়। এই বিশেষ পরিস্থিতিকে বলে ব্রকিয়াল হাইপার রি-অ্যাক্টিভিটি। শ্বাসনালি অ্যালার্জেনের প্রতি কতটা প্রতিক্রিয়াশীল, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার হাঁপানি ঠিক কতটা গুরুতর। যারা অ্যাজমাটিক হন, তাদের ক্ষেত্রে এই হাইপার রি-অ্যাক্টিভিটি খুব বেশি। গাড়ির ধোঁয়া, ধুলো, পাখির পালক, ফুলের পরাগ ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে তাদের শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

অ্যালার্জিক অ্যাজমা জেনেটিক। তবে শুধু অ্যালার্জিক জিন থাকলেই হবে না, তার সঙ্গে এমন পরিবেশও থাকা দরকার, যেখানে অ্যালার্জেনগুলো শ্বাসনালিতে প্রভাব ফেলবে। কোনো উপসর্গ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অ্যালার্জিক অ্যাজমা উপশমে ইনহেলার খুব কাজে দেয়। ওষুধ খেলে বা ইনজেকশন নিলে তা থেকে অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। আসলে ওষুধটা কেবল ফুসফুসে পৌঁছানো দরকার, মস্তিষ্কে বা হার্টে নয়। ফলে ওষুধ যদি ইনহেল করা যায়, তাহলে সূক্ষ্ম ওষুধের কণা পৌঁছে যায় শ্বাসনালির সর্বত্র। ফলে তাৎক্ষণিক উপশম পাওয়া যায়। ইনহেলার মূলত দু’রকমের ড্রাই পাউডার ইনহেলার আর মিটার ডোজ ইনহেলার। আমরা সাধারণত দ্বিতীয় পদ্ধতিটাই ব্যবহার করে থাকি।

অ্যাজমার সঙ্গে ইমোশনাল স্ট্রেসের যোগাযোগ রয়েছে। রোজ সকালে খোলা জায়গায় ডিপ ব্রিফিং বা যোগাসন কাজে দিতে পারে। যে খাবারগুলো থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। সিগারেটের ধোঁয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। পোষা প্রাণী থাকলে তাদের লোম থেকে হাঁপানি হতে পারে। সতর্ক থেকে সুস্থ থাকুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup