হাল ছাড়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসো

আয়মান সাদিক একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রবি-টেন মিনিট স্কুল। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা অনলাইনে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য এবং সহযোগিতা বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। টেন মিনিট স্কুল পৌঁছে গেছে প্রায় দুই হাজার স্কুলে। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। এটিই এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন এডুকেশন প্লাটফর্ম। আর এর প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক এই সময়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই প্রিয় একজন মানুষ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্ব থেকে আয়মান অর্জন করেছেন অনেক অনেক অ্যাওয়ার্ড। তরুণদের মনে টেন মিনিট স্কুল নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। সেসব প্রশ্নের উত্তরগুলো উঠে এসেছে তার সঙ্গে আড্ডাতে।

আনন্দধারা : টেন মিনিট স্কুল শুরুর গল্পটা শুনতে চাই-

আয়মান সাদিক : শুরুর গল্পটা যদি বলতে হয়, তাহলে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকের প্রসঙ্গ চলে আসবে। আমি মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলাম। সেখান থেকে হুট করেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিবিএতে চলে আসায় ক্লাসের পড়া বুঝতেও বেশ ঝামেলায় পড়তে হচ্ছিল সে সময়টায়। সাহায্য নিলাম ইন্টারনেট থেকে। অনলাইন এডুকেশন প্লাটফর্ম তৈরির আইডিয়াটা মূলত সেখান থেকেই আসা। আর আমি মেন্টরসে অ্যাডমিশনের ক্লাস নিতাম। পড়ানোর প্রতি ভালোলাগার শুরুটাও সেখান থেকেই। সেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং করতে আসত। অনেক অনেক স্বপ্ন চোখে নিয়ে এ ছেলে-মেয়েগুলো শহরে আসে। দুঃখজনক হলেও ব্যাপারটা সত্য যে, আমাদের দেশের সবকিছুই মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক! এটা ছিল একটা প্রতিবন্ধকতা। আর অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তো আছেই। এমন অনেক শিক্ষার্থীও আসত একটা সময় আমার কাছে, যাদের পরিবার কোচিংয়ের পুরো ভর্তি ফির খরচটুকুও বহন করতে অক্ষম। ঢাকায় থাকা-খাওয়া তো পরের কথা। আমি এটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম যে, এই ছেলে-মেয়েগুলোকে যদি আবার তাদের গ্রামে ফিরে যেতে হয়, তাহলে ওদের এই স্বপ্নগুলো চিরকালের মতো শেষ হয়ে যাবে। তখন থেকেই মাথায় একটা চিন্তা ঘুরপাক খাওয়া শুরু করে যে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান আর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যাতে কোনোভাবেই বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে কিছু করা গেলে কেমন হয়? সেই থেকেই একটা ফ্রি অনলাইন এডুকেশনাল প্লাটফর্ম তৈরি করার স্বপ্ন দেখার শুরু।

আনন্দধারা : রবি-টেন মিনিট স্কুলের বর্তমান অবস্থান কী?

আয়মান সাদিক : প্রতিদিন প্রায় ২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী রবি-টেন মিনিট স্কুলের মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রতিটি চ্যাপ্টারের ওপর মোট সাড়ে ৬ হাজারের ওপরে ভিডিও রয়েছে। ২১টি প্রফেশনাল কোর্স রয়েছে টেন মিনিট স্কুলের সাইটে। মাইক্রোসফট অফিস এবং অ্যাডোবির প্রতিটি সফটওয়্যারের ওপরে সম্পূর্ণ কোর্স রয়েছে। ২১৭টি স্মার্ট বুক ও ৩৫০টির বেশি ব্লগ রয়েছে। ৪৮ হাজারের বেশি কুইজ আপলোড করা আছে। লাইভ ক্লাস আছে ৩৫টিরও বেশি। ইউটিউবে আছে ২ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার। ফেসবুকে লক্ষাধিক মেম্বারের কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে থাকি। ৫৩ জন নিবেদিতপ্রাণ টিম মেম্বার এবং ৬০ জনের বেশি শিক্ষকের নিরলস পরিশ্রমের ফল আজকের এই টেন মিনিট স্কুল। আমি চাই সারা বাংলাদেশের নিবন্ধনকৃত ১ লাখ ৭০ হাজার স্কুল আর ৪ কোটি ২৭ লাখ শিক্ষার্থী টেন মিনিট স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।

আনন্দধারা : রবি-টেন মিনিট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন?

আয়মান সাদিক : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই টেন মিনিট স্কুলের ভাবনা মাথায় এসেছিল। বিভিন্ন ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তখন থেকেই যোগাযোগ চলতে থাকে এবং একটি কোম্পানিকে আমরা টেন মিনিট স্কুলের নির্মাণ বাবদ অগ্রিম ৫০ হাজার টাকাও দিই। দীর্ঘ ৬ মাস চেষ্টার পর যখন কোনো ফলাফল পাওয়া গেল না, তখন কিছুটা মন ভেঙে যায়। কিন্তু দমে যাইনি, আবার নতুন করে ওয়েব নির্মাতা কোম্পানির সন্ধান শুরু করি। এবার পুরো টাকা অগ্রিম না দিয়ে অর্ধেকে কাজ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে ওয়েব নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। এভাবে দেড় বছর পার হয়ে গেল। ‘আরেকটাবার চেষ্টা করে দেখি, স্বপ্নটা সত্যি হয় নাকি’ চিন্তা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আবার ওয়েবসাইট নির্মাণের কাজ শুরু করি। প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে তৈরি হচ্ছিল টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইট। ২০১৫ সালের ১০ মে ওয়েবসাইট লঞ্চ করার দিন নির্ধারণ করি, কিন্তু হঠাৎ লঞ্চিংয়ের ঠিক সাতদিন আগে আমাদের কোডিংগুলো কীভাবে যেন মুছে যায় এবং ওয়েবসাইটটি তার কার্যক্ষমতা হারায়। এর মধ্যে আমি ব্রুনেইতে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক একটি সেমিনারে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পাই। ব্রুনেইতে যখন সবার সামনে টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইট দেখাব, এ রকম একটি উত্তেজনা কাজ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের ওয়েবসাইট আর কাজ করছিল না। ১৭ মে আবার লঞ্চিংয়ের দিন নির্ধারণ করে সাতদিনের মাথায় আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পুনরায় রবি-টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইটটি দাঁড় করাই। টেন মিনিট স্কুল ১৭ মে লঞ্চ হয় এবং লঞ্চিংয়ের কার্যক্রম শেষ করে ওইদিনই আমি ব্রুনেইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করি। আমি যখন ট্রানজেকশনের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম আমাদের সার্ভার ক্র্যাশ করেছে। অথচ ঘণ্টাখানেক পরই আমাকে টেন মিনিট স্কুলকে রিপ্রেজেন্ট করতে হবে পুরো বিশ্বের সামনে। তখন আমার ক্রেডিট কার্ড ছিল না। এয়ারপোর্টে বসে এক বড় ভাইয়ের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নতুন সার্ভার কেনা হলো এবং সারা রাত কাজ করার পর সকালবেলা আবার টেন মিনিট স্কুল চালু হলো। আমিও ব্রুনেইতে গিয়ে পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে এলাম টেন মিনিট স্কুল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সার্ভার আর ডাউন হয়নি।

আনন্দধারা : আপনার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং সেই লক্ষ্যে কতটুকু পৌঁছতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

আয়মান সাদিক : সত্যি বলতে এ প্রজেক্টটা শুরুর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। দরিদ্র্যতা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান যাতে কোনোভাবেই শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়ায়, সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য। আয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা হয়নি। যারা রবি-টেন মিনিট স্কুলকে একদম শুরুর দিক থেকেই ফলো করে আসছে, তারা নিশ্চয়ই জানে, আমাদের ইউটিউবের ভিডিওগুলোতে প্রথম আড়াই বছর কোনো অ্যাড দেখানো হতো না। এর কারণটা সত্যি বলতে আমরা তখনো জানতাম কী করে অ্যাড মনিটাইজ করতে হয়! আমাদের লক্ষ্যে আমরা অনেকটাই পৌঁছতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আরো শিক্ষার্থীদের পৌঁছানোর।

আনন্দধারা : টেন মিনিট স্কুলের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণমূলক ঘটনার কথা শুনতে চাই-

আয়মান সাদিক : টেন মিনিট স্কুলের শুরুর দিকে আমরা সারা রাত জেগে একটি স্টুডিওতে ভিডিও বানাতাম। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর প্রতিবেশীরা মাকে জিজ্ঞাসা করত- ‘ভাবি, আয়মান কী করে?’ আমার মা উত্তর দিত- ‘সে তো ভিডিও বানায়।’ তারা বলতেন, ‘ভাবি, কিসের ভিডিও বানায়?’ মা বলতেন, ‘তা তো জানি না।’ প্রতিবেশীরা দেখত, আমি প্রতিদিন রাতে ভিডিও বানানোর জন্য যাই আর সকালে ফিরি। এতে তাদের মনে নেতিবাচক প্রশ্নের জন্ম হতো। আমার মা প্রথমদিকে এর জন্য কিছুটা কষ্ট পেতেন। আবার প্রথমদিকে আমি যখন বিভিন্ন ইভেন্টে বক্তা হিসেবে যেতাম, আমি টেন মিনিট স্কুলের টি-শার্ট পরতাম। একবার একটি ইভেন্টে কথা বলতে যাই এবং সেখানকার দারোয়ান আমাকে আটকে দেয়। তাকে জানালাম, আমি এই সেমিনারের বক্তা। সে মিনমিনিয়ে বলল, এই ছোকড়া বক্তা হয় কীভাবে? এরপর সে আয়োজককে ফোন দিয়ে জানায়, এক পোলা তাকে এসে বলছে; সে নাকি স্পিকার। এ রকম স্পিকার থেকে ছোকড়া আর ছোকড়া থেকে পোলা আবার পোলা থেকে স্পিকার, এই ঘটনাগুলোর কথা ভাবলে এখন হাসিই পায়।

আনন্দধারা : কোনো কিছু শুরু করতে হলে আর্থিক সাপোর্ট বেশি দরকার হয়, আপনি শুরুতে সেটা কীভাবে ম্যানেজ করলেন?

আয়মান সাদিক : অর্থনৈতিক বাধা নতুন কিছু শুরুর ক্ষেত্রে একটা বড় সীমাবদ্ধতা, এটা অস্বীকার করাটা অসম্ভব! সেজন্য আমি বলব, ছাত্রাবস্থা থেকেই উপার্জনের শুরু করাটা বেশ জরুরি। আমার কথা যদি বলি, আমি পড়াতে ভালোবাসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই স্টুডেন্ট পড়াতাম। এমনকি আমার রবি-টেন মিনিট স্কুলের একদম শুরুর দিকের ফান্ডিংয়ের খরচাটুকু পুরোটাই আমার উপার্জনের টাকা থেকেই করা। তাই সব শিক্ষার্থীর প্রতি পরামর্শ হলো, নিজেদের দক্ষতা আর আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে বের করো। সেটার পেছনে সময় আর শ্রম দাও। উপার্জন করা শুরু করো। স্বপ্ন দেখলেই হবে না। সেটাকে সত্যি করার জন্য কাঠখড়ও পোড়াতে হবে। নতুন কিছু করতে গেলে বাধা আসবে, সেটাকে জয় করার জন্য প্রস্তুতি নাও। শুভকামনা রইল তোমাদের সবার জন্য।

আনন্দধারা : বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আয়মান সাদিক : আমরা অনেকে না জেনে না বুঝে মুখস্থ করি। আমি এমন শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি, যেখানে সবাই বুঝে বুঝে পড়বে। পড়াশোনাটা কোনো ভীতি নয়, আনন্দের সঙ্গে হবে। আমি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি; যেখানে সবাই সিলেবাসের বাইরেও নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী হবে। আমি এমন শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি, যেখানে একজন ছাত্রকে সিজিপিএ নয়, বরং মেধা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। সবাই নিজেদের পছন্দের মতো বিষয় পড়বে, শিখবে।

আনন্দধারা : রবি-টেন মিনিট স্কুলের অর্জনগুলো জানতে চাই-

আয়মান সাদিক : সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অগাধ ভালোবাসা, সম্মান আর নির্ভরতা। এছাড়া ২০১৮ সালে আমরা পেলাম কুইন্স ইয়াং লিডার অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া ২০১৬ সালে লন্ডনে ফিউচার লিডারস লিগ চ্যাম্পিয়ান অ্যাওয়ার্ড পাই। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য টেন মিনিট স্কুল ‘সুইস অ্যামবাসি অ্যাওয়ার্ড’, ‘গ্লোমো অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হয়। আমরা পেয়েছি এপিক্টা অ্যাওয়ার্ড, যাকে আইসিটির অস্কার বলা হয়। আর জাতীয় পর্যায়ে আইসিটি পুরস্কার, ইয়োরথ অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও অর্ধশতাধিক সম্মাননা পেয়েছি।

আনন্দধারা : আপনাদের টিমে এখন কতজন মেম্বার রয়েছে?

আয়মান সাদিক : সব মিলিয়ে ৫৮ জনের বেশ বড় একটা টিম আমাদের। টিম না বলে পরিবারই বলা উচিত। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানে সবাই স্টুডেন্ট। গত তিন বছরে আমি চেষ্টা করেছি, সব ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়েদের কীভাবে একটা ছাদের নিচে আনা যায়। এ দিকটায় আমি সফল বলতেই হবে।

আনন্দধারা : আপনার সফলতার প্রধান তিনটি কারণ কী?

আয়মান সাদিক : আমাদের চারপাশে প্রায়ই দেখি, কেউ নতুন কিছু করতে চাইলে সবাই তার বিরোধিতা করে এবং সে যাতে বেশি দূর এগোতে না পারে, সেজন্য সবাই পেছন থেকে আঁকড়ে ধরে। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। আমি যখনই যাকে যা অনুরোধ করেছি, তার কাছ থেকে তা-ই পেয়েছি। মানুষের মাঝে বিশ্বাস দেখতে পাই। সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয় আমাকে বিশ্বাস করেছে, রবি আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমার টিম মেম্বাররা আমাকে বিশ্বাস করেছে। টেন মিনিট স্কুল বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা শুধু বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চালাচ্ছে। টেন মিনিট স্কুলের সফলতার সবচেয়ে বড় অংশীদার হচ্ছে এর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যখন যেটা করার জন্য অনুরোধ করেছি; তখন তারা সেটাই করেছে।

আনন্দধারা : আপনার কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?

আয়মান সাদিক : সফলতার মানে হচ্ছে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, মানুষকে নতুন কিছু শেখানো। মানুষকে হাসানো এবং মানুষের জীবনে মূল্য সংযোজন করার নামই হলো আমার কাছে সফলতা।

আনন্দধারা : বর্তমান তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ-

আয়মান সাদিক : পরে করব করতে করতে অনেকখানি সময় নষ্ট করা হয়েছে। তাই আজ থেকেই নিজের শখের কাজটা করার জন্য যা যা করা দরকার, করা শুরু করে দাও। মনে রেখো, Sometimes later becomes never. আর হ্যাঁ, হাল ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসো। অন্যদের দোষ না দিয়ে নিজের ওপর দোষ নেয়ার অভ্যাস করো। Stop complaining, start fixing and taking actions. ভাগ্যের ওপর কখনো দোষ দিও না, মানুষের দোষ-ত্রুটি নিয়ে কথা বলো না, আইডিয়া নিয়ে কথা বলো, সমস্যার সমাধান খোঁজো। তাহলে অনেকদূর এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ছবি : তানভীর হৃদয়

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup