ব্যালান্স করে চলার চেষ্টা করি- পূজা চেরি

নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নাম পূজা চেরি। নায়িকা হিসেবে ইতোমধ্যে ‘পোড়ামন ২’, ‘দহন’ ও ‘নূরজাহান’ নামের তিনটা ছবি মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটা ছবিতেই প্রশংসিত হয়েছেন এই নায়িকা। ‘পোড়ামন ২’ ছবিটা ব্যবসা সফলতার শীর্ষে অবস্থান করেছিল। বর্তমানে এই নায়িকা ব্যস্ত রয়েছেন ‘জিন’ নামের একটি ছবির শ্যুটিংয়ে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘শান’ নামের একটি ছবি। ছবিটিতে পূজা চেরির বিপরীতে রয়েছেন সিয়াম। আনন্দধারার সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের জীবনের অনেক কথা বলেছেন অকপটে।

আনন্দধারা : বর্তমানের নায়িকাদের মধ্যে সম্ভাবনাময় নায়িকার তালিকায় আপনার নাম যুক্ত হয়েছে।

পূজা চেরি : নায়িকা হিসেবে তো সবেমাত্র তিনটা সিনেমাতে অভিনয় করেছি। আরেকটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনটা ছবি দিয়ে তো আর সবকিছু বিবেচনা করা যায় না। তবে আমি শুধু আমার কাজটা করে যেতে চাই। ভালো-মন্দ বিচারের দায়িত্ব আমার না। তবে শতভাগ সৎ থাকি সবসময়। পোড়ামন ২, দহন, নূরজাহান ছবিতে অভিনয় করে অনেক মানুষের প্রশংসা পেয়েছি। তার মধ্যে আবার এমন কিছু মানুষও আছে, ভাবিনি তাদের কাছ থেকে এত প্রশংসা পাব।

আনন্দধারা : নায়িকা হিসেবে সিনেমায় কীভাবে অভিষেক হলো?

পূজা চেরি : প্রথমে শিশুশিল্পী হিসেবেই কাজ করতাম। এরপর যখন ‘নূরজাহান’ সিনেমাটা করলাম, তখন দেখেছি একজন নায়ক কিংবা নায়িকাকে কীভাবে অভিনয় দিয়ে সিনেমার গল্পটাকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। সেদিক থেকে তো আমার এ দুটি কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। যদিও এ বিষয়টা উপভোগ করি। আগে তো সবাই আমাকে একটি পরিষ্কারের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবেই চিনত। এখন আমাকে সিনেমার নায়িকা হিসেবে আলাদা করে চেনে। এখন তো এই কাজের জায়গাটাকে ধীরে ধীরে বয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আনন্দধারা : নায়িকা হিসেবে দ্বিতীয় ছবি ‘পোড়ামন ২’ ছবিতেই সাফল্য ছুঁয়ে গেল...

পূজা চেরি : আসলে আমি অভিনয় করতে চাই। নিজেকে একজন নায়িকা হিসেবে প্রেজেন্ট করতে চাই না। ভালো অভিনেত্রী হতে চাই। ভালো কাজ কিংবা অভিনয়ের জায়গা পেলে সে কাজটা তো করতেই চাই। সেখান থেকে বলব, যে সিনেমায় অভিনয় করব সেই সিনেমার গল্পটা ভালো হতে হবে।

আনন্দধারা : ‘পোড়ামন ২’ ছবিটিতে অভিনয়ের অফার পেলেন কীভাবে?

পূজা চেরি : প্রথমে একজন নায়িকা হিসেবে ‘পোড়ামন ২’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হই। কিন্তু সিনেমাটির প্রস্তুতির কারণে শ্যুটিং পিছিয়ে যায়। এর মধ্যেই আবার ‘নূরজাহান’-এর কাজ শেষে মুক্তিও পেয়ে যায়। একদিন আজিজ ভাই (আবদুল আজিজ) আমাকে ফোন দিয়ে বলল, ‘তুই কোথায়? অফিসে চলে আয়।’ আমি বললাম, ‘আমি তো গ্রামের বাড়িতে।’ তার কয়েকদিন পর তার অফিসে গেলাম। আমাকে গল্প শোনাল, তখন ছবির পরিচালক রাফি ভাইও (রায়হান রাফি) ছিল। গল্প শোনার পর কিছুক্ষণ ‘থ’ হয়ে ছিলাম, এত সুন্দর একটা গল্প! তারপরের ঘটনাটা তো সবাই জানেন।

আনন্দধারা : জীবনে কোনো তারকাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন?

পূজা চেরি : সুচিত্রা সেনের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তার চোখের অ্যাক্টিং আমাকে মুগ্ধ করে। তার মতো করে অভিনয় করার চেষ্টা করি, কিন্তু হয় না। যখন সময় পাই, তখনই তার কোনো না কোনো সিনেমা আমি দেখি। তাকে অনুসরণ করি।

আনন্দধারা : আপনি ভালো অনুকরণ করেন। সবচেয়ে ভালো কাকে অনুকরণ করতে পারেন?

পূজা চেরি : সিয়াম ও আজিজ ভাই- দুজনকেই অনুকরণ করতে পারি। তবে বেশি পারি সিয়ামকে। সিয়ামের সঙ্গে আমার কিন্তু সবসময় কোনো না কোনো খুনসুটি লেগেই থাকে। আমরা ৫৭ দিন শ্যুটিং করেছি ‘পোড়ামন ২’ ছবির। এই সময় আমাদের কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে খুনসুটি লেগেই থাকত।

আনন্দধারা : ব্যক্তিগত জীবনে পূজা ঠিক কেমন?

পূজা চেরি : শিশুশিল্পী হিসেবে আগে কাজ করতাম। এরপর আমাকে নায়িকা বানানোর চ্যালেঞ্জটা কিন্তু আজিজ ভাই নিয়েছেন। এরপর তো সময়ের অনুষঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। ব্যক্তিগত বিষয়গুলো একটু আলাদাই থাক না।

আনন্দধারা : অবসরে কী করেন, সিনেমা দেখা হয় নিয়মিত?

পূজা চেরি : গান শোনা, মুভি দেখা কিংবা টিভিতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম দেখি। বেশি শোনা হয় গান। সব ধরনের গানই কিন্তু শুনি। শুধু নির্দিষ্ট কারো গান শুনি না। সুচিত্রা সেনের সিনেমা বেশি দেখা হয়।

আনন্দধারা : পেছন ফিরে তাকালে এখন কী মনে হয়?

পূজা চেরি : সবদিক থেকেই ব্যালান্স করে চলার চেষ্টা করি। কারণ আমি জানি, আমি কোথায় গিয়ে থামতে চাই। প্রত্যেকটা মানুষেরই আলাদা একটা ভিশন থাকে। আমারও আছে, যার কারণে সে রকম কিছু ঘটার সুযোগ কখনোই দিইনি। ওপরে ওঠার সিঁড়িটাতে হুট করেই শেষ ধাপে চলে যেতে চাই না। একটু একটু করে এগোতে চাই।

আনন্দধারা : পথ চলতে গিয়ে কখনো বঞ্চনার শিকার হয়েছেন?

পূজা চেরি : সে রকম কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি। পেশাদারিত্বের এই সময়ে বিষয়গুলো এভাবে দেখার সুযোগ নেই। সময় তো এখন অনেক এগিয়ে গেছে। যেহেতু একজন পেশাদার অভিনেত্রী আমি, যার কারণে সে জায়গাটা মেইনটেইন করেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যদি কখনো ওই ধরনের ঘটনা ঘটে, সেগুলো একপাশে রেখে পথ চলব। জীবনটাকে ভীষণ পজিটিভলি দেখি।

আনন্দধারা : সিনেমার মানুষেরা কী বাণিজ্যিকভাবে আপনাকে ভরসার মনে করে?

পূজা চেরি : যখন মানুষ প্রথম কাজ করে, এরপর নিজেকে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে সমৃদ্ধ করে। আমার কাছে কাজের জায়গাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। একটু একটু করে তাদের ভালোবাসা পাচ্ছি। একদিন হয়তো তাদের ভরসার জায়গায় চলে যাব।

আনন্দধারা : বর্তমানে কোন ছবির শ্যুটিং করছেন?

পূজা চেরি : বর্তমানে ‘জিন’ নামের একটি ছবির শ্যুটিং করছি। এই ছবিতে আমার বিপরীতে আছেন সজল ভাই। এই সজল ভাইয়ের নাটক দেখে দেখে বড় হয়েছি, সেই সজল ভাই পর্দায় এবার আমার নায়ক। ছবিটি নাদের চৌধুরী পরিচালনা করছেন। ভৌতিক গল্পের ছবি এটি। দর্শকরা দারুণ মজা পাবেন ছবিটার গল্পে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup