‘মনের কথাগুলোই শুধু বলেছি’- মেহজাবিন চৌধুরী

টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ মেহজাবিন চৌধুরী। অভিনয়ে মুগ্ধ করে রেখেছেন দর্শকদের। বেশ অনেকগুলো দর্শকপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন। আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেনের সঙ্গে অকপটে বলেছেন মিডিয়া নিয়ে তার ব্যক্তিগত ভাবনা, নারী অধিকার, বিয়ে, সিনেমায় অভিনয়সহ অনেক কিছু। তারই অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য

রাফি হোসেন : মেহজাবিন প্রথমেই তোমার কাছে জানতে চাই, তোমার প্রজন্মের যারা আছে, কাজ করছে তাদের বাংলাদেশি মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ কম। এটা কি সত্য?

মেহজাবিন চৌধুরী : মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ কম থাকলে তো আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না। কলকাতায় কাজ করতাম।

রাফি হোসেন : আসলে বোঝাতে চাচ্ছি মিডিয়ার প্রতি এই দেশের ছেলে-মেয়েদের আগ্রহের জায়গাটা কম। তোমার মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ জন্মাল কীভাবে?

মেহজাবিন : যখন ছোট ছিলাম, তখন খেলাধুলায় বেশ ভালো ছিলাম। স্কুলে যখন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো, স্টেডিয়ামের পর্দায় আমাকে দেখানো হতো। অনেক ভালো লাগত, সবসময় চাইতাম ক্যামেরা এবং লাইটের সামনে থাকতে। যাদেরকে এখন দেখি, তারাও মিডিয়ায় আসতে আগ্রহী। অনেকে বলে আপু আপনার সঙ্গে একটা রোল করার সুযোগ করে দিন। আমার মনে হয় আমাদের দেশ ছোট হলেও দেশের জনসংখ্যা যেহেতু অনেক বেশি, তাই এখানে রিয়েলিটি শো বেশি হওয়া উচিত, সবাই তারকা হতে চায়।

রাফি হোসেন : তোমার ব্যাকগ্রাউন্ডে পরিচিত এমন কাউকে পেয়েছ, যারা মিডিয়ায় ভালো কাজ করছে?

মেহজাবিন : আমার যারা বন্ধু, সবাই দেশের বাইরে থাকে।

রাফি হোসেন : আমাদের এখানে শোবিজে তরুণদের দেখে বুঝতে পারি, দেশের চেয়ে বাইরের দেশের মিডিয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি।

মেহজাবিন : একেকজনের পছন্দ একেকরকম। কেউ যদি খুব বেশি মেধাবীও না হয়, তারপরও সে মনে করে মিডিয়ায় কাজ করব, ক্যামেরার সামনে যাব। তারা পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজ ফেলেই এদিকে মনোযোগ দিচ্ছে। যেমন আমার ছোট বোন ফেসবুকে ছবি আপলোড করে, তখন সবাই মন্তব্য করে তুমি কখন আসবে। এখন নিজেকে তুলে ধরার মাধ্যম অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন মেধাবী কেউ যদি বলে কাজ করার জন্য মাধ্যম পাচ্ছি না। আমি মনে করি সেটা ভুল বলছে। কেউ যদি সত্যিকারের একজন শিল্পী হতে চাই, তাহলে তার শিল্পকে তুলে ধরার জন্য এখন অনেক মাধ্যম রয়েছে। তার কাজ যদি ভালো হয়, তাহলে সবাই তাকে অবশ্যই গ্রহণ করবে। এখন কে কীভাবে বিষয়গুলো দেখবে, সেটা তার ব্যাপার। পশ্চিমা সংস্কৃতি বরাবরই আমাদের আগ্রহের বিষয়। এখন আমাকে যদি কেউ বলে, তুমি দেশেই থাকবে নাকি ভালো অন্য কোনো দেশে চলে যাবে। অবশ্যই আমি দেশে থাকব।

রাফি হোসেন : আমাদের পাঠকদের জন্যও বড় একটা বার্তা চাইলেই দেশে থেকেও অনেক ভালো কিছু করা যায়, ভালো থাকা যায়। সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে মডেলিং পরবর্তী সময়ে তোমার অভিনয়ে আসা।

 মেহজাবিন : যখন দেশের বাইরে ছিলাম, তখন স্থানীয় বিভিন্ন দলগুলো ফটোশ্যুটের জন্য ডাকত। দেশে আসার পর আস্তে আস্তে পুরোপুরি অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লাম।

রাফি হোসেন : একটু আগেই তোমার বোনের কথা বললে। আমরা এ রকম দেখতে পাই, একজন মিডিয়ায় থাকলে পরিবারের অন্যদের মিডিয়ার জন্য অত বেশি আগ্রহী হয় না। তোমার ক্ষেত্রে সেটা কেমন?

মেহজাবিন : কাজটা সব থেকে ভালোভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করা গেলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বড় বোন হিসেবে তাকে এটাই বলব। আমার ছোট ভাই সুন্দর নকশা আঁকতে পারে। আমি তাকে বলি এটা নিয়েই ভালো কিছু কর।

রাফি হোসেন : সিনেমায় অভিনয়ের প্রতি তোমার আগ্রহ নেই?

মেহজাবিন : এই মুহূর্তে নেই। বর্তমানে যে ছবিগুলো দেখছি, আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় এগুলো বেশি নায়ক প্রধান। যে ধরনের কাজ করতে চাই, সেগুলো নায়ক প্রধান, সেখানে আমার না থাকলেও চলবে।

রাফি হোসেন : আমাদের সমাজে নারীদের সফলতার অনেক উদাহরণ আছে। এমনকি তোমাকে দিয়েও তো এর পরিবর্তন হতে পারে। তোমার জন্য এটা আরো সহজ, কারণ নতুন হলে নির্মাতারা ভাবত। তোমার চিন্তার মাঝে একটা স্বচ্ছতা দেখতে পাচ্ছি। তুমি যা কিছু করতে চাও, এই বিষয়ের স্বচ্ছতা কি তোমার পরিবারের কাছ থেকে পাও?

মেহজাবিন : স্বচ্ছতা তখনই আসে, যখন যে কাজটা আপনি করতে চাইবেন সেটার প্রতি আপনার একটা আত্মবিশ্বাস থাকবে। আর পরিবারের সমর্থন সবচেয়ে বড় বিষয়। আজকে যতটুকু কাজ করতে পেরেছি, আমার পরিবারের সহযোগিতা না থাকলে আমি হয়তো এর ৫০ শতাংশও করতে পারতাম না। বাংলাদেশের মানুষের পজেটিভ চিন্তাগুলো এখন আস্তে আস্তে বাড়ছে। কিন্তু এটা আরো ১০ বছর আগে হওয়া উচিত ছিল।

রাফি হোসেন : আমাদের এত সময় লাগছে কেন?

মেহজাবিন : আমাদের সমাজে যখন আমরা বড় হই, তখন আমাদের কিছু বিষয় শিখিয়ে দেয়া হয়। জীবনে সফল হতে হলে এগুলো মেনে চলতে হবে, না হলে হবে না। একজন মেয়ে যখন ভালো কিছু ভিন্ন কিছু করে, তখন পুরুষরা সেটাকে ভালোভাবে নেয় না। তারা বিভিন্নভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী, স্পিকার আরো যারা আছে সবাই মেয়ে। সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ফলে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমাদের চিন্তাভাবনা বড় করতে হবে। চিন্তাভাবনার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। কিছু হলেই আমরা এখন ফেসবুকে অনেক ধরনের কথা বলা শুরু করে ফেলি। আমার মনে হয় যখন এই বিষয়গুলো কমে আসবে, তখনই আমরা সামাজিকভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

রাফি হোসেন : দীর্ঘ নয় বছর ধরে কাজ করছ, একজন মেয়ে হিসেবে কি কোনো বাধার মুখোমুখি হয়েছ?

মেহজাবিন : সর্বপ্রথম কথা বলতে হবে। আমাদের মেয়েদের একটা দুর্বলতা থাকে যে, এটার বাইরে গেলে দোষটা কোনোভাবে মেয়েদের দেয়া হয়। বলা হয় তুমি সেখানে কেন গিয়েছিলে? এখন একটা ভালো জায়গায় আছি, কোনো ভয় ছাড়াই রাত ৩টায় আমি রাস্তায় হাঁটতে পারব। কিন্তু রাত ৩টায় কেন, দিনের বেলায়ও না। দিনের আলোতেও পাবলিক বাসে নিরাপদ না। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে, এই সবকিছুর পেছনেই কিন্তু পুরুষ দায়ী। তাদের চিন্তাভাবনা, তাদের কাজকর্ম এগুলোর পরিবর্তন করতে হবে।

রাফি হোসেন : কী করলে এসবের পরিবর্তন আসবে?

মেহজাবিন : সমস্যাটার তখনই সমাধান হবে, যখন চোখের সামনে এটার একটা ফলাফল আসবে। সাধারণ মানুষ যখন এটার প্রতিবাদ করবে। একজন মানুষের ভুল থেকে আরেকজন শিখবে। সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি একটা কিছু ঘটার পর বিষয়টা এত লম্বা হয়ে যায়, সবাই সেটা ভুলে যাই। ততদিনে এ রকম আরো কিছু ঘটে যায়। দু’দিন ফেসবুকে অনেক স্ট্যাটাস দিই, তারপর ভুলে যাই। কিন্তু আমাদের উচিত এটার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।

রাফি হোসেন : এসব নিয়ে কী কাজ করতে চাও?

মেহজাবিন : অবশ্যই করতে চাই। ‘হাসি ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থা আছে, যেখানে শিশু এবং মেয়েদের নিয়ে কাজ করছি। কোনো মেয়ে যদি এই রকম পরিস্থিতির শিকার হয়, তাহলে তাকে সবদিক থেকে আমরা সহায়তা করি।

রাফি হোসেন : তোমার কি কখনো পরিচালনা করতে ইচ্ছে করে?

মেহজাবিন : আমার আশপাশে অনেক ধরনের গল্প দেখছি, মানুষ দেখছি। কোথাও না কোথাও থেকে গল্প চলে আসে। তাই এটা হতেই পারে।

রাফি হোসেন : হতে পারে এক জিনিস আর ইচ্ছে আছে এক জিনিস।

মেহজাবিন : একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার মনে হয় এখন পর্যন্ত খুব বেশি কিছু অর্জন করিনি। এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি। দেখা যাক কতটুকু অর্জন করতে পারি।

রাফি হোসেন : ক্যামেরার সামনে নারীদের যতটুকু দেখছি পেছনে কিন্তু সেভাবে পাই না। এটার কারণ কী?

মেহজাবিন : এখন কেন আসছে না সেটা জানি না। কিন্তু সবার জন্যই এখন সুযোগটা বেশি। তাদের লক্ষ্যে স্থির করা উচিত যে আমি কাজটা করতে চাই। পেশাদারভাবে একজন পরিচালক হবে, সেক্ষেত্রে পরিবার থেকেও একটা বাধার সম্মুখীন তারা হয়। একটা ছেলের কথাই যদি বলি, বিয়ে করার সময় যখন জানতে চাই ছেলে কী করে? ছেলে পরিচালক, তখন মেয়ে পক্ষ বলে আর কী করে? এখন কথা হলো সে পরিচালক মানে সে পরিচালক আর কী করবে। এখানে ছেলেদেরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মেয়েদের কী অবস্থা হবে ভাবুন? আমি বললাম না, আমাদের চিন্তাভাবনাগুলো বড় করতে হবে। আমাদের ভাবা উচিত, আমাদের সমাজে এই কাজগুলো হতে পারে।

রাফি হোসেন : তুমি কি একজন নারীবাদী?

মেহজাবিন : আমরা সবাই জানি কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল। নিজেকে কোনো নাম দিতে চাই না। সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকি। সেটা একটা ছেলের সঙ্গে অন্যায় হলেও প্রতিবাদ করব।

রাফি হোসেন : মিডিয়ায় যারা কাজ করে, তাদের নিয়ে মানুষ বিভিন্ন রকমের কথা বলে। এই বিষয়টা নিয়ে তুমি কী মনে কর?

মেহজাবিন : এসব কথা যারা বলে, তাদের আগে বুঝতে হবে। মিডিয়ায় কাজ করা অনেক কষ্টের। এরা মানুষদের বিনোদন দিচ্ছে, সর্বপ্রথম তাদের সম্মান করা উচিত। কারণ দিন শেষে বাসায় গিয়ে তারাও কিছু বিনোদন পেতে চায়। মানুষকে বিনোদন দেয়ার চেয়ে চ্যালেঞ্জিং আর কিছুই হতে পারে না। একজন অভিনেতাকে প্রতিদিন নতুন চরিত্রে কাজ করতে হয়। এখন পর্যন্ত কতগুলো চরিত্রে কাজ করেছি, নিজেও বলতে পারব না। হলিউডের কোনো বড় অভিনেতা একেক সিনেমায় তারা একেক চরিত্রে কাজ করেন। আবার আমি যদি আমার নাটকের কথা বলি, যেহেতু অনেক নাটক করেছি। আমাকে প্রতি নাটকে ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। তাই সেটা ভালো হোক বা খারাপ হোক চরিত্রগুলো করেছি। এখন পর্যন্ত দুই-তিনশত নাটক করেছি কিন্তু হলিউডের কি কোনো মহিলা তারকা আছে যে দুই-তিনশত চরিত্রে কাজ করেছে?

রাফি হোসেন : এটা তোমার অনেক বড় অর্জন।

মেহজাবিন : এটা শুধু আমার অর্জন না, বাংলাদেশের নাটকের অর্জন। একজন শিল্পী প্রতিদিন আলাদা কিছু করার চেষ্টা করছে। কিন্তু হলিউডের কেউ এত কাজ করেনি। কিন্তু তারাও পেশাদার অভিনেত্রী। আমরা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের নাটকগুলো দু’দিনেই শ্যুটিং করে শেষ করে দিচ্ছি। চারদিন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো বাজেট আমাদের নেই। সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। যে মানুষগুলো দুই থেকে তিনদিন পরপর নিজেদের চরিত্রকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করছে, তাদের চেয়ে স্মার্ট এবং সৃজনশীল মানুষ আর কেউ হতে পারে না।

রাফি হোসেন : তুমি ভালো একটা অবস্থানে আছো। যখন একটা ভালো কাজ করো, ভক্তদের কাছে থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পাও?

মেহজাবিন : ভক্তরা আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। পরিবারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। তারা আমাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। তারা আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখছি বা আমি বুঝতে পারছি এখন আমার এটা করা উচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদেরও পরিবর্তন করা উচিত। কিছুদিন পর হয়তো রোবট আসবে। তাই আমাকে রোবটের ব্যবহারও শিখতে হবে।

রাফি হোসেন : রোবট এলে রোবটের সঙ্গে অভিনয় করবে?

মেহজাবিন : মানুষের ওপর দিয়ে তো আর কিছু নেই।

রাফি হোসেন : তোমার সামনের পরিকল্পনা কী?

মেহজাবিন : বর্তমানে কোনো পরিকল্পনা নেই। আমার সামনে যদি ভালো কোনো কিছু আসে, তাহলে আমি সেটা করব, সেটা নাটক বা সিনেমা যেটাই হোক।

রাফি হোসেন : বিয়ের পর অনেকে কাজ বাদ দিয়ে দিয়েছে।

মেহজাবিন : সেটা ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু আমার কাজ চালিয়ে যেতে চাই।

রাফি হোসেন : তুমি এমন একজনকে বেছে নিতে চাও যে তোমার কাজ সম্পর্কে বুঝবে?

মেহজাবিন : এমন একজন বাছতে চাই যে আমাকে বুঝবে। যে আমার কাজকে সম্মান করবে। সবকিছু মিলিয়ে যেন আমাদের বোঝাপড়াটা ঠিক থাকে।

রাফি হোসেন : তোমার পাঠক-ভক্তদের জন্য কিছু বলতে পারো?

মেহজাবিন : এখানে আজকে অনেক কথাই বলেছি। আপনারা কেউ এগুলো নেতিবাচকভাবে নেবেন না। মনের কথাগুলোই শুধু বলেছি। অনেক সময় কথাগুলো মনের মধ্যে রেখে দিই। কিন্তু এগুলো আমাদের বলা উচিত বলে মনে করি।

অনুলিখন : রওনাক ফেরদৌস

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup