ডায়াবেটিস ও খাওয়া-দাওয়া

খাদ্যাভ্যাস এবং লাইফস্টাইলের অনিয়ম বিভিন্ন অসুখের সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিস এখন ঘরে ঘরে। আর এটি চিন্তারও কারণ।  যে কোনো বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে। ওজন ঠিক রাখার পাশাপাশি ভুঁড়ি বাড়তে না দেয়াই হলো ডায়াবেটিসকে দূরে রাখার উপায়। তাই প্রয়োজন ‘লো’ ফ্যাট, হাই নিউট্রিয়েন্টস ও মডারেট ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং মন ভালো রাখা।

ডায়েটে কী রাখবেন-

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন ময়দা, চাল, পাউরুটি ইত্যাদি প্রতিদিনের ডায়েট থেকে বাদ দিন। পরিবর্তে বেশি ফাইবারযুক্ত কার্বোহাইড্রেট যেমন ভুসিযুক্ত আটার রুটি, ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা ব্রাউন রাইস, কর্নফ্লেক্সের পরিবর্তে ব্র্যানফ্লেক্স।

চিনিযুক্ত ব্রেকফার্স্ট সিরিয়ালের পবিরর্তে হাইফাইবার ব্রেকফার্স্ট সিরিয়াল, ইনস্ট্যান্ট ওটমিলের বদলে রোলড ওটস বা স্টিল কাট ওটস বেছি নিন। ব্রাউন ব্রেড বা ব্রাউন রাইসের ক্ষেত্রে দেখে নেবেন সত্যিই খাঁটি জিনিসটা কিনেছেন কিনা।

আলু ভাজা ভালো লাগলেও বাদ দিতে হবে। বরং স্কোয়াশ, ফুলকপি খেলে ভালো, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর হাইফাইবার কার্বোহাইড্রেট যেহেতু অনেকটা সময় নিয়ে হজম হয়, তাই শরীরে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।

মিষ্টি খেতে যারা ভালোবাসেন, তাদের ডায়াবেটিস হলে একটু সমস্যা হয়। তবে ডায়াবেটিস হলে যে মিষ্টি একেবারে বাদ তা কিন্তু নয়। মাঝে মধ্যে একটা ছোট সন্দেশ বা রস চিপে রসগোল্লা, দু-এক চামচ পুডিং, কাস্টার্ড বা আইসক্রিম খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু টোটাল ক্যালরি ইনটেক খেয়াল রাখতে হবে। আর যেদিন মিষ্টি খাবেন, ১৫ মিনিট বেশি হাঁটবেন।

ফ্যাট বা তেল জাতীয় খাবার খেতে হবে হিসাব করে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্র্যান্স ফ্যাট ডায়াবেটিসসহ কারো জন্যই উপকারী নয়। এগুলোর মধ্যে আছে বনস্পতি, লিকুইড ভেজিটেবল অয়েল, হোল মিল্ক, রেড মিট ইত্যাদি। এগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। শরীরের নানা সমস্যার জন্যও এ ধরনের খাবার দায়ী। আবার অন্যদিকে অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, ফ্ল্যাক্স সিড, বাদাম, অ্যাভোকাডো স্কিমড মিল্ক, দই ইত্যাদি এগুলো খেতে পারেন।

উচ্চমাত্রায় ফাইবারযুক্ত সবজি যেমন বিন, ব্রকোলি, পাতাওয়ালা সবজি ইত্যাদি রাখুন ডায়েটে। ডাল জাতীয় খাবারও রাখতে পারেন। এগুলো প্রতিটিই ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ভালো। উচ্চ ফাইবারযুক্ত ফল যেমন- পেঁপে, কমলা, আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা ইত্যাদি খান। কলা, আম বা আঙুরের মতো ফলে ক্যালরি বেশি থাকে। তাই এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খাবেন। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে বেশিমাত্রায় ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি। ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম আর পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকতে হবে।

এছাড়া ব্রেন এবং হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। টুনা মাছ, স্যামন মাছসহ যেকোনো সামুদ্রিক মাছ, ফ্ল্যাক্স সিড ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই প্রতিদিনের খাবারে যেকোনো একটি থাকলে ভালো। বেশি ওজন ডায়াবেটিসের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। ওজন স্বাভাবিক রেখে সুস্থ থাকুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup