মানুষ প্রেমে পড়বে এটাই স্বাভাবিক -তাসনিয়া ফারিন

বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে প্রিয় মুখ অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন। যিনি সমানতালে নাটক, টেলিফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। আনন্দধারার এবারের আয়োজনে তরুণ শিল্পীদের নিয়ে সাজানো ১০ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন মিষ্টি হাসির এ অভিনেত্রী। 

আনন্দধারা : এমন কি কখনো হয় যে অভিনয় করতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েন?

তাসনিয়া ফারিন : অভিনয় আমার প্রাণের জায়গা, তাই সব সময় স্বাচ্ছন্দ্যভাবে অভিনয় করার চেষ্টা করি। কিন্তু যখন কোনো সিনিয়র শিল্পী থাকেন, তখন আমার মধ্যে একটু নার্ভাসনেস কাজ করে। বিশেষ করে সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিক আনাম খানদের মতো সিনিয়র গুণী শিল্পীরা যখন সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেন, তখন এই নার্ভাসনেস কাজ করে। আমার দ্বিতীয় নাটকে আমার সহশিল্পী হিসেবে আমি দু’জনকে পেয়েছি। তখন তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা নিয়ে আমি প্রায় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

আনন্দধারা : কারো প্রেমে পড়েছেন?

তাসনিয়া ফারিন : মানুষ প্রেমে পড়বে এটাই স্বাভাবিক, আমিও পড়ি। কিন্তু আমার প্রেম হচ্ছে আমার কাজকে ঘিরেই। এছাড়া গল্প, কবিতা, সংস্কৃতি সবকিছুই আমার ভালো লাগে এবং আমি এগুলোর প্রেমে পড়ে যাই। বাবা-মায়ের প্রেমে পড়ার পাশাপাশি নানান মানুষ সবার মাঝে আমি প্রেম খুঁজে বেড়াই।

আনন্দধারা : কোন অভিনয় শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন?

তাসনিয়া ফারিন : দেশ ও দেশের বাইরে আমার অনেক প্রিয় অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। যাদের অভিনয় দেখে আমি মুগ্ধ হই। নিজেকে তাদের মতো করে তৈরি করার চেষ্টা করি। তবে দেশের বাইরে বলতে গেলে হলিউডে আমার দুই প্রিয় অভিনয়শিল্পী রয়েছেন একজন হলেন ড্যানিয়েল ক্রেগ এবং অন্যজন হলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। আমি তাদের সঙ্গে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখি।

আনন্দধারা : আপনার হাতে যদি আর মাত্র এক বছর সময় থাকে, তাহলে এই এক বছর কীভাবে কাটাতে চান?

তাসনিয়া ফারিন : ভ্রমণ আমার খুব প্রিয়। আমার হাতে যদি এক বছর সময় থাকে, তাহলে আমি আমার সঙ্গে আর একজন মানুষকে নেব, যারও এ রকম এক বছর সময় আছে। পরে দু’জনে মিলে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াব।

আনন্দধারা : আপনার গুণের কথা যদি জানতে চাই?

তাসনিয়া ফারিন : আমার গুণ বলতে তেমন কিছু নেই। তবে আমি খুবই দূরদর্শী, চিন্তাশীল, যেকোনো বিষয় কিংবা মানুষদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করি। আমি খুবই মিষ্টভাষী এবং হেসে কথা বলতে পছন্দ করি।

আনন্দধারা : গুণের পাশাপাশি আপনার দোষ কী কী?

তাসনিয়া ফারিন : আমি খুবই অলস। আমার দূরদর্শিতায় অনেক সময় বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। খুব ঘুমাই এবং আমি শর্ট টেম্পার্ড।

আনন্দধারা : ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

তাসনিয়া ফারিন : অভিনয় কিংবা গান যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন ১০ বছর পর আমি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের একজন শিল্পী হিসেবে দেখতে চাই এবং সেভাবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

আনন্দধারা : অভিনয়ের এ জার্নিতে কোনো মজার ঘটনা?

তাসনিয়া ফারিন : অনেক মজার ঘটনা রয়েছে। একবার মাশরাফি বিন মর্তুজা ভাইয়ের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনের শ্যুটিং করছিলাম। বিজ্ঞাপনে আমার চরিত্র ছিল যে, আমি ওনার ভক্ত, কিন্তু বাস্তবেও আমি উনার ভক্ত। অভিনয় করতে গিয়ে আমাকে কখনোই অভিনয় করতে হয়নি। আমি বাস্তবে যেমন এক্সাইটেড ছিলাম, ক্যামেরার সামনে ঠিক একই রকম ছিলাম। এ বিষয়টা আনমনে ভাবলে এখনো মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই।

আনন্দধারা : কোন জিনিসটা ছাড়া আপনার চলে না, অর্থাৎ নিজের সঙ্গে সবসময় রাখতে হয় কোন জিনিসটা?

তাসনিয়া ফারিন : আমার সঙ্গে সব সময় মোবাইল রাখতে হয়। মোবাইল ছাড়া আমি চলতে পারি না।

আনন্দধারা : আপনি কি ফ্যাশন সচেতন? আপনার কাছে ফ্যাশন মানে কী?

তাসনিয়া ফারিন : আমি ফ্যাশন নিয়ে চিন্তা করি না। আমার কাছে যেটা কমফোর্টেবল সেটাই ফ্যাশন। আমি খুব সিম্পল থাকতে পছন্দ করি। সব সময় সেজেগুঁজে থাকতে হবে সেই ফর্মুলায় আমি বিশ্বাস করি না। আমার কাছে আমার স্টাইলই আমার ফ্যাশন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup