রূপচাঁদা স্বাস্থ্য ফিচার : পনিরের পুষ্টিগুণ

সুস্বাদু খাবার হিসেবে পনিরের নাম উল্লেখযোগ্য। যারা সবজি বেশি খান তাদের খাবারে পনির নানাভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেকে সকালের নাশতায় এক স্লাইস পনির খেতে চান। পনির দিয়ে রান্নার আইটেমও অনেক, মটর পনির, পালং পনির, পনির টিক্কা লোভনীয় সব খাবারের নাম। আর খেতে সুস্বাদু এই পনিরের পুষ্টিগুণ তো অনেক।

পনিরের মূল উপাদান দুধ আর এতে প্রচুর মিল্ক প্রোটিন উপস্থিত। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে প্রোটিন। নিরামিষভোজীদের জন্য তাই পনির বিশেষভাবে উপকারী। কারণ তারা মাছ-মাংসের মতো অন্যান্য প্রোটিনযুক্ত খাবার খান না। পনিরের প্রোটিনের আরেকটি গুণ হচ্ছে এটি শরীরে খুব ধীরে ধীরে এনার্জি রিলিজ করে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পনিরে কার্বোহাইড্রেট থাকে অতি অল্প। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পক্ষেও পনির খাওয়া নিরাপদ। ইনসুলিন উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পনিরে আছে উচ্চমানের ক্যালশিয়াম।

ক্যালসিয়াম হাড়, দাঁত ও কার্টিলেজকে মজবুত করতে সাহায্য করে। পনিরের ভিটামিন ‘বি’ শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সহায়তা করে। তাই বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক বা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পনির খাওয়া উপকার। পনির খেলে ওজন বাড়বে এ ধরনের চিন্তাও অনেকের আছে, তবে ওজন কমাতেও ডায়েট চার্টে পনিরের উপস্থিতি লক্ষণীয়। পনিরের কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করার পাশাপাশি ফ্যাটকে দ্রুত গলিয়ে ফেলে।

পনিরে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, যা আমাদের শরীরে ক্যাটলিস্টের কাজ করে। নানা প্রয়োজনীয় এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এছাড়াও ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ু, পেশি সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হার্ট ভালো রাখে। পনিরের পটাশিয়াম সঠিক ফ্লুইড ব্যালান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পনির রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তনালীকে অতিরিক্ত সঙ্কুচিত হতে দেয় না। স্ট্রেস কমাতে ভালো কাজ করে পনির। পনিরে থাকা জিংক পেশি, মস্তিষ্ক, হাড়, কিডনিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অর্গানকে সুস্থ রাখে। হজম শক্তিও বাড়িয়ে তোলে জিংক। পনিরের নানা পুষ্টিগুণ তাই খাবারের মেন্যুতে প্রতিদিন সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে অবশ্যই রাখুন। সুস্থ থাকুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup