আমি নকল হতে চাই না : অপূর্ব

টেলিভিশন বা নাটকের দর্শকদের সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতার নাম জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তিনি দীর্ঘ এক যুগ ধরে কাজ করছেন শোবিজে। নিজের কাজ দিয়ে ছুঁয়েছেন দর্শকের ভালোবাসার আকাশ। তিনি ১৯৮৫ সালের ২৭ জুন ঢাকাতেই জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ফিরোজা আহমেদ রাজশাহী বেতারের শিল্পী ছিলেন। সেই সুবাদে ছোটবেলা থেকেই শোবিজের সঙ্গে বসবাস। ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুকস’ অনুষ্ঠানে মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাতি অর্জন করেন। সেই থেকেই পথচলা শুরু। ছোট পর্দায় গুণী নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। তবে ২০০৬ সালে গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় নাটকে পা রাখেন। সেই নাটকের নাম ছিল ‘বৈবাহিক’। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন অপূর্ব। ২০১৫ সালে আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেননি অপূর্ব।

 

রাফি হোসেন : ওয়েব সিরিজ কী?

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব : টেলিভিশনের জন্য কম বাজেটের যে কাজ করা হয়, সেটার নাম হচ্ছে টেলিফিল্ম। ওয়েবের জন্য ওই টেলিফিল্মটাই করা হচ্ছে কিন্তু তখন নাম হয়ে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম বা ওয়েব সিরিজ। কাঠামোও পরিবর্তন হচ্ছে আবার নামেও পরিবর্তন হচ্ছে।

রাফি হোসেন : দর্শক কি এখন ওয়েবের দিকে বেশি ঝুঁকছে?

অপূর্ব : মানুষ এখন ওয়েবের দিকেই বেশি যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পছন্দ করি। এক সময় মানুষ রেডিওতে নাটক শুনত, মঞ্চে গিয়ে নাটক দেখত, এরপর যখন টেলিভিশন এলো, তখন মানুষ টেলিভিশনে নাটক দেখা শুরু করল। আর রেডিওর জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করল। এসবের মূল কারণ প্রযুক্তি। যখন যে প্রযুক্তি আমাদের কাছে আসে আমরা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি। না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।

রাফি হোসেন : টেলিভিশনের দর্শক হারাচ্ছে; তারা এখন টেলিভিশনের পরিবর্তে ‘ইউটিউব’ দেখতে পছন্দ করে। কেন এমন ঘটছে বলে তুমি মনে করো?

অপূর্ব : এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত এখন একটি নাটকের সঙ্গে প্যাকেজ বিজ্ঞাপন আসে। দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, যা দর্শকদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এ কারণে অনেকে টেলিভিশনে নাটক না দেখে ইউটিউবে দেখছে। কারণ ওখানে এই ঝামেলা নেই। আবার এসব বিজ্ঞাপন দর্শকের মনোজগতেও ব্যাঘাত ঘটায়। যেমন কেউ একটি দৃশ্য খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। হঠাৎ করেই সেখানে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হলো। এটা কিন্তু একজন দর্শকের মনে এক ধরনের অযাচিত বাধা সৃষ্টি করে। তবে ভালো কাজ হলে কিন্তু দর্শক ঠিকই দেখছে। আমাদের দর্শক আমাদেরই আছে। আমরা অনেক সময় তাদের দূরে সরিয়ে রাখি। আমি আগেও বলেছি, ভালো কাজ মানুষ দলবেঁধে দেখে, ভালো কাজে সাফল্য আসবেই। আবার এখনকার বেশিরভাগ নাটক একই ধরনের গল্পের হয়ে যাচ্ছে। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক নাটক বানাতে চাই। কিন্তু যে কোনো গল্প নিয়ে নাটক বানাতে পারছি না। কারণ আমাদের অনেক কিছু ভেবে তারপর একটি নাটক বানাতে হয়। তা না হলে সেন্সর বোর্ডে কাজটি আটকে যেতে পারে।

রাফি হোসেন : তাহলে ওয়েব নাটক বানানোর সময় তুমি কি সেন্সরশিপের মুখোমুখি হও না?

অপূর্ব : অবশ্যই, তবে টেলিভিশন প্রযোজনার জন্য সেন্সরশিপ একটু বেশিই কঠোর। সেই তুলনায় ওয়েবে কিন্তু কিছুটা কম। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বেশিরভাগ দর্শক ওয়েব নাটকে আগ্রহী হচ্ছে টিভি নাটকের পরিবর্তনের অভাবের কারণে। টেলিভিশনের জন্য বানানো নাটকগুলো পরিবর্তন খুবই কম। একই ঘরানার জিনিস বারবার দেখতে কারো ভালোলাগার কথা নয়। এছাড়া নতুন অভিনয় শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ওয়েব একটি ভালো প্লাটফর্ম। এখানে তারা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে।

রাফি হোসেন : এই মুহূর্তে টেলিভিশনের সেরা অভিনেতা কে বলে মনে করো?

অপূর্ব : এই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই, এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। ব্যক্তিভেদে এর উত্তর পৃথক হবে। একজন অভিনেতা কখনো এক নম্বর আবার কখনো জিরো হতে পারে না। দেখা গেল আগামীকাল আমি একটা প্রজেক্ট করব, তখন সবার প্রিয় হয়ে যাব।

রাফি হোসেন : তাহলে কী ‘বড় ছেলে’ তোমার ক্যারিয়ারের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল?

অপূর্ব : অবশ্যই। আমি প্রায়ই আমার পরিচালক ও আমার সহকর্মীদের বলতাম, এখনকার নাটকগুলো আমাদের পারিবারিক সংস্কৃতির কথা বলে না। আমরা আমাদের কাজে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব বা পারিবারিক মূল্যবোধকে সেভাবে দেখাই না। তবে ‘বড় ছেলে’ ছিল সেসব থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম। এখানে আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ সত্যিকার অর্থে চিত্রিত হয়েছে। এ কারণেই দর্শক এটি আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। প্রচুর দেখেছে। আসলে দর্শক যে পারিবারিক গল্পগুলো বেশি পছন্দ করে ‘বড় ছেলে’ কিন্তু আবারো সেটাই প্রমাণ করেছে।

রাফি হোসেন : ‘বড় ছেলে’ সবাই পছন্দ করবে, এটা কি বুঝতে পেরেছিলে?

অপূর্ব : ‘বড় ছেলে’র পুরো কৃতিত্ব নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের। আরিয়ানের কাজ বেশ গোছানো। প্রত্যেক শিল্পীই চান নিজের সেরা অভিনয়টুকু উপহার দিতে। এজন্য চাই উপযুক্ত এনভায়রনমেন্ট। ‘বড় ছেলে’র শ্যুটিংয়ের সময় সেটি ছিল। মনে আছে শেষ দৃশ্যে মেহজাবিন যখন কেঁদে কেঁদে সংলাপ বলছিল, আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না, চোখ মুছছিলাম। আমরা না হয় অভিনয়ের খাতিরে নিজে থেকেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু অন্যরা? অন্যদের চোখও সে সময় ভিজে যাচ্ছিল। শ্যুটিং ইউনিটের সবাই ওই দৃশ্যটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিল। তখনই অবশ্য অনুমান করেছিলাম, ‘বড় ছেলে’ দর্শকের ভালো লাগবে।

রাফি হোসেন : তুমি সাধারণত রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করো। ভিন্ন চরিত্রে তেমন দেখা যায় না কেন?

অপূর্ব : দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করছি। আমি এক অপূর্ব যদি সব ধরনের চরিত্র করি, তাহলে কীভাবে হবে? সবার কপালে ইমেজ জোটে না। দর্শকই তার প্রিয় শিল্পীকে আলাদা করে ফেলে। ও অপূর্ব! তাকে এভাবে দেখা যাবে, এ রকম। এভাবেই আমার একটি ইমেজ তৈরি হয়েছে। নির্মাতারা এসে যখন বলেন, ভাই এই চরিত্রটা আপনি ছাড়া আর কাউকে দিয়ে হবে না, তখন আমি গর্ববোধ করি এই ভেবে যে, আমার বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে! একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই, হার্টের ডাক্তার কিন্তু ব্রেন সার্জারি করতে যাবেন না। আমি কেন তাহলে সব চরিত্রে অভিনয় করতে যাব? আমি কি সব ব্যাপারে স্পশালিস্ট? নিশ্চয়ই নই!

রাফি হোসেন : শোবিজের কোন কোন তরুণ নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে তোমার বেশি ভালো লাগে?

অপূর্ব : প্রথমেই বলব মিজানুর রহমান আরিয়ানের কথা। ও নিজেকে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই তালিকায় আরো আছে মেহেদি হাসান জনি, মাহমুদুর রহমান হিমি, নিয়াজ কামব্রিন আবীর, গোলাম মুক্তাদির শান, ইমরাউল রাফান, মাবরুর রশীদ বান্না।

রাফি হোসেন : তোমার সঙ্গে ভালো জুটি কার?

অপূর্ব : শুরুতেই বলব জাকিয়া বারী মমর কথা। ওর সঙ্গে আমার প্রচুর কাজ হয়েছে। তালিকায় আছেন মেহজাবিন, শখ, শার্লিন- তাদের সঙ্গে অনেক কাজ করছি। এখানে সিনিয়রদের কথা কিন্তু বলিনি।

রাফি হোসেন : তোমার কি কোনো স্ট্রাগলের গল্প রয়েছে?

অপূর্ব : আমাকে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি। শুরুতে যখন র‌্যাম্প মডেল ছিলাম, তখন হাসতে-খেলতে কাজ করেছি। নাটকের ক্যামেরার সামনে যখন দাঁড়ালাম, সে সময় আমি কয়েকজন অভিভাবক পেলাম, তারাই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। আমি গর্বের সঙ্গে তাদের নাম বলতে চাই। নির্মাতা অমিতাভ রেজা, অভিনেতা-নির্মাতা গাজী রাকায়েত আর তারকা শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান- আমার ক্যারিয়ারে এই মানুষগুলোর অবদান অনেক। তাদের একটিই উপদেশ ছিল ‘কাজই তোমার পরিচয়’। আমি সত্যি সৌভাগ্যবান মানুষ। জীবনের একেকটি ধাপে গিয়ে দেখি কেউ না কেউ আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাফি হোসেন : এই সময়ে এসে অনেক অভিনেতা কাজ পাচ্ছেন না, আবার অনেকে একসঙ্গে অনেক কাজ পাচ্ছেন- এটার কারণ কী?

অপূর্ব : আমার মনে হয় এর প্রধান কারণ পরিচালক ও প্রযোজক যাকে নিরাপদ মনে করছেন, তাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। যারা অভিনয় দিয়ে বা কাজ দিয়ে আলোচিত হচ্ছেন, প্রযোজক ও পরিচালকরা তাদের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ তারা ওই অভিনেতাদের ওপরেই আস্থা রাখতে পারছেন। আমি আরেকটি বিষয় বলতে চাই, আমাদের এখানে অনেক অভিনেতা আছেন, যারা দক্ষ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। এ কারণেই তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে আমি মনে করি, সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। কারণ একটা প্রজেক্ট যখন ফ্লপ হয়, তার দায় কিন্তু শুধু অভিনেতার নয়। তার দায় পুরো টিমকে নিতে হবে। আমি অনুরোধ করব সবাইকে কাজের সুযোগ দেয়া হোক। একটা কাজ খারাপ হয়েছে বলে অন্যগুলোও খারাপ হবে এমন ধারণা করা একেবারেই ঠিক নয়। এজন্য সবকিছুর আগে প্রয়োজন পরিচালকদের ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা। আমার মনে হয় ভালো শিল্পীদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ভালো শিল্পীর কোনো মৃত্যু হয় না। এটা পরিচালক-প্রযোজকদের বুঝতে হবে। আমরাও আমাদের কাজের প্রেসারে ১০০ ভাগ দিতে পারছি না। যেমন আমার শ্যুটিংয়ের সময় অনেকে আসছে নতুন গল্প শোনাতে, তখন আমি কাজটাতে মনোযোগ দিতে পারছি না। ভদ্রতা করে তাদের গল্প শুনছি। তাদের কাছে এমন অনেক গল্প শুনি যে চরিত্রে আমি পারফেক্ট না। কিন্তু তারা আমার কাছে আসছে, এগুলো অন্যদের দিয়ে করানো যায়। আমার জনপ্রিয়তাটা তারা ব্যবহার করতে চাইছে। এগুলো থেকে বের হতে হবে পরিচালকদের।

রাফি হোসেন : তোমার এক্সফ্যাক্টর কী বলে মনে করো?

অপূর্ব : প্রথমেই আমি যেটা বলব, সেটা হলো আমার ভাগ্য। যারা আমাকে পছন্দ করেন তারা। দর্শকরা কিন্তু আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। এটা কিন্তু শুধু টেলিভিশনের পর্দায়। তাদের সঙ্গে আমার কিন্তু ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগ নেই। এদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবান। দ্বিতীয় কথা হলো তাদের কথা মাথায় রেখে আমার কাজগুলো করার চেষ্টা করি। আমি কাজ করি আমার দর্শকদের জন্য। তাদের সঙ্গে আমি কানেক্ট করতে চাই। তারা যেন গল্পে তাদের ছায়া খুঁজে পায় সেই চেষ্টা থাকে।

রাফি হোসেন : দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকরা নাটকটা পছন্দ করল। এটা কীভাবে দেখবে?

অপূর্ব : তখন আমি আরো খুশি হবো। একটা কাজ নিয়ে যখন সবাই প্রশংসা করবে, তখন সেটা আরো ভালোলাগার। অনুপ্রেরণা সবসময় দারুণ।

রাফি হোসেন : তুমি সমালোচনা এবং প্রশংসা কীভাবে গ্রহণ করেন?

অপূর্ব : আমার কাজের জন্য যে প্রতিক্রিয়া আমি পাই, তা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় ভক্তদের জন্য অভিনয় করি। আমি আমার কাজে আমার ভক্তদের ওপর ফোকাস করতে চাই। আমার কাজ সবার ভালো লাগবে এমনটা কখনোই ভাবি না। সমালোচনা হবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। আমি সমালোচনাকে সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি। আমি মনে করি আমার যত বয়স বাড়বে, আমি আরো পেশাগতভাবে পরিণত হব। যখন আমি আরো অভিজ্ঞ এবং পরিপক্ব হবো, তখন হয়তো সমালোচনা থাকবে না।

রাফি হোসেন : তুমি কি এমন কোনো ভূমিকা নেবে যা সমালোচকদের কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং হবে?

অপূর্ব : আমি এমন ভূমিকা নিতে চাই না, কারণ আমার ভক্তরা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি চেষ্টা করি আমার কাজে সৎ থাকতে। আজকাল অনেক নতুন শিল্পী আছে যারা একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেই আর নাটকে কাজ করেন না। কিন্তু আমি মনে করি এটা ঠিক না, তারা নাটকের কাজ একেবারেই বন্ধ করে দিতে পারেন না। কোনো মানুষেরই উচিত নয়, তার শিকড়কে অস্বীকার করা।

রাফি হোসেন : তুমি কি রক্ষণশীল?

অপূর্ব : আমি খুব রক্ষণশীল। আমি এজন্য অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারি। কিন্তু আমি যা আছি তা-ই থাকতে চাই, আমি নকল হতে চাই না।

রাফি হোসেন : তোমার ছেলেও অভিনয় করেছে এখন?

অপূর্ব : ‘বিনে সুতোর টান’ নামের একটি টেলিফিল্মে আমার ছেলে অভিনয় করেছে। আয়াশের (ছেলের নাম) অভিনয় সবার ভালো লেগেছে। আসলেই ও দারুণ অভিনয় করেছে। আমি নিজেও ওর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছি।

রাফি হোসেন : ছেলেকে কোথায় দেখতে চাও?

অপূর্ব : এটা ওর স্বাধীনতা। ও যা হতে চায় তাই হবে। আমি কখনোই চাপ দেব না। তবে আমি চাইব আয়াশ যেন একজন ভালো মানুষ হয়। কারণ ও যা-ই হোক না কেন সবার আগে ভালো মানুষ হওয়া দরকার। তাই বাবা হিসেবে চাই ও একজন ভালো মানুষ হোক।

রাফি হোসেন : তোমার প্রিয় সহশিল্পী কে?

অপূর্ব : যখন আমি প্রথম অভিনয় শুরু করি, তখন আমি তারিন আপু, অপি করিম, জয়া আহসান ও আফসানা মিমির মতো কিছু মহান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছিলাম। তারা সবাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করতেন। গাজী রাকায়েত আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। অভিনয়ের অনেক টার্ম শিখেছি তার কাছে। তার নির্দেশিকা আমাকে অভিনেতা বানিয়েছে। জাকিয়া বারী মম ও সুমাইয়া শিমুর সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। তারা সবাই আমার খুব প্রিয় মানুষ। তারিন আপু আমাকে ধরে ধরে অভিনয় শিখিয়েছেন সেই সময়। আমার প্রতিটা সহশিল্পী আমাকে সহযোগিতা করেছেন। একটা বিষয় আমি জানি, আপন ভালো তো সব ভালো। সেটা হওয়ার চেষ্টা করেছি।

রাফি হোসেন : তোমার সম্পর্কে পাঁচটি ইতিবাচক ও পাঁচটি নেতিবাচক বিষয় বলো।

অপূর্ব : প্রথমত, আমি খুব ইতিবাচক চিন্তা করি। দ্বিতীয়ত, আমার অনেক ধৈর্য আছে। তারপর আমি একজন ভালো মানুষ, কারণ আমি কাউকে সাহায্য করতে না পারলেও কারো ক্ষতিও করার কথা কখনোই ভাবি না। আমি সবাইকে অনেক সম্মান করি। আমি প্রবীণদের শ্রদ্ধা করি এবং আমার চেয়ে ছোটদের প্রতি আমার আনুগত্য প্রদর্শন করি। নেতিবাচক হিসেবে আমি কেবল একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর মনোযোগ দেব- আমি খুব রাগী। যখন আমি রাগ করি, আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমাকে কেউ ভুল বুঝলে রাগ হয়। কাছের মানুষ রাগ করলে খুব রাগ হয়। আমি বেয়াদবি একদমই পছন্দ করি না। এটা যে-কারো সঙ্গেই। মানুষকে যে সম্মান করতে পারে না, তাদের একদম পছন্দ করি না। জীবনটা আমার কাছে খুব সুন্দর। ঘুম হলে আমার রাগ কমে যায়। একজনের রাগ অন্যজনের ওপর ঝাড়ি না। এটা আমার ভালো একটা দিক। বাইরের যত ঝামেলা দরজার বাইরে ফেলে দিয়ে বাসায় ঢুকি। আমি খুব শান্তিপ্রিয় মানুষ।

রাফি হোসেন : তুমি রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে বেশি জনপ্রিয় নাকি রোমান্টিক স্বামী হিসেবে?

অপূর্ব : আমার স্ত্রী অদিতি কিন্তু কোনোটাই মানবে না। কারণ ইদানীং তাকে খুব সময় দিতে পারছি না। আমি কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। এখনই আমার কাজের সময়। একদিন তো এত কাজ থাকবে না। বাসায় ফিরে যতই ক্লান্ত থাকি, ঘুম ঘুম লাগুক আমি আমার স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে গল্প করি। বাচ্চা যদি খেলতে চায় খেলা করি। তাদের কিছু বুঝতে দিই না। আমি ব্যালান্স করার চেষ্টা করি সবকিছু। কতটা পারি জানি না। চেষ্টা করি তাকে সময় দেয়ার।

রাফি হোসেন : তোমার বন্ধু কে? বন্ধুর সংজ্ঞা কী তোমার কাছে?

অপূর্ব : আমার বন্ধু সংখ্যা খুবই অল্প। আমার বেস্ট বন্ধুর নাম রূপক। তারেক নামে আমার আরেকটা স্কুলের বন্ধু আছে। যখনই প্রয়োজন তাকে পাশে পাব, সে-ই প্রকৃত বন্ধু। আমি এটা মনে করি। আমার স্ত্রীও আমার ভালো বন্ধু।

রাফি হোসেন : তোমার ভক্তদের জন্য কিছু বল।

অপূর্ব : আমার ভক্তদের কাছে আমার চাওয়া, আসুন আমরা সবাই ইতিবাচক হই। আমরা ইতিবাচক হলে আমাদের চারপাশ অনেক সুন্দর হবে, আমাদের পৃথিবাটাও সুন্দর হবে, বদলে যাবে অনেক কিছু। তাই আসুন ইতিবাচক হই ও সুন্দরের চর্চা করি।

শ্রুতিলিখন : রবিউল কমল

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup