আমি কাজে বিশ্বাস করি -বিপাশা হায়াত

বিপাশা হায়াত বহু গুণে গুণান্বিত। অভিনয়ের সব মাধ্যমেই সফল তিনি। প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চিত্রশিল্পী হিসেবেও। জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় তুলে আনেন কলমের আঁচড়ে। পাঠকদের জন্য বিপাশা হায়াত তুলে ধরেছেন তার জীবনের দর্শন ও না বলা অনেক কথা। সঙ্গে ছিলেন আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেন

রাফি হোসেন : অনেক অভিনয় শিল্পী আছেন, যারা জীবনটাকে গুছিয়ে  নিতে পারেন না। কিন্তু তুমি সংসার, মিডিয়া সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে চলছ। সেটা আসলে কীভাবে সম্ভব?

বিপাশা হায়াত : অন্যের কথা তো আমি বলতে পারব না। আমি আমার নিজের অনেক কথাই জানি না। নিজের প্রতি অনেক প্রশ্ন আছে। অন্যের কথা কী করে বলব। যদি মান্না দে’র গানটার কথাই বলি, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়, কেউ সুখী হয় কেউ হয় না।’  কিন্তু এই সুখ আমার কাছে কি যদি বলি, নীল রঙের ঘাসফুল যখন আমার টবের অপরাজিতা গাছের নিচে ছোট্ট একটা টবের মধ্যে ফোটে, তা দেখে আমি সুখ খুঁজে পাই। সুখের এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো আমি খুব উপভোগ করি। গাছের পাতায় হাত দিয়ে পাতার গড়ন এবং ফুলের গড়নটা অনুভব করার মধ্য দিয়েও আমি সুখ খুঁজে পাই। সুখ হয়তো খোঁজার দরকার নেই। চারপাশে যা আছে তা থেকেই সুখী হওয়া যায়। ক্ষুদ্র জিনিসের মাঝে যে সুখ আছে, বড় কিছুর মাঝে আমি সেই সুখটা অনেক সময় খুঁজে পাই না। আমাকে সুখী করা খুব সহজ। আমি জীবনকে ভালোবাসি। জীবন অনেক সুন্দর, জীবনকে ভালোবাসার যে দর্শন, তা আমাদের দু’জনের মাঝেই রয়েছে এবং আমরা সেই দর্শনেই চলার চেষ্টা করি। সর্বোপরি যেভাবেই হোক মানুষ এবং পৃথিবীর কল্যাণে আমরা কাজ করে যেতে চাই আমাদের  পেশায় থেকে।

রাফি হোসেন : পরিবার বা অন্যান্য সব কাজ ছেড়ে কখনো কি একান্ত নিজেকে সময় দেয়া হয় তোমার?

বিপাশা হায়াত : সে রকম অনেক সময়ই হয়। কাজের কারণে দেশের বাইরে যখন একা ভ্রমণ করি, তখন নিজের মধ্যে থাকা ভুলত্রুটিগুলো আমি দেখতে পাই এবং প্রত্যেকবারই মনে হয় এবার ফিরে এসে যেন এই ভুলত্রুটিগুলো শোধরাতে পারি। হোক তা আমার সংসার কিংবা মানুষ বা ফুল গাছের যত্ন অথবা খাদ্যাভ্যাস, যা কিছুতেই ত্রুটি রয়েছে সবকিছু শোধরানোর চেষ্টা করি। এমনকি  বিকেল বেলা এক কাপ চা-ও যদি নিজের একান্ত সময়ে খাওয়া হয়, তখনো আমি নিজের ভুলত্রুটিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। তখন ত্রুটিগুলো মনে করে দুঃখ হয় যে, কেন আরো আগে বুঝতে পারলাম না।

রাফি হোসেন : একসময় আমারও সে রকম মনে হতো কিন্তু বর্তমানে যদি ভুলত্রুটিগুলোর কথাই বলি, তাহলে বলতে হবে ওই সময়ের জন্য হয়তো অন্য কিছু করার ছিল না। তাই নয় কি?

বিপাশা হায়াত : হ্যাঁ। আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু যে ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে তা কিন্তু নয়। তবে অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে আমরা ভাগ্য দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত হই। নিরবচ্ছিন্ন সুখ এবং দুঃখ  বলতে আসলে পৃথিবীতে কিছু নেই। কেউ সুখী হয় কেউ হয় না- এ কথাটা আসলে ভুল। সুখ এবং দুঃখ দুটোই কিন্তু হাত ধরাধরি করে চলে। বিষয়গুলো আসলে একেকজনের জন্য একেকরকম। সুখটা হচ্ছে একটা কনসেপ্ট। সুখের কনসেপ্ট এবং দুঃখের কনসেপ্ট কিন্তু খুবই রিলেটিভ। সেদিন আমি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম দু’জন মহিলা ফুটপাতের একটি ছেঁড়া কাঁথার পাশে বসে খুব সুন্দরভাবে গল্প করছে। পাশে কাঁথার ওপরে ছোট্ট একটা বাচ্চা খেলা করছে। আশপাশে কিন্তু অসংখ্য দোকান এবং অসংখ্য মানুষের চলাফেরা। সেদিকে তাদের কারো কোনো খেয়াল নেই। এখন যদি আমি এই জায়গাটি আলাদা করে দেখি, তাহলে মনে হবে এটি সংসারেরই একটি অংশ। সেই মানুষগুলোকে আমার খুব সুখী মনে হলো। সেজন্যই বললাম সুখ এবং দুঃখের কনসেপ্ট প্রত্যেকটি মানুষের জন্য আলাদা। নিজের সুখ-দুঃখের জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। নিজেদের কৃতকর্মের ফল সুখ এবং দুঃখকে নির্ধারণ করে দেয়।

রাফি হোসেন : এবার তোমার পেইন্টিংয়ের বিষয়ে আসি। তোমার পেইন্টিং আমি শুরুর দিকেই দেখেছি। এখন মনে হচ্ছে তুমি বেশ বিমূর্ততার দিকে যাচ্ছ বা এটাকে পছন্দ করছ। এই বিষয়টা নিয়ে তোমার চিন্তাভাবনা কী?

বিপাশা হায়াত : প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব জীবনযাপন ও চিন্তা-দর্শন ছবিতে প্রকাশ করে। আমি যখন অভিনয় করেছি, তখন বিভিন্ন চরিত্র খুঁজেছি। প্রতিটা চরিত্র যেন আলাদা হয়। আমি প্রতিটা চরিত্র আলাদাভাবে করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি কাজের মধ্যে নতুনত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছি এবং বর্তমানে তা-ই করছি। অতীতে যা হয়ে গেছে তা তো গেছেই। এই বিশ্বাসটা আমার ছবি আঁকার মধ্যে কাজ করে। আমি দার্শনিক নই, তবুও প্রতিটা মানুষের একটা দর্শন থাকে। অভিজ্ঞতা, বই পড়া, পরিবেশ, মানুষ দেখে দেখে সে দর্শনগুলোর পরিবর্তন হয়। আমি কিন্তু প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছি। সেই পরিবর্তনের প্রভাবটা আমার ছবির মধ্যে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। গতকালের মানুষটি কিন্তু আজকের আমি নই। আমি বিমূর্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। আমার কাজের মূল বিষয় স্মৃতি। আমি মনে করি, স্মৃতি আমাদের সচল রাখে। স্মৃতিহীন মানুষ শূন্যমানব। সেই হিসেবে আমার কাজ কনসেপ্টচুয়াল। ছবি আঁকার চেয়ে আমি লক্ষ্য করি, ছবি মাধ্যমে আমি কী প্রকাশ করছি?

রাফি হোসেন : চিত্রশিল্পী হিসেবে তুমি দেশ এবং দেশের বাইরে অনেক জায়গায় গিয়েছ? তোমার কী মনে হয়, আমাদের শিল্পী এবং দেশের বাইরের শিল্পীদের কাজ নিয়ে যদি বলি, তাহলে আমরা কোথায় অবস্থান করছি?

বিপাশা হায়াত : আমরা আসলে নিজেদের বিদেশি ভাবতে পারি না। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই তখন কিন্তু আমরা বিদেশি। বাইরের সঙ্গে তুলনা না করে আমি বলতে চাই এটা আসলে একটা মানুষের ব্যক্তিগত যাত্রা। এ যাত্রায় প্রত্যেকে যদি সততার সঙ্গে কাজ করে, তাহলে তার কাজ অন্যদের চেয়ে আলাদা  হবেই। প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে ইউনিক। এক্ষেত্রে বাইরের সঙ্গে দেশের মানুষের ছবি আঁকা বা প্রকাশভঙ্গি বা পার্থক্যের কোনোপ্রকার কনসেপ্টে আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, কে কতটা সততা নিয়ে তার কাজকে প্রকাশ করছে। মানুষের নিজেকে জানার প্রক্রিয়াটা যদি অবিরত চালু থাকে, তাহলে তার কাজের মধ্যে সেই উত্তরণ যেমন আসবে, তেমনি নতুন নতুন ভাবনার সৃষ্টি হবে। সেটি আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটি দেশ-কাল নির্বিশেষে যেকোনো ভাবেই হতে পারে।

রাফি হোসেন : ফোক আর্টের বেলায় যদি বলি, পৃথিবীর যেকোনো আর্টের মধ্যে যেন একটা মিল রয়েছে। সেটাকে তোমার কী মনে হয়?

বিপাশা হায়াত : আমি কিছুদিন আগে পোল্যান্ডে গেলাম। সেখানকার যে ফোকআর্ট, তা দেখে মনে হবে যে রিকশা পেইন্টিং। আমি সেখান থেকে কয়েকটা কাজ নিয়ে এসেছি। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি কালার ব্যবহার থেকে শুরু করে ফর্ম, সবকিছুতেই এত মিল দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছি। আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে, অনেকদিন আগে একটা ছবি এঁকেছিলাম। বেঙ্গল গ্যালারিতে আমার আঁকা ছবির প্রথম যে একক প্রদর্শনী হয়েছিল, সেখানে একটা ছবি ছিল, ছবিটার নাম ছিল ‘ক্ষত’। ‘ক্ষত’ বলতে আমি মানসিক একটা অবস্থাকে বুঝিয়েছি। মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে জাপানি শিল্পীর কাজের সামনে দাঁড়িয়ে এত আশ্চর্য হয়েছিলাম যে, তার কাজটি ঠিক আমার ওই কাজটির মতোই। তখন মনে হয়েছিল, আসলে আমাদের ভাবনার জায়গা তো একই, আমরা একই পৃথিবীর মানুষ। নিজের যাত্রার পথপরিক্রমাটা বোঝা যায় কিন্তু একজন শিল্পীর কাজের মধ্য দিয়ে। তাই একই ফুল যদি সবাই আঁকে, তবুও তা কখনো এক হবে না।

রাফি হোসেন : এবার তোমার সংসার জীবনের গল্পে আসি। দাম্পত্য জীবনে তৌকীর ভাই আর তুমি দীর্ঘ ২০ বছর একসঙ্গে কাটালে। এখন যদি বলি তোমার চোখে তৌকীর ভাইয়ের কী কী দোষ বা গুণ ­­­ তুমি দেখছ। কিংবা কোন দিকটা পরিবর্তন করলে ভালো হতো এমন কিছু কি আছে?

বিপাশা হায়াত : না, ওর কোনো কিছুই পরিবর্তন করতে আমি বলব না। ওই যে বললাম, জীবন নিয়ে আমাদের দু’জনের যে দর্শন, জীবন নিয়ে আমাদের যে ভাবনা তা আমাদের সন্তান ও শিল্পকলা কেন্দ্রিক। পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবারের মানুষজন সবকিছু নিয়েই একসঙ্গে ভাবি বলে আমরা এক সুতোয় বাঁধা আছি। আবার এমনও হয়, আমার জন্য যেটি আমি ভাবিনি ও সেটি ভেবেছে। আবার  তার ক্ষেত্রেও আমি ঠিক সেভাবেই ভেবেছি। তৌকীর যতটা না স্বামী, তার চেয়েও ভালো বন্ধু। যদি ওকে স্বামী ভাবতাম, তাহলে বাজারের ব্যাগ হাতে ধরিয়ে  দিয়ে বলতাম ঘরে কিছু নেই, বাজার করে নিয়ে আসো। আমি কখনই চাই না, আমাদের আলোচনার মাঝে বাজার কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো বিষয় চলে আসুক। আমরা চাই আমাদের আলোচনার বিষয় হোক সিনেমা, বই, আর্ট, গান, নাটক, সাহিত্য ইত্যাদি।

রাফি হোসেন : আচ্ছা অনেকেই প্রেম করে বিয়ে করলেও তাদের মাঝে এসে প্রেমটা এক সময় থাকে না। সেটা কেন হয় বলে তুমি মনে করো?

বিপাশা হায়াত : সেটা কেন হয় আমি জানি না। তবে আমি কিন্তু অনেক ব্যর্থ প্রেমের নাটক লিখেছি। আমার লেখা ‘ঘর’ নামে একটি নাটকে তৌকীর আমি দু’জনে অভিনয় করেছি এবং সেটা শ্যুটিং হয়েছেও আমাদের বাসায়। সম্পর্কের এই ভাঙা-গড়া  এবং তার জন্য ফল ভোগ করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নাটকটির গল্প। নাটকটি খুব কাছের একজন মানুষকে দেখেই লেখা। চার বছরের এক বাচ্চা ফেলে সে মা চলে গিয়েছিল। এ ঘটনাগুলো আসলে আমাদের ভাবায়। আমি সমাধান জানি না, তবে যখন লিখি তখন প্রশ্নগুলো দর্শককে ছুড়ে দিই। এরপর আসলে কী? আমরা যেন মিসগাইডেড না হই। আমাদের যেন সংসার ভেঙে না যায়। কিন্তু অন্যভাবে দেখতে গেলে বোঝা যায়, এসব ঘটনা কিন্তু এককভাবে ঘটে না। এর মধ্যেও আরো অনেক অনুঘটক কাজ করে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি প্রচুর বই পড়া দরকার। জ্ঞানের পরিধিটাকে সমৃদ্ধ করে অবস্থা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নিজের হতাশা দূর করা সম্ভব।

রাফি হোসেন : এই যে আমাদের চারপাশে শিশু ধর্ষণ থেকে শুরু করে নানা বীভৎসকর ঘটনা ঘটছে, একজন শিল্পী হিসেবে তুমি এটাকে কীভাবে দেখছ?

বিপাশা হায়াত : এই ঘটনাগুলোর পেছনে অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে। এটার প্রধান কারণ যদি বলি তাহলে প্রথমেই বলব, আমাদের দেশের কত ভাগ  মানুষ শিক্ষিত বা যারা শিক্ষিত তারা কতখানি সংস্কৃতিবান, আবার যারা সংস্কৃতিবান তারা কতটুকু বিবেকবান। এখন সবার হাতে হাতে ইন্টারনেট। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন ইন্টারনেট মিসইউজ হচ্ছে। সবকিছু এখন হাতের মুঠোয়। এক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে বলতে চাই, আপনি আমাদের অনলাইন কিংবা ইউটিউবে যেসব আপত্তিকর সাইট কিংবা চ্যানেল রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দিন। পরবর্তী প্রজন্মের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এ বিষয়গুলো ভাবা আমাদের এখন ভীষণ জরুরি। পাশাপাশি পথশিশুদের পথ থেকে তুলে নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাও ভীষণ প্রয়োজন। একটি বাচ্চা কেন বেলুন বিক্রি করবে? চোখের সামনে এত এত সুন্দর জীবন ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে আমরা কেন তাকাই না? আমি কিছুদিন নিজের ফেসবুকে পথশিশুদের নিয়ে কিছু পোস্ট দেয়াতে আমাকে একজন বলল, আপা আপনি এসব বন্ধ করে দিন। সবাই ভাবছে আপনি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য এসব করছেন। আমি খুব দুঃখ পেলাম। আমি কী ভেবে কী করছি, আর মানুষ এটাকে কীভাবে দেখছে। আমাদের নিজেদের কোনো কিছুই চাওয়ার নেই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন সুন্দর থাকে, সেটাই আমার প্রত্যাশা। আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে সে চেষ্টা আমরা চাইলেই করতে পারি।

রাফি হোসেন : তোমার তো অনেক গুণ রয়েছে। এখনো কি তুমি সংগীতচর্চা করছ?

বিপাশা হায়াত : না, সেভাবে না। যদি মাথার মধ্যে কোনো গান ঘুরতে থাকে, সেটাকে নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দিই। হারমোনিয়াম নিয়ে বসে থাকি।

রাফি হোসেন : তোমার কি কোনো অপূর্ণতা আছে?

বিপাশা হায়াত : অপূর্ণতা বলতে আমি চাই আমার ছেলে-মেয়েরা সত্যিকার অর্থে একদিন মানুষ হোক। তাদের কাজের ভেতর দিয়ে, সেটা যে কোনো মাধ্যম বা যে কোনো ধরনের কাজ দিয়ে হোক, তারা যেন অবশ্যই পৃথিবীর অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করে। জানি না সেটা দেখার সৌভাগ্য আমার হবে কিনা, তবে আমরা তাদের সেভাবে তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই।

রাফি হোসেন : মঞ্চে ফেরার ইচ্ছা আছে?

বিপাশা হায়াত : আছে। আমি মঞ্চে অভিনয় করতে চাই। থিয়েটার আমাকে খুব টানে। ছেলে-মেয়েদের গুছিয়ে নিয়ে আমি আবারও মঞ্চে অভিনয় করব।

রাফি হোসেন : তোমাদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সময়গুলোকে কি মিস করো?

বিপাশা হায়াত : না। আমি কাজে বিশ্বাস করি। তুমি আমাকে অনেকবার ফটোশ্যুটের জন্য ডেকেছ। কিন্তু আমি আসলে তার চেয়ে বেশি আগ্রহী অভিনয় করতে বা ছবি আঁকতে কিংবা লিখতে। 

মেকআপ ও স্টাইলিং  : ফারজানা মুন্নি, কিউবেলা

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup