সাক্ষাৎকার : ‘প্রতিটি ভাঙনই আমার কাছে অনেক যন্ত্রণাদায়ক’ -অমিতাভ রেজা

প্রথম সিনেমা ‘আয়নাবাজি’ দিয়েই বাজিমাত করেছেন অমিতাভ রেজা। তার নতুন সিনেমার নাম ‘রিকশা গার্ল’। আগামী বছরে মুক্তি পাবে সিনেমাটা। গল্প বলার চাপ অনুভব করলেই গল্প বলতে ভালোবাসেন। সেটা সিনেমা, নাটক কিংবা ওয়েব সিরিজে হোক না কেন। অসংখ্য মন ছুঁয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন তিনি। আনন্দধারার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসে বলেছেন তার সিনেমা বিশ্বাস, নতুন ছবি, আগামীর নির্মাতাদের জন্য কথাসহ তার নিজস্ব প্রেম ভাবনা। আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেনের সঙ্গে বলেছেন অনেক কথা। সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ...

রাফি হোসেন : তোমার নতুন ছবি ‘রিকশা গার্ল’ তো এখনো শেষ হয়নি। এখন কী অবস্থায় আছে?

অমিতাভ রেজা : আমরা যেটাকে বলি প্রিন্সিপাল শ্যুটিং সেটা শেষ হয়েছে। তারপরও কিছু কাজ রয়েছে। আশা করছি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এটার এডিট করছেন নবনীতা।

রাফি হোসেন : এটা কি রাফ পার্ট করে পাঠাচ্ছো?

অমিতাভ : একটা রাফ পার্ট উনার কাছে পাঠানো হয়েছে। আমার মনে হয় না উনি সেটা দেখবেন। আমিও চাই না উনি সেটা দেখুন। উনি উনার মতো করে কাজ করুন।

রাফি হোসেন : তুমি কি এডিটরের সঙ্গে সবসময় থাকছ?

অমিতাভ : না, সবসময় না। আমি চাই উনি উনার মতো করে কাজ করুন। তার নিজের ভাবনা এবং নিজের মতো করে একটা গল্প তৈরি করুন, তারপর আমি তার সঙ্গে বসব।

রাফি হোসেন : তাহলে কি উনাকে একটা গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছো?

অমিতাভ : স্ক্রিপ্ট দিয়েছি। এখন ওইটা দেখে তিনি কাজ করছেন। স্ক্রিপ্টটাই গাইডলাইন।

রাফি হোসেন : আয়নাবাজির পর ‘রিকশা গার্ল’ ছবিটা শুরু করলে। কতদিন লাগতে পারে ছবিটা মুক্তি পেতে?

অমিতাভ : আগামী বছর হয়ে যাবে।

রাফি হোসেন : এই ছবিটি ইংরেজিতে করছ। ইংরেজিতে করার কারণ কী?

অমিতাভ : ৭০% কাজই ইংরেজিতে হয়েছে। এটার মূল কারণ হচ্ছে সিনেমাটা যে কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে, তা হলো মিতালি পার্কেন্সের উপন্যাস ‘রিকশা গার্ল’। আমেরিকায় রিকশা গার্ল উপন্যাসটি তরুণদের কাছে খুব জনপ্রিয়। ওই দর্শকরাই আমাদের মূল দর্শক বলে মনে হয়েছিল এবং আমাদের প্রডিউসারও সানফ্রান্সিস্কো বেজ প্রডিউসার।

রাফি হোসেন : উনি কি বাংলাদেশি?

অমিতাভ : না, উনি আমেরিকান। উনিই প্রথম ছবিটা করতে চেয়েছেন। আর ছবিটা মোটামুটিভাবে ওই দেশের জন্য তৈরি করা। আর ওই ধরনের জায়গাতেই ছবিটার মূল বাজার তৈরি করা যাবে বলে আমরা মনে করি। আমরা যদি ছবিটা দুই ভাষায় করতে যাই তাহলে সম্পূর্ণ খরচটা অনেক বেড়ে যাচ্ছিল, যেটা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এই ছবিটার প্রযোজক আমেরিকান হলেও এটি একটি স্বাধীন ছবি। এটার লগ্নি বিভিন্ন জায়গা থেকে করা। বাংলাদেশ থেকেও লগ্নি করা হয়েছে। আর শুধু বাংলা ভাষায় করতে গেলে যে সমস্যাটা হতো তা হলো বাইরের দেশে সাব-টাইটেল করা ছবি তেমন একটা চলে না। আমার প্রযোজকদের যেহেতু মূল বাজারই দেশের বাইরে, তাই আমাদের ইংরেজি ভাষায় করাটাই বেশি জরুরি ছিল। কিন্তু ছবিটি যদি শুধু কোনো চলচিত্র উৎসবের জন্য করা হতো, তাহলে পুরো গল্পটাই কিন্তু অন্যরকম হয়ে যেত। তাই লগ্নির বিষয়টা মাথায় রেখে ছবিটা ইংরেজিতে করা হয়েছে।

রাফি হোসেন : তোমার সিনেমার একজন শিল্পী আমাকে বলেছিল, ছবিটা ইংরেজি ভাষায় হওয়ার কারণে কোথায় যেন একটা ভয় কাজ করছে। সে বলছিল, আমরা তো ইংরেজিতে কথা বলি না। ইংরেজি বলার চিন্তায়, আমার সম্পূর্ণটা দিতে পারছি না। তুমি কীভাবে দেখছো বিষয়টা?

অমিতাভ : আমার জন্য এটা অনেক কষ্ট এবং চ্যালেঞ্জের একটা কাজ। আমার মূল চ্যালেঞ্জ ছবির ডাবিং যারা করবে তাদের নিয়ে। আমাদের মূল যারা অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে, তাদের দিয়ে ডাবিং করাচ্ছি না। কীভাবে এগুলোর উন্নতি করা যায় সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্যুটিং করার সময় এটা নিয়ে বিশাল বেগ পেতে হয়েছে। ছবির যে মূল চরিত্র নাইমা যাকে নিয়ে এই সিনেমার গল্প সে ইংরেজিতে এত ভালো অভিনয় করে যে অনেক সুবিধা হয়েছে।

রাফি হোসেন : অনেকে চলচ্চিত্র উৎসবের কথা মাথায় রেখে ছবি করে। আয়নাবাজি দেখে মনে হয়েছে তুমি সেটা করনি। দর্শকদের কথা মাথা রেখেই সেটা করেছিলে। রিকশা গার্ল যেহেতু আমরা এখনো দেখিনি, তাই জানতে চাই এই ছবিটার বেলায় তোমার পরিকল্পনা কী?

অমিতাভ : না, একদমই না। বাংলাদেশে ছবিটা মুক্তি পাবে কিনা সে বিষয়েও জানি না। আর মুক্তি পেলেও দু-একটা হল ছাড়া কোনো জায়গা দেখি না।

রাফি হোসেন : তাহলে এটা কি আয়নাবাজির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকল্প?

অমিতাভ : একদম অলাদা।

রাফি হোসেন : আয়নাবাজি যেহেতু তোমার প্রথম ছবি। এর আগে তুমি নাটকে বিজ্ঞাপনে বেশ পরীক্ষিত। ছবিটা অনেক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। একটা ব্লকবাস্টার ছবি বানিয়ে আবার এত দীর্ঘ বিরতি নিচ্ছো যে, এর মধ্যে দর্শক এবং সেই ব্যক্তিও অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। দেরি হওয়ার কারণটা কী?

অমিতাভ : সবচেয়ে বড় সমস্যা স্থায়ী পুঁজি নেই। আমাদের পুঁজিগুলো খুব অস্থায়ী। এটা হলো সবচেয়ে বড় সমস্যা। ধরেন পাঁচজন লোক কিছু টাকা জোগাড় করে একটা ছবি বানায়। তাদের নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা কোনো সংগঠন নেই। কারণ যারা কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য ছবি বানায়, তাদেরও কিন্তু একটা সংগঠন আছে। তারাও কিন্তু এসব ছবিতে নিয়মিতভাবে লগ্নি করে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন একটাও হাউজ তৈরি হচ্ছে না যারা ছবিতে নিয়মিত লগ্নি করছে এবং পুঁজি ফেরত আনছে।

রাফি হোসেন : কিন্তু বিনিয়োগ তো তখনই করবে, যখন সেটা ফেরত আসবে। বিনিয়োগ না করার জন্য তোমার কি মনে হয় না নির্মাতারা দায়ী? বিনিয়োগটা দুই অর্থে হতে পারে, একটা ব্যবসায়িকভাবে আর অন্যটা আন্তর্জাতিক উৎসবের মাধ্যমে।

অমিতাভ : আন্তর্জাতিক উৎসবও কিন্তু একটা ব্যবসা। কারণ আন্তর্জাতিক উৎসবের ছবিগুলোও কিন্তু বিনা পয়সায় হয় না। বিষয়টার মূল সমস্যা হচ্ছে নির্মাতারা ছবি বানাবে কিন্তু ছবিতে প্রযোজক এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পেশা পৃথিবীজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কথা আমি বলছি না শুধু যারা প্রযোজক তাদের কথা বলছি। বাংলাদেশে দেখেন খুব অল্প কিছু প্রযোজক তৈরি হয়েছে। যেমন- আমরা রুবায়েতকে চিনি আরিফ, নাজনিন রেজা- এরা অল্প কিছু প্রযোজক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা শুধু আরিফ আর রুবায়েতকে প্রযোজনা করতে দেখি। রুবায়েত কিন্তু প্রযোজক এবং পরিচালক দুটোই এবং আমি বলব সে দুই জায়গাতেই সফল। প্রযোজকরা যদি না থাকে, তাহলে যারা তরুণ মেধাবী পরিচালক হবে তারা কোনো দিশা পাবে না। আমার বিশ্বাস বর্তমানে কোনো গল্প বলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম অনলাইন। প্রতিনিয়ত অনলাইনের জন্য নতুন নতুন আকর্ষণীয় গল্প তৈরি করছি। যদি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই, তাহলে অনলাইনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনলাইনের জন্য যখন আমরা কাজ করব যে লেখককে দিয়ে লিখিয়ে নেব যে অভিনেতাদের দিয়ে কাজ করব যদি নির্দিষ্ট বিনিয়োগকারী না থাকে তাহলে ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে না। একটা ছবি তখনই সফল হয়েছে, যখন নিয়মিতভাবে কাজগুলো হয়েছে। শখের বশে একটা ছবি বানিয়ে কিন্তু কেউ সফল হতে পারেনি। যারা আয়নাবাজির লগ্নিকারক, তাদের কিন্তু কোনো হাউজ নেই, তারা অন্য কোথাও কাজ করে। নিজস্ব হাউজ যদি না থাকে নিয়মিতভাবে কারো ছবি বানাতে পারি না।

রাফি হোসেন : আয়নাবাজির সফলতার পর নিয়মিত প্রযোজক তারা কি আগ্রহ দেখায়নি?

অমিতাভ : জাজ আমার পরের ছবি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন উনাদেরই তো অনেক সমস্যা।

রাফি হোসেন : যারা তোমার ছবিটি প্রযোজনা করল তুমি বললে তারা পেশাদার প্রযোজক না। আমার মনে হয় একটা সফলতাই কিন্তু আরেকটি সফলতা নিয়ে আসে।

অমিতাভ : ওরা কেন করবে কাজটা? কারণ যে টাকাটা ওরা লগ্নি করেছে, সেটা ওঠাতে অনেক কষ্ট। ওরা যে টাকা খরচ করেছে দুই বছর যদি এটা হিসাব করি, তাহলে ওইটা সম্পূর্ণ একটা লস প্রজেক্ট। লগ্নি করার কোনো যুক্তিই নেই।

রাফি হোসেন : এখন পুরো দৃশ্যপটই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এখন যে আমরা শুধু বাংলাদেশের বাজার চিন্তা করে ছবি করব সেটা কিন্তু না।

অমিতাভ : এটা বর্তমান অবস্থা। ২০১৬ সালে এই রকম পরিবেশ ছিল না। তখন এত সুযোগ ছিল না এখন অনলাইন প্লাটফর্ম বাড়ছে। এখন এটা একটা সম্ভাবনার জায়গা। এখন যদি এখান থেকে লগ্নির টাকা উঠে আসে তারা এখানে লগ্নি করবে।

রাফি হোসেন : তাহলে তুমি সম্ভাবনা দেখছ?

অমিতাভ : এখানে প্রচুর সম্ভাবনা দেখি। সিনেমা হল কম, সিনেমা হল থেকে লগ্নির টাকা উঠে আসছে না। দেশের সিনেমা থেকে যেহেতু লগ্নির টাকা উঠে আসছে না, ভালো ছেলে-মেয়ে পাচ্ছি না, ভালো লেখক পাচ্ছি না। যে ছেলেটা সবচেয়ে ভালো লিখতে পারে, ভালো সিনেমাও বানাতে পারে। সে ভাবছে একমাত্র বিজ্ঞাপন বানিয়েই কিছু করা যাবে।

রাফি হোসেন : তার জন্য তোমরাই দায়ী। তুমি, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আরো যারা আছো- অনেকে তোমাদের দেখে ভাবছে আগে বিজ্ঞাপন বানাব, তারপর নাটক বানাব এবং পরবর্তী সময়ে সিনেমা।

অমিতাভ : এই সূত্র সবসময় কাজ করে না। বিজ্ঞাপন বানাতে একরকম কৌশল লাগে, সিনেমা বানাতে অন্যরকম। তাই বিজ্ঞাপন বানাতে পারলেই যে কেউ সিনেমা বানাতে পারবে সেটা কিন্তু না। অবার সিনেমা বানাতে পারলেও যে বিজ্ঞাপন বানাতে পারবে তেমন না। এখানে একটা সমস্যার কথা হচ্ছে। কেউ যদি সিনেমাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তাহলে সে কী করবে?

রাফি হোসেন : এমনকি করা যায় না যদি লিখি সেটা স্ক্রিপ্ট হতে পারে। হোক সেটা সিনেমা বা নাটকের।

অমিতাভ : সেটা বিজ্ঞাপন বা অনলাইনের জন্য করা সম্ভব। কারণটা হচ্ছে লিখতে গেলে সহকারী লেখকের বা কস্টিউম ডিজাইনারের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সিনেমা করতে গেলে এই মানুষগুলোর প্রতিদিন প্রতিনিয়ত দরকার হতেই থাকবে। লিখতে গেলে যখন মননশীল শিল্পনির্দেশক পাবেন, যেহেতু আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নেই। ধরেন যদি পাঁচজন পেশাদার শিল্পনির্দেশক থাকত, তাহলে তাদের কাছে গেলে আমার কাজটা ঠিক করে দিত। আবার যদি কেউ একটা কাজের পেছনে দু-তিন বছর সময় দিতে পারে, নিয়মিত চর্চা করতে পারে তাহলে আবার সম্ভব। কিন্তু আমরা তো দেখি তরুণ নির্মাতারা তিন মাসের মধ্যেই অনেক কিছু হয়ে যেতে চায়।

রাফি হোসেন : আমার মনে হয় এটা আমাদেরও সমস্যা। আমাদের এখানে হয়তো খুব সহজেই নাম এবং কিছু অর্থও পাওয়া যায়।

অমিতাভ : জানি না সেটা সময়ের দাবি নাকি অন্যকিছু, কিন্তু আমার মনে আছে আপনি যখন আমাকে প্রডিউস করেছিলেন, তখন আমি মাত্র একটা কাজ করেছি। আপনি অনায়াসে করেছিলেন।

রাফি হোসেন : এখানে অমিতাভের প্রশংসা করছি বা নিজের প্রশংসা করছি সেটা কিন্তু না। সেই সময় তোমাকে একবারের জন্যও বলিনি এটা কর, ওইটা কর না। নিজের স্বাধীন মতো কাজ করার সুযোগ ছিল।

অমিতাভ : কাজটাতে কিন্তু আমরা সফলও হয়েছিলাম। যদিও কাজটা বড় কোনো কাজ ছিল না। একটা ভালো গল্প বলার চেষ্টা করেছি, গল্পটার মধ্যে একটা নতুনত্ব ছিল। রতনদার অসাধারণ লেখা।

রাফি হোসেন : আমরা সেটার জন্য একটা পুরস্কারও পেয়ে গেলাম।

অমিতাভ : আমার মনে হয় কেন আমরা একটা ছবি বানাতে চাই, কেন সিনেমায় আসতে চাই? বিষয়গুলো আমার কাছে পরিষ্কার না। ক্রিকেট খেলেই কি সাকিব আল হাসান হয়ে যেতে চাই, সিনেমা করেই মোস্তফা সরয়ার ফারুকী হয়ে যেতে চাই। এটা করলে কিন্তু হবে না।

রাফি হোসেন : এখন তো এটাই কারণ।

অমিতাভ : এটা করলে হবে না। নিজস্ব একটা চিন্তা আছে, ভাবনা আছে, সেটার প্রয়োগ যদি ঘটানো যায় তাহলে হবে।

রাফি হোসেন : একটু আগেই বলছিলাম। বেশি গুরুত্ব দিই তাদের, যারা নিজের গল্পটা নিজের মতো করে তৈরি করতে পারে।

অমিতাভ : আমার একটা ভাবনা, একটা চিন্তা আছে, খুব ভাবাচ্ছে। ভালো লেগেছে বা খুব খারাপ লেগেছে, এই খারাপ লাগাটা উপস্থাপন করতে চাই কোনো গল্প, কবিতায়, গানে বা সিনেমায়। আলো আর ছায়া ভালো লাগে। তাই সিনেমার মধ্যে এটা উপস্থাপন করতে চাই। এখানে কোন ক্যামেরা ব্যবহার করছি, কাকে নিচ্ছি, কোথায় চলবে গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমি গল্পটা বলে মানুষকে আনতে চাই। বর্তমানে অনেক মাধ্যম রয়েছে। কোনো বাজেট ছাড়াই দু’জন মিলে একটা ছবি বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড দিতে পারেন। যেমন দেখেন ভিলেজ রকস্টার। যার কোনো বাজেটই নেই। আবার নেটিফ্লিক্সের মতো বড় মাধ্যম। যখনই বড় কোনো মাধ্যম তৈরি হবে, সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট অনেক মাধ্যমও কিন্তু তৈরি হবে। এটি একটি বিরাট সম্ভাবনার জায়গা। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো শক্তিশালী এমন কোনো মাধ্যম তৈরি হয়নি।

রাফি হোসেন : বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা তিন ক্ষেত্রেই তুমি সফল। তুমি সফল তার কারণ আয়নাবাজি অনেক দর্শক গ্রহণ করেছে। তুমি একটু আগে বললে যে আমাদের দেশে সেই মাধ্যমগুলো তৈরি হলো না, আমার মনে হয় এর জন্য তোমরাও কিছুটা দায়ী। যে লগ্নি করবে তার লগ্নিটা তো ফেরত আনতে হবে।

অমিতাভ : কাজ তো হচ্ছেই, আমরা তো বসে নেই। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হলো বাংলাদেশের যারা বিনিয়োগকারী তারা বিষয়টা বুঝছে না। বাইরে থেকে বিনিয়োগকারী আসছে, তারা দেখছে এবং বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তারা বাংলাদেশে একটা বাজার তৈরি করে ফেলবে। আপনি একটা ওয়েব সিরিজ তৈরি করলেন, সেটা কোথায় রাখবেন, কীভাবে কখন মুক্তি দেবেন সেটাও কিন্তু একটা আর্ট। আমাদের সঠিক কলাকুশলীদের অভাব রয়েছে। এসব কারণে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।

রাফি হোসেন : তুমি ওয়েব সিরিজের কোনো কাজ করছ?

অমিতাভ : দুটো ওয়েব সিরিজ করলাম। যার একটা হলো ঢাকামেট্রো। আর অন্যটা কৃষনেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের। এছাড়া আরো চারটা ওয়েব সিরিজের কাজ করছি।

রাফি হোসেন : সবগুলোতেই তুমি প্রযোজক?

অমিতাভ : কোনোটাতে প্রযোজক আবার কোনোটাতে পরিচালক এ রকমভাবে আমরা কাজ করছি। যদি ভালো কোনো প্লাটফর্ম পাই নতুন গল্প নিয়ে আসব।

রাফি হোসেন : আমাদের এখানে একটা ভুল ধারণা আছে। সবাই মনে করেন সিনেমায় যিনি লগ্নি করেন তিনি প্রযোজক। প্রযোজক সম্পর্কে সঠিক ধারণাটা কী?

অমিতাভ : সিনেমার প্রযোজক একজন চাকরিজীবীও হতে পারেন। উনি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছেন আবার উনি একজন প্রযোজকও। কিন্তু এককভাবে উনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক। কীভাবে মালিক, তিনি স্ক্রিপ্ট নেয়ার পর তার লেখকদের দিয়ে উন্নতি করানোর পর, একজন পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে ছবিটার কতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে, কাজটা করা যাবে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে, তাদের সঙ্গে কখা বলা। বিনিয়োগটা হলো ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার মতো। প্রযোজনা এমন একটা চাকরি, যার কোনো টাকা না-ও থাকতে পারে। তার কাজ হলো সবাইকে এক ছাতার তলে নিয়ে আসা। যেটা পরিচালক অনেক সময় করতে পারেন না। আমাদের একটা ধারণা পরিচালকই সব। কিন্তু সারা বিশ্বে দেখা যায় একটা ভালো কাজের জন্য পরিচালক এবং প্রযোজক উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে অনেক তরুণ প্রযোজক আছেন, যাদের টাকা নেই কিন্তু তারা অনেক পরিচালক এবং বিনিয়োগকারী নিয়ে এসে কাজ করাচ্ছেন।

রাফি হোসেন : তোমার বিষয়ে আমি যতটুকু জানি, আয়নাবাজি ছবিটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে অমিতাভ আসলে এ ধরনের ছবি করতে চায় না। কতটা সত্য এটা।

অমিতাভ : জানি না কতটুকু সত্য। আপনাদের সঙ্গে ছোটবেলায় যখন আড্ডা দিতাম, বিভিন্ন আলোচনা হতো। আয়নাবাজি সে রকম ছবি না। কিন্তু যখন আয়নাবাজি করতে গেছি, তখন আমার মনে হয়েছে দর্শকদের কাছে হাজির হতে হলে, সিনেমা হলে মুক্তি দিতে হলে এ ধরনের ছবি নিয়ে হাজির হতে হবে। একটা ছবি নিয়ে ভাবছি।

এটা একটা সম্পূর্ণ বাংলা ছবি। যেটা আমার দ্বিতীয় ছবি হতে পারে। কারণ রিকশা গার্লের আগেও এটা মুক্তি পেতে পারে। জলদি এটা নিয়ে কাজ শুরু করব। এটা একেবারে আমার ব্যক্তিগত পুরনো জীবনের গল্প নিয়ে হবে। এটা জাজ প্রযোজনা করবে বলেছিল। একেবারে স্বল্প বাজেটের একটা ছবি। আমি আর আমার চাচাকে নিয়ে ছবিটার গল্প। খুব বেশি মানুষের কাছে টাকাও চাই না। কারণ এটার লগ্নি ফেরত না-ও আসতে পারে।

রাফি হোসেন : যখন আয়নাবাজির গল্পটা দেখো, তখন কী তোমার মনে হয়েছিল এই ছবিটা তুমি করবে?

অমিতাভ : গল্পটা আকর্ষণীয় ছিল। আমি একা মনে করলে তো হবে না। আমি, শাওন, আরো যারা ছিল সবারই মনে হয়েছিল ছবির গল্পটা বেশ আকর্ষণীয়। আবার আমরা কখনো চিন্তা করি বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি সফল হবে কিনা। গল্পটা সুন্দর সাজানো-গোছানো দেখেই আমি রাশেদ ছবিটা মজা করে বানাই।

রাফি হোসেন : এটা তোমার প্রথম ছবি। মূলধারার যেসব নায়ক-নায়িকা, তারাও ছবিতে ছিল না। তারপরও দর্শকরা ছবিটি গ্রহণ করল। তখন তোমার কী মনে হয়েছিল?

অমিতাভ : সেই মুহূর্তটা অনেক ভালো লেগেছিল। আর অয়নাবাজির মতো ছবি ভালো হওয়ার পেছনে শুধু আমারই যে একার অবদান ছিল তা নয়, এখানে অনেকের অবদান রয়েছে। অনমের লেখা চিত্রনাট্য, সংলাপ, রাশেদের চিত্রগ্রহণ, চিরকুট, হাবিব, অর্ণব, রিপনের সাউন্ড, আমাদের প্রযোজক আদিল, শাওন এরা সবাই নিজ নিজ জায়গায় অনেক মেধাবী। সবাই মিলেই তো একটা ভালো ছবি তৈরি করা সম্ভব।

রাফি হোসেন : সব ছবির ক্ষেত্রেই কি তাই?

অমিতাভ : অবশ্যই, কারণ এটা তো একটা দলগত কাজ। আমি সত্যজিৎ রায়ের কথাই বলি, তার তো কোনো তুলনাই নেই। তিনি একজন অসম্ভব মেধাবী মানুষ। তার সঙ্গে অন্য মেধাগুলো চিন্তা করেন, যেমন সূর্য মিত্র ছাড়া আপনি চারুলতাকে কল্পনা করতে পারবেন না। দুলাল দত্তের মতো সম্পাদকরা কাজ করে গেছে। তারা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে কতই না মেধাবী ছিল। তারা এতই মেধাবী যে, তাদের ছত্রছায়ায় থাকলে সাধারণরাও মেধাবী হয়ে ওঠে।

রাফি হোসেন : সত্যজিৎ রায়ের মতো এখনো আমরা দেখি। যারা ক্যামেরার পেছনে একটা গ্রুপ কাজ করে, তাদের দেখি অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তারা আগে যারা কাজ করেছিল তাদের নিয়েই কাজ করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে। ভালো বোঝাবুঝি থাকার কারণে কি এমনটা হয়?

অমিতাভ : একটা পশ্চিমা ছবি করার জন্য আপনি দশটা ঘোড়া কিনলেন। তাই এখন আপনার ঘোড়াগুলোকে কাজে লাগাতে হলে আপনাকে পরবর্তী সময়েও পশ্চিমা ছবিই করতে হবে।

রাফি হোসেন : অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিষয়টা জানতে চাচ্ছি। অনেকে হয়তো বলতে পারে আপনি সত্যজিৎকে নিয়ে বলার কে। তো একজন দর্শক হিসেবে যদি বলি তিনি উনাকে না নিয়ে অন্য কাউকে নিতে পারতেন।

অমিতাভ : আমার মনে হয় উনি যাদের দিয়ে কাজ করাতেন, তাদের সঙ্গে হয়তো উনার জুটি ভালো ছিল। ওদের সঙ্গে মননশীলটা ভালো হতো।

রাফি হোসেন : তোমারও কি এই রকম মনে হয়?

অমিতাভ : অবশ্যই। যাদের নিয়ে কাজ করলে আমার মননশীলটা ভালো হবে, তাদের নিয়েই কাজ করাটা বেশি স্বাছন্দ্যের। আমি তো কোনো নির্মাতাই না, একটামাত্র ছবিই বানিয়েছি। সত্যজিৎ রায়ের মতো বা অন্য নির্মাতাদের মতো নিয়মিত প্রতি বছর ছবি বানাতে পারতাম, তাহলে হয়তো নিজেকে একজন নির্মাতা হিসেবে দাবি করতে পারতাম।

রাফি হোসেন : তোমার কি মনে হয় না, দুই বছর পর পর ছোট-বড় যেকোনো বাজেটের ছবি বানিয়ে যাই?

অমিতাভ : ছবি বানাতে হবে বলে বানাতে চাই না।

রাফি হোসেন : এই তাড়নাটা বোধ কর কি?

অমিতাভ : হ্যাঁ, সেটা করি। আমাকে যদি কেউ বলে আমি বেতন দেব তুমি প্রতি মাসে আমার জন্য একটা করে ছবি বানাও। তাহলে আমি সেটাই করব।

রাফি হোসেন : তুমি এখন যে জায়গায় গেছো, তাতে তোমার তো এখন সম্ভব বেশি কাজ করা।

অমিতাভ : একদমই সম্ভব না। কারণ একটা ছবি করলে ছয়মাসের জন্য রুটি-রুজি বন্ধ। আমার কোম্পানির, আমার পরিবারের ভেতরের যে পরিবার তাদের সব রুটি-রুজি বন্ধ। আয়নাবাজি করে আমার একই ঘটনা ঘটেছে। রিকশা গার্লেও তাই। একটা সিনেমা করতে এক বছর সময় লাগে, কত টাকা তারা আমাকে পারিশ্রমিক দেবে। বাস্তবে এটা সম্ভব না। এটা হলিউড-বলিউডে সম্ভব। তাদের বাজেট অনেক বড়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে আপনি হিসাব করে দেখেন, আমাকে যদি সবচেয়ে বেশিও দেয়, তা-ও মাসে কত টাকা আসে?

রাফি হোসেন : এই সমস্যা থেকে সমাধানের উপায় কী?

অমিতাভ : যার যার সমাধান তার নিজের কাছে। আমার গল্প বলার ইচ্ছে হলে আমি গল্প বলব, সেটা যে মাধ্যমেই হোক। আর আমার কাছে গল্প বলার জন্য বাজেটটা কোনো বিষয়ই না। সেটা যেমনই হোক, আমার ভাবনার বিষয় না। আমি চাই যেকোনোভাবে গল্প হাজির করতে।

রাফি হোসেন : এখন আমরা দেখছি কিছু তরুণ নির্মাতার ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে মুক্তি পাচ্ছে, পুরস্কারও পাচ্ছে। কিন্তু তারা দেশে যে মূলধারার ছবি সেগুলোতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটার কারণ কী?

অমিতাভ : ব্যর্থ কেউ হয় না এটা শুধু একটা শব্দ। আমাদের দেশের মানুষ যে ভাষাটা বোঝে সেটা তো আর বাইরের লোকেরা বুঝবে না। কোনো আন্তর্জাতিক উৎসবের জন্য যখন তারা একটা ছবি করছে, তখন সেটা অন্তর্জাতিক ভাষাতেই করছে। যার ফলে আমাদের দেশের মানুষ সেটা নিচ্ছে না। আসলে সবাই কিন্তু ছবি করে ব্যবসার জন্যই। সেটা দেশে হোক কিংবা বাইরে। যখন আয়নাবাজি দেখতে বলাকা হলে গেলাম, আঠারোশ জন মানুষ ছবিটা দেখে চিৎকার করে উঠল। তারপর যখন আমি প্রজেকশন রুমে গেলাম, তখন সেখানকার এক লোক আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল সিনেমার সোনালি সময় আবার ফিরে এসেছে। এগুলো অনেক বড় পাওয়া। আমি কীভাবে ওই অনুভূতিগুলো এড়িয়ে যাব। দিন শেষে আমি যদি মানুষের কাছে বিনোদনই পৌঁছাতে না পারি, তাহলে কোনো সফলতা রইল না। মানুষ যদি আমার গল্পের সিনেমা দেখে, তাহলেই গল্প সার্থক।

রাফি হোসেন : যারা এ রকম শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাদের কি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করা একটু কঠিন হয়ে যায়? তোমার অভিজ্ঞতা থেকে শুনতে চাই।

অমিতাভ : কাজের জন্য আমার ব্যক্তিগত জীবন কখনো খারাপ হয়নি।

রাফি হোসেন : তোমার অভিজ্ঞতা থেকে বাস্তব জীবন সম্পর্ক প্রেম-ভালোবাসা এসব তুমি কীভাবে দেখো?

অমিতাভ : আমার কাছে মনে হয় বিভিন্ন সময় সম্পর্কে থাকা বা ভেঙে যাওয়ার মধ্যে এটা ঘটে যায়। যে কাজকর্মে থাকি এসব তৈরি হতে পারে। এটা দুটো মানুষের মননের ক্ষেত্রে হতে পারে। আমার মনে হয় না কাজের জন্য কোনো সম্পর্ক ভেঙে যায়। আমি যাদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম, সেটা প্রেমের বা বৈবাহিক বা আমার বন্ধু-বান্ধবকে একটা সম্পর্ক যে সময় দেয়া প্রয়োজন, সেটা আমি আমার কাজের জন্য হয়ত দিতে পারিনি। তার মানেই এই না যে কাজের জন্য সম্পর্কগুলো ভেঙে গেছে। সময় দিলেই যে একটা সম্পর্ক টিকে থাকবে সেটার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।

রাফি হোসেন : সেটা কি দু’জনের বোঝাবুঝির সমস্যার জন্য হতে পারে?

অমিতাভ : এটা শুধু এই পেশার জন্য না। আমি যদি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতাম, এটা হতে পারত।

রাফি হোসেন : যেকোনো ভাঙন মানুষকে কষ্ট দেয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে একটা নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে তুমি কী এখন অনেক বেশি সচেতন।

অমিতাভ : প্রতিটি ভাঙনই আমার কাছে অনেক যন্ত্রণাদায়ক। এখন তো একটু ভয় লাগেই, কারণ ভাঙনের যন্ত্রণাটা অনেক। এখন আমি যার সঙ্হে আছি তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া খুব ভালো। আমার চলার পথে আশপাশের এ মানুষগুলোর মাধ্যমেই আমি বেড়ে উঠি। তারা সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়।

রাফি হোসেন : শুধু নির্মাতা না, সব শিল্পীর জন্য এটা একটা অনুপ্রেরণা বলে তুমি মনে কর?

অমিতাভ : প্রেম অনেক সুন্দর একটা জিনিস। তাহলে সুন্দর জিনিসটা কেন আমি হারাব। প্রেম-ভালোবাসা কাজের ক্ষেত্রেও অনেক অনুপ্রেরনা জোগায়।

রাফি হোসেন : তোমার ভক্তদের জন্য কিছু বলার থাকলে বল?

অমিতাভ : দর্শকদের বলব আমাদের ভাষার ছবি আমাদের নিজেদের গল্পের ছবি হাজির করাই আমাদের উদ্দেশ্য। সফলতার পেছনে দৌড়ানোর একটা ব্যাপার আছে। আমাদের যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করা উচিত। তাতে সফলতা না-ও থাকতে পারে। কাজটা করে যেতে হবে। আপনারা হয়তো মনে করবেন বড় কথা বলছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে এটাই মনে হয় আমার কাজটা করে যাই। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা, আমি আমার দর্শক-ভক্তদের বলতে চাই, সামাজিক মাধ্যমের একটা চেহারা আছে, এটা কিন্তু নকল। ধরেন আমার নামে যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলোর মাধ্যমে আপনারা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ইদানীং কাজ থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছুর চর্চা দেখতে পাই। সামাজিক মাধ্যমের কোনো তথ্য আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আমার নাম দিয়ে যারা কথা বলছে, সেটা কিন্তু আমি না। অনলাইন মাধ্যমগুলো আমাদের যেমন সুবিধা দিচ্ছে, তেমন অসুবিধাতেও ফেলছে। তাই মাধ্যমগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করবেন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup