নতুন প্রেম মানেই একটা বই পড়ার শুরু- হাবিব ওয়াহিদ

অন্তরঙ্গ আড্ডায় উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ। আড্ডায় বসে অকপটে বলেছেন তার গানের জীবন, প্রেমের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, নতুন গান এবং আগামীদিনের গানের বাজার ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে। আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেন ছিলেন সেই একান্ত আড্ডার সূত্রধর। তারই অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য।

রাফি হোসেন : তোমাকে অনেক শুভেচ্ছা আমাদের সময় দেয়ার জন্য। প্রথমে তোমার যে নতুন গান প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো দিয়ে শুরু করি।

হাবিব ওয়াহিদ : অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার যে দুটো গান প্রকাশিত হয়েছে দুটো গান সম্পূর্ণ দুই রকমের। প্রথমটা নিয়ে বলি, গানটার নাম হচ্ছে ‘মন তুই’। গানের কথাগুলো এ রকম- আমার নিজের মনের সাথে মনের কথোপকথন। গানটি লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। গানটি গাওয়ার সময় এবং সুর করার সময় অনুভব করছিলাম, আমরা অনেক সময় অনেকের কথা শুনি যেমন আমাদের বন্ধু, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, আমাদের কাছের মানুষ- এ রকম আরো অনেকের। কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের মনের কথা শুনি না। নিজের মন যা বলে আমরা হয়তো তার বিপরীতে কাজটি করি। কিন্তু আমাদের সবার মাঝেই একটা মন আছে, ভেতরেই তার বসবাস। নিজের মনের একান্ত কিছু চাওয়া-পাওয়া থাকে। মনের এসব চাওয়া-পাওয়ার অনুভূতি থেকেই গানটি করেছি।

রাফি হোসেন : তোমার ভক্তরা কেমনভাবে নিয়েছে গানটা?

হাবিব : ভক্তদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। আমার চ্যানেলটির যাত্রা খুব বেশিদিন হয়নি। আস্তে আস্তে চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বাড়ছে। খুব খুশি হয়েছি সবকিছুই ভালোভাবে হচ্ছে।

রাফি হোসেন : যে গানটি ঈদে প্রকাশিত হয়েছে সেট সম্পর্কে বল?

হাবিব : ‘মনের কিনারায়’ শিরোনামের গানটি সিডি চয়েস থেকে ঈদে প্রকাশিত হয়েছে। এটি একটি গল্পকেন্দ্রিক গান। শ্রোতাদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।

রাফি হোসেন : মনের কিনারায় গানের ভিডিও নিয়ে বলো।

হাবিব : এটি একটি বাণিজ্যিক গান। বাণিজ্যিক গানের ভিডিও তৈরি করতে হলে যতটুকু পারব, তারচেয়ে হয়তো আমাকে বেশি কিছু করতে হবে। কিন্তু সেটা করি না। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমি শুধু সেটুকুই করি। স্ক্রিনে নিজেকে কোন চরিত্রে দেখব, আমাকে কোন চরিত্রটায় ভালো লাগবে, সেটা আমার মাথায় আগে আসে। তাই আমার মিউজিক ভিডিওগুলো নিজের মতো করেই করি। আব্বাও এসব বিষয়ে আমাকে বলে।

রাফি হোসেন : কী বলে তোমার আব্বা?

হাবিব : তুমি কেন বাণিজ্যিক গানগুলো আর একটু ভিন্নধারার কর না?

রাফি হোসেন : তোমার বাবাই তাহলে প্রধান পরীক্ষক। উনাকে সবসময় মনে হয়, এসব বিষয়ে বেশ সক্রিয়।

হাবিব : ঠিক পরীক্ষক না, জনগণের স্রোতে যেদিকে প্রবাহিত হয়, আব্বাও সবসময় সেদিকেই থাকে। আমি সেই রকমই। কিছু সৃষ্টি যদি বড় অংশের জনগণের জন্য না হয়ে থাকে। তাদের সংযোগ ঘটাতে না পারি, তাহলে কিন্তু ভালো কিছু করা সম্ভব না। আমরা তো দার্শনিকদের মতো বলতে পারি না যে, কেউ গ্রহণ করুক আর না-ই করুক, আমার কাজ আমার কাছেই মূল্যবান। আমার মনে হয় সব শ্রোতা যখন আমার কাজটি ভালোভাবে গ্রহণ করবে তখনই আমি সফল। সব সময় একটা গানের অডিওর ওপর বেশি গুরুত্ব দিই। আমার প্রথম পরিচয় হচ্ছে একজন সংগীতশিল্পী আমি। গানটাও মূলত শখের বশেই করা শুরু করি।

রাফি হোসেন : শুরুর দিকে তুমি তো মিউজিক কম্পোজ করতে। কোনটাতে বেশি আনন্দ পাও?

হাবিব : মিউজিক কম্পোজার হিসেবেই বেশি আনন্দ পাই। কিন্তু গায়ক হিসেবে আমার একটা আলাদা দর্শক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি থাকে তারা আমার কণ্ঠে গান শুনতে চাই। আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শ্রোতারা যদি আমার কণ্ঠে গান শুনতে চাই, তাহলে যারা গানটি বাজারজাত করবে তারা অবশ্যই বলবে গানটি আপনিই গান। যারা ভিডিওতে বিনিয়োগ করবে, সবাই চাই যে তাদের বিনিয়োগটা ফেরত আসুক। এই বছর থেকে নতুন এবং ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করছি। আমার ইউটিউব চ্যানেলে পড়শি ও লিজাকে নিয়ে গান করেছি। ইচ্ছে আছে সামনে আরো নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার। পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। পুরনো হোক বা নতুন হোক একজন শিল্পীকে দিয়ে গান করানোর পর যদি দেখি আমার কণ্ঠের গানের সমান অর্থ উঠে আসছে। তাহলে সেটাই বেশি পছন্দ করব। কারণ একজন সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রচুর জিঙ্গেলের কাজ করেছি। যার বেশিরভাগই অন্য শিল্পীদের গাওয়া।

রাফি হোসেন : তোমার জনপ্রিয় অনেক গান আছে, যে গানগুলো অন্য শিল্পীরা গেয়েছে।

হাবিব : অনেক বলব না। আমার নিজের গাওয়া গানগুলো বেশি করা হয়েছে ন্যান্সির সঙ্গে দ্বৈত। যেগুলো বেশিরভাগই সিনেমার জন্য করা। ন্যান্সি একজন অসাধারণ শিল্পী। ওর সঙ্গে একটা অডিও কেমিস্ট্রি আছে। এই কথাটা প্রচুর মানুষ বলেছে এবং আমিও বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারি। একজন সুরকার হিসেবে আমার মনে অনেক ধরনের সুর আসতে পারে। সবগুলোই যে আমার কণ্ঠে মানাবে এমন না। আমার কণ্ঠে যে সুরগুলো মানায় না, যার কণ্ঠে মানাবে বলে মনে করি তাকে দিয়ে কাজটি করাই।

রাফি হোসেন : ফোক গানগুলো একটু আলাদাভাবে রিমেক করার চিন্তা কীভাবে মাথায় এসেছিল?

হাবিব : এই বিষয়টা আমার মাথায় আসে লন্ডন যাওয়ার কারণে। যখন লন্ডন যাই তখন ইউটিউব, ফেসবুক, জিমেইল কিছুই ছিল না। ইন্টারনেট বলতে আমরা শুধু মেইলটাকেই বুঝতাম। এই রকম একটা সময়ে লন্ডন যাওয়ার পর স্বচোখে দেখতে পাই একটা মাল্টি কালচারাল জায়গা কেমন। বিভিন্ন দেশের মানুষ আসছে, একসঙ্গে থাকছে। তারা একে অপরের সংস্কৃতি একসঙ্গে সবাই উদযাপন করছে। লন্ডনে দেখা যতগুলো বাঙালি ছিল, তার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল সিলেটের। তাদের মুখেই স্থানীয় ফোক গানগুলো শুনি। তারা অন্তর থেকে এমনভাবে গানগুলো করে এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, যা সত্যিই খুব ভালো লাগে। এসব দেখেই ফোক গানের বিষয়টা আমার মাথায় আসে।

রাফি হোসেন : যখন গানগুলো করছিলে তখন কোনো দ্বিধা হয়েছিল, দর্শকরা গানগুলো শুনবে কি শুনবে না?

হাবিব : আমার মনে এটুকু বিশ্বাস ছিল যে, শ্রোতারা একেবারেই যে নেবে না সেটা না। গানগুলোর মধ্যে একটা সংযোগ ছিল। মূল গানের স্বাদটা, সেটা রেখে কাজগুলো করলে শ্রোতারা অবশ্যই শুনবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যে ফলাফল পেয়েছি, সত্যিই আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে।

রাফি হোসেন : তার পরেই কি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নিলে?

হাবিব : আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল দেশে ফিরে আসব। অ্যালবামটি দেশে আসার পরই মুক্তি পেয়েছিল। কখনো মনে হয়নি দেশের বাইরে থেকে যাব। দেশে থাকতেই বেশি পছন্দ করি।

রাফি হোসেন : গানকে পেশা হিসেবে নিলে, সেটা কী তোমার বাবাকে দেখে?

হাবিব : অবশ্যই। ছোটবেলা থেকেই বাবার গানের বিষয়গুলো লক্ষ্য করতাম। তারপরও খোদাপ্রদত্ত কিছু ব্যাপার ছিল, কারণ আমি কখনো কোথাও গান শিখিনি, নিজে নিজেই গান করতাম।

রাফি হোসেন : তোমার পরিবারেরই একজন শায়ান ভিন্ন ধরনের গান করেন। সেই গান তোমার কেমন লাগে?

হাবিব : শায়ানের গান অনেক অনেক ভালো লাগে। সে যে গানগুলো করে, সেটা একেবারে মন থেকে করে। ওর ভেতরে এমন মানসিকতা নেই যে, গানটা হিট হতেই হবে। নিজের মতো করে গান করে সে।

রাফি হোসেন : শায়ানের একটা নিজের অবস্থান তৈরি হয়েছে। নিজের অনেক শ্রোতা তৈরি হয়েছে।

হাবিব : অবশ্যই, পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের মানুষ রয়েছে, তাদের পছন্দ ভিন্ন রকমের। শায়ান যে ধরনের গান করে এমন অনেক মানুষ আছে যারা তার গানের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারে। একজন শিল্পী তখনই সার্থক হয়, যখন তার গানের সঙ্গে মানুষের সংযোগ ঘটে।

রাফি হোসেন : কিছু মানুষ আছে যারা সমালোচনা করে। এই বিষয়টাকে কীভাবে দেখো?

হাবিব : সব ক্ষেত্রেই সব সময় কিছু লোক বা গ্রুপ এই কাজটা করে থাকে। আগেও ছিল, আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিছু মানুষ আছে যাদের একটা বিষয় নিয়ে মন্তব্য না করলে কোথায় যেন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। তারা অনুভব করে হয়তো বিষয়টা নিয়ে মন্তব্য না করলে ভালো লাগবে না।

রাফি হোসেন : তুমি বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবেলা কর?

হাবিব : এই ধরনের পরিস্থিতিতে চুপ থাকি। যেখানে ৯৫% মানুষ আমার পক্ষে শুধু ৫% মানুষের কথা কি আমার কানে নেয়ার প্রয়োজন আছে? তাদের বেশি গুরুত্বই দিই না।

রাফি হোসেন : একটা ভালো কাজ সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু দর্শকদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

হাবিব : এই কথাটা একেবারে বিশ্বাস করি না। ভালো সৃষ্টি হলে গ্রহণযোগ্যতা পাবেই। সৃষ্টিটা হতে হবে সরল, যাতে মানুষ সেটা বুঝতে পারে। মনের ভেতর থেকে অনুভব করতে পারে।

রাফি হোসেন : তোমাকে যারা গান লিখে দেয়, তাদের কী সহজ ভাষায় গান লিখতে বল?

হাবিব : দুইভাবে গানটা করা হয়। একটা সুর থেকে কথা। অন্যটা কথা থেকে সুর।

রাফি হোসেন : তার মানে কথা নিয়ে যখন গান কর, তখন তোমার মনে অনুরণন সৃষ্টি হলেই সুর কর।

হাবিব : একদম তাই। আবার মনে যখন কোনো সুর আসে, গীতিকার সেটা অনুভব করতে পারলেই কথাগুলো লিখতে পারবে। কথা সরাসরি বোঝা যায় কিন্তু সুর সরাসরি বোঝা যায় না। এইটা মন থেকে গভীরভাবে অনুভব করার পর বোঝা যায়। যখন কোনো গীতিকারকে একটা সুর দিই, তখন তাকে বলি কোন অনুভব থেকে সুরটা করেছি। তখন গীতিকারের জন্য বিষয়টা সহজ হয়ে যায়।

রাফি হোসেন : কিছু গীতিকারের সঙ্গে ভালো একটা কেমিস্ট্রি আছে, যারা তোমার অনুভূতিগুলো সহজে বুঝতে পারে।

হাবিব : হ্যাঁ, সেটা তো আছেই।

রাফি হোসেন : তোমার কাছের মানুষ কারা? তুমি কি অনেক বন্ধু ভালোবাসো?

হাবিব : আমার কয়েকজন কাছের বন্ধু রয়েছে। যাদের সঙ্গে বড় হয়েছি, স্কুলে পড়েছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু আমার পরিবার।

রাফি হোসেন : পরিবারের কার সঙ্গে বেশি খোলামেলা সম্পর্ক বাবা নাকি মা?

হাবিব : দু’জনের সঙ্গেই আমার ভিন্ন সম্পর্ক। আমি মেলাতে পারি না।

রাফি হোসেন : আশা করি তাদের সঙ্গে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

হাবিব : অবশ্যই। অনেকেই বলেন এখনো মা নিয়ে কোনো গান করলেন না। তখন তাদের বলি, মা নিয়ে কোনো অনুভূতিই পাই না, কী করে গান করব। আমার মায়ের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক, মাঝে মাঝে ঝগড়াও করি। এখন গান করতে গিয়ে যদি ঝগড়াটার কথা মনে পড়ে যায়, তাহলে গান কেমন হবে বুঝতেই পারছেন।

রাফি হোসেন : তোমার মা কি কখনো বলেছে, তাকে নিয়ে গান করতে?

হাবিব : কোনোদিনও বলেনি। মায়ের সঙ্গে আমার অন্যরকম সম্পর্ক, বন্ধুর মতো। মায়ের সঙ্গে অনেক মজার মজার বিষয় নিয়ে গল্প হয়। আবার ঝগড়াও হয়।

রাফি হোসেন : বাবাকে নিয়ে কী কোনো গান করেছো?

হাবিব : মাকে নিয়েই কোনো গান করিনি, তাহলে বাবাকে নিয়ে কীভাবে করব? বাবা আমার সঙ্গে মিউজিক ভিডিওতে ছিলেন। সেখানে আমি ছিলাম একটা গ্যাংয়ের প্রধান আর বাবা ছিলেন অন্য একটার প্রধান। দুইদল একে অপরের সঙ্গে মারামারি করি। বাবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব রয়েছে। আমার মনে হয় সবারই এই রকম হওয়া উচিত। আমারও একটা ছেলে আছে, ওর সঙ্গেও আমার সম্পর্ক এমনই হোক এটা চাই।

রাফি হোসেন : স্বামী বা প্রেমিক হিসেবে তুমি নিজেকে কীভাবে দেখ?

হাবিব : একটা প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ করেই হয়ে যায়। সম্পর্কে অনেক বেশি আশা-কল্পনা লুকিয়ে থাকে। প্রথমদিন থেকেই যে এগুলো বুঝি এমন কিন্তু না। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা হয়। আমি যে সবকিছু জানার পর প্রেম করতে গেছি সেটা কিন্তু না, মেয়েটাও কিন্তু তাই। একটা ছেলে-মেয়ের প্রেম শুরু হওয়া মানে একটা বই পড়তে শুরু করা। একের পর এক নতুন অধ্যায় আসবে কিন্তু তারা জানে না যে সামনে কী আছে। এটা তো তাদের দোষ না। দোষ কখন হবে যখন বইটা পড়ে শেষ করার পরও আবার ভুল করি। প্রেম করার সময় যেটুকু দিতে পারব না। আমার দ্বারা সম্ভব না তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছি। এটা মেয়েটার ক্ষেত্রেও হয়। সবসময় চেষ্টা করেছি আমার জন্য একটা সম্পর্কে যতটুকু দরকার আমার ক্ষমতার মধ্যে তার বেশি কিছুই করতে পারব না। এর জন্যই দেখা গেছে দিনের শেষে সম্পর্ক আর কাজ করে না।

রাফি হোসেন : কেন এমনটা হয়?

হাবিব : এমন কিছু বলব না যাতে করে মেয়েটা ভেবে বসে তার জন্য আমার দুনিয়াটা উজাড় করে দেব। এই বিষয়টা বোঝার পরও যদি সে ধরে বসে থাকে, তাহলে আমার কোনো দোষ নেই। একটা সম্পর্কে নিজের আবেগটা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি।

রাফি হোসেন : তুমি কি এখন পরবর্তী সম্পর্কের জন্য তৈরি? তুমি কী এখন সিঙ্গেল?

হাবিব : এই বিষয়টা গোপন রাখতে চাই। কারণ যদি বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দিই, তাহলে আমার গোপনীয়তা বলে কিছুই থাকল না। তাই এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।

রাফি হোসেন : তুমি কি একজন সুখি মানুষ?

হাবিব : আমি এখন আসলেই অনেক সুখি। গান করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে সুখের। অনেকে আমাকে বলে আপনি তো ভালো মানুষ না। আপনার কোনো সম্পর্কই টেকে না। একজন সুরস্রষ্টা তার সুর কিন্তু একেবারে অন্তরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। অন্তরেই যদি দাগ থাকে, তাহলে কীভাবে ভালো কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। আমি যদি সুরই সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে মানুষ কী বলল সেটা শোনার আমার কোনো সময়ই থাকবে না। ওই দুঃখেই মরে যাব, আমার ভেতর থেকে আর সুরই বেরোচ্ছে না। বেঁচে থেকে আর কী লাভ? যতক্ষণ আমার ভেতর থেকে সুর তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ আমি নিশ্চিন্ত। কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।

রাফি হোসেন : আমরা এখন এটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। গানটাও এখন শোনার চেয়ে বেশি দেখার বিষয় হয়ে যাচ্ছে। আগে সিডি ক্যাসেট, এগুলোর মাধ্যমে মানুষ গান শুনত। এখন ফেসবুক-ইউটিউবের মাধ্যমে শুনছে, দেখছে। এই বিষয়ে কী বলবে?

হাবিব : আন্তর্জাতিকভাবে ইউটিউবের পাশাপাশি শুধু গান শোনার জন্য কিন্তু অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে যেমন : সাউন্ড ক্লাউড, অ্যাপেল মিউজিক, আই মিউজিক ইত্যাদি। আমাদের দেশে বিস্তরভাবে এগুলো এখনো চালু হয়নি। তবে এগুলো নিয়ে কাজ চলছে ফোন কোম্পানিগুলোর যে অ্যাপ ডেভেলপাররা রয়েছে, তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে। এগুলো যখন মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, তখন গানের জন্য একটা ভালো দিক হবে। গান হলো শোনার বিষয়। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিই যখন ভিডিও দেখার হয়ে গেছে মাঝে মাঝে গানের ভিডিও বানানো হোক। কিন্তু সব গানেরই ভিডিও বানানো তো ঠিক না। বছরে ১০টা গান বের হলো ৪টার ভিডিও বানানো হলো বাকি ৬টা অডিও রাখা হলো তাহলে খারাপ কী?

রাফি হোসেন : গানের জগতে তোমার একটা শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে নতুনদের জন্য তোমার কী উপদেশ?

হাবিব : অবশ্যই নতুনদের জন্য বিষয়টা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রথমে তারা ভালো কোনো প্লাটফর্ম পায় না। বড় বাজেটের কোনো ভিডিও তৈরি করা হয় না। তাদের কেউ প্রমোট করে না। ইউটিউবের কল্যাণেই অনেকে পরিচিতি পেয়ে যাচ্ছে। ভালো কাজ করলে তাকে কেউ আটকাতে পারবে না। একটু সময় লাগবে কিন্তু ঠিকই সে ওপরে উঠে যাবে।

রাফি হোসেন : তোমার সঙ্গে কথা বলে আমার খুব ভালো লাগল। তোমার ভক্তদের জন্য কিছু বল।

হাবিব : আপনারা সবাই ভালো থাকুন, হাসি-খুশি থাকুন, শান্তিতে থাকুন। এটাই কামনা।

অনুলিখন : রওনাক ফেরদৌস

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup