জেন্টস হেয়ার কাট

আধুনিক সময়ে এসে সব মানুষই নিজেকে সবার থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। এ কারণে সবারই একটা নিজস্ব ফ্যাশন স্টাইল রয়েছে। এসব আবার নির্ভর করে প্রত্যেকের রুচির ওপর। বর্তমানে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ চুলের স্টাইল। ছেলেরাও এখন চুলের স্টাইল নিয়ে বেশ সচেতন। কেউ ছোট চুল রাখতে পছন্দ করেন। আবার কেউ বড় চুলেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে চুলের স্টাইল অনেকটা নির্ভর করে নিজের মুখের গড়নের ওপর। সব ধরনের চুলের স্টাইল যে সবাইকে মানাবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই নিজের মুখমণ্ডল, শরীরের গড়ন ও পেশা- এগুলোর ওপর নির্ভর করেই চুলের স্টাইল করা উচিত।

চুলের ফ্যাশন বা হেয়ার স্টাইল নিয়ে কথা হয় কাট অ্যান্ড কুল স্যালনের স্বত্বাধিকারী জাভেদ হীরার সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোর ও তরুণদের কাছে শর্ট কাট হেয়ার স্টাইল খুবই প্রিয়। তিন বছর ধরে এই স্টাইলটাই বেশি চলছে। এর বিশেষ কারণ হলো, বাবা-মা বা টিচাররা এই কাটের জন্য রাগ করেন না। কাটটি এসেছে লন্ডন থেকে। মূলত এটা সোলজার কাট।

গোলাকার মুখের জন্য চুলের স্টাইল

মুখের গঠন গোলাকার হলে বেশি লম্বা চুলে ভালো দেখাবে না। তবে সামনের দিকে কিছুটা বড় থাকলেই ভালো। তাহলে চুল আঁচড়ে কপালের ওপরে তুলে রাখলে মুখ আরো আকর্ষণীয় দেখায়। গোল আকৃতির মুখে চুল যদি সোজা হয়, তাহলে পেছন দিক থেকে দু’পাশ কাটতে হবে ছোট করে। আর সামনের দিকে তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা করে কাটতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যিনি আপনার চুল কাটবেন, তার সঙ্গে আলাপ করে কপালের ওপর দিকের চুলগুলোর উচ্চতা বুঝে ছেঁটে নিন। চুল ঢেউ-খেলানো হলে খানিকটা লম্বা রাখা উচিত। এ ধরনের চুল পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা থাকলে মুখের আদলের সঙ্গে ভালো লাগবে। এ ধরনের চুলের সামনের দিকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ঠিক রাখতে বাইরে যাওয়ার আগে সি সল্ট স্প্রে (একধরনের চুলের স্প্রে) বা হেয়ার স্প্রে করে নিতে পারেন। গোলাকার মুখে চুল যদি ঘন বা কোঁকড়ানো হয়, তাহলে যিনি আপনার চুল কাটবেন, তার সঙ্গে কথা বলে খানিকটা লম্বা চুলেই ঝুঁকে পড়ুন। কোঁকড়া চুলের সারা মাথায় লম্বা ভাবটা খারাপ লাগবে না।

ডিম্বাকার মুখের জন্য যেমন স্টাইল

যাদের মুখের গঠন ডিম্বাকার, তাদের চুলে সাধারণত সব ধরনের ছাঁটই মানানসই হতে পারে। তবুও বেশি নিরীক্ষা চালানোর দরকার নেই। তাহলে পুরো বিষয়টাই তালগোল পাকিয়ে যেতে পারে। তাই এই পরামর্শগুলো মেনে চুল ছেঁটে দেখতে পারেন, খারাপ লাগবে না আশা করা যায়। ডিম্বাকার মুখে সোজা চুল হলে ওপরের দিকে কিছুটা ছাড় দিতে পারেন। মাথার ওপরের চুল একটু লম্বা রাখা যায়। এর সঙ্গে মিল রেখে চারপাশে খানিকটা ছোট করে নিন। কানের দু’দিকে লেয়ার না রেখে স্বাভাবিকভাবে কেটে নিতে পারেন। বাইরে যাওয়ার আগে চুল ঠিকঠাক করে নিতে পারেন চুলের ঘনত্ব ও বাড়বাড়ন্ত দেখে।

মুখের গঠন চৌকো হলে

যাদের মুখের গঠন চৌকো আকৃতির, তাদের চুলের কাট ছোট হলেই ভালো। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চুলের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাদের চুল সোজা, তারা চুলের ওপরের অংশ কিছুটা বড় রাখতে পারেন এবং পেছনে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে ছোট করে নিতে পারেন। এই স্টাইলে চুল কাটালে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির পাশাপাশি চুলের কাটও ঠিক থাকবে অনেক দিন। একই আকৃতির মুখের লোকটির চুল যদি ঢেউ খেলানো হয়, সে ক্ষেত্রে চুল কাটার সময় ঢেউ খেলানো স্বাভাবিক ধরনটা রেখে দু’পাশ দিয়ে অনেকটা ট্রিম করে নিলেই ভালো দেখাবে। যাদের চুল ঘন আর কোঁকড়ানো, তারাও বদলে নিতে পারেন স্টাইল। এমন চুল ওপর থেকে ছোট করে কাটলেও ভালো দেখাবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হবে চুলের ধরন বা স্বভাব ঠিক রেখে পেছনে ও দুই পাশ ছেঁটে নেয়া। ট্রিম বাদে কাঁচি ব্যবহার করে এই চুলগুলো সতর্কতার সঙ্গে খাটো করতে পারেন। এই ধরনের চুলের জন্য ওপর-নিচ- সব দিকেই এক উচ্চতায় ছেঁটে নিন। কানের পাশেও খুব বেশি ছোট না করে সমান্তরাল ভাব রাখুন।

এখন জেনে নিন এই সময়ের বেশকিছু জনপ্রিয় স্টাইলের চুলের কাটের কথা-

শর্ট কাট : এই স্টাইল সবচেয়ে প্রিয় কিশোর ও তরুণদের কাছে। সব দিকের চুলই ছোট করে কেটে হেয়ার জেল দিয়ে স্টাইল করা যায়। ফলে এটিই এখন জনপ্রিয় কাট। একে অনেকে কক কাট বলে, আবার দেশের বাইরে এটা আন্ডার কাট নামে পরিচিত।

ক্ল্যাসিক কাট : চুলের কাটে এটি পুরনো স্টাইল। কাজের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাকের সঙ্গে এটি সবচেয়ে ভালো স্টাইল। এই স্টাইলে চুলের একদিকে সিঁথি করে আঁচড়ানো হয়। মাঝবয়সী ছেলেদের এই স্টাইল চেহারায় মার্জিত একটা লুক এনে দেবে।

ফেড কাট : এই স্টাইলে পেছনে ও কানের ওপরে চুল একদম থাকেই না বলা চলে। কানের কমপক্ষে এক ইঞ্চি ওপর থেকে আর পেছনে মাথার অর্ধেক ওপর থেকে কাটা শুরু হয়।

ক্রু কাট : মাথার পেছনের দিকে ও পাশের চুলগুলো ট্রিম করে কাটা হয়। আর সেখান থেকে ওপরের দিকে ক্রমান্বয়ে চুল বড় ও কিছুটা খাড়া থাকে। এই স্টাইলটাও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

বাজ কাট : যারা খুব খেলা প্রিয়, এই স্টাইল তাদের কাছে পরিচিত। খেলোয়াড় ও সৈনিকদের মধ্যে এই স্টাইল বেশি জনপ্রিয়। এই কাটে চুল ট্রিমার মেশিনে কাটা হয়। চুলের দৈর্ঘ্য থাকে এক ইঞ্চির চার ভাগের এক ভাগ। গোসলের পরও এই চুল আঁচড়ানোর দরকার পড়ে না।

লেয়ার স্পাইক : চুলের নানা ধরনের কাটের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় লেয়ার স্পাইক। এই স্টাইলের বিশেষত্ব হলো- কপালের ওপরের চুল ছোট করে স্পাইক রাখা। মাথার ওপরের দিকের চুল তুলনামূলক বড় হবে। অর্থাৎ সামনের চুল খুব ছোটও না আবার খুব বড়ও না। তবে পেছনের দিকে লেয়ার স্টাইল থাকতেই হবে।

ইমো সুইপ : স্টাইলটি সাধারণত কমবয়সী ক্যাজুয়ালের জন্য বেস্ট। এজন্য মাঝারি লম্বা চুল থাকা প্রয়োজন। ইমো স্টাইলটির বিশেষত্ব হলো চুলের ছাঁট সম্পূর্ণ এলেমেলো করে রাখা। তবে সামনের চুল কিছুটা বড় থাকবে। আর মাথার পেছনের চুল স্পাইক স্টাইলে ছোট করে রাখতে হয়। সামনে এবং কানের পাশের বড় চুলগুলো পুরো মুখটিকে ঢেকে দেয়। মূলত এটিই হলো ক্যাজুয়াল ফ্যাশনের ইমো সুইপ স্টাইল।

লম্বা চুলের স্টাইল : ঘন লম্বা চুল অনেকেরই পছন্দ। মাথার চুল লম্বা হলে দুই কাঁধের ওপর ছড়িয়ে নানা আঙ্গিকে বহু স্টাইল করতে পারবেন অনায়াসেই। এই চুলে সাধারণত বিভিন্নভাবে স্টাইল করে রাখা যায়। চুল সোজা কিংবা কোঁকড়ানো যা-ই হোক না কেন, ফ্যাশনে কিন্তু ভিন্নতা এনে দেয় লম্বা চুল। লম্বা চুলে পনিটেল করে রাখলেও মানায়। আবার কিছুটা চুল খোলা রেখে অল্প চুল নিয়ে এলোমেলো ঝুঁটিও করা যায়।

কোথায় কাটাবেন : পারসোনা রতন’স জেন্টস পার্লার, নেক্সাস হেয়ার ডিজাইন, ক্রেজ জেন্টস পার্লার, রেজর্স এন সিজর্স ও জনসন বিউটি কেয়ার।

কাটিং খরচ : ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় কাটাতে পারবেন এ ধরনের যেকোনো স্টাইলের চুল। কালারের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup