বন্ধুত্ব হতে পারে ছেলে-মেয়েতে

 

স্কুলজীবনের শুরু থেকে অনেকের জীবনে ঘটে যাওয়া নতুন অভিজ্ঞতার নাম বন্ধুত্ব। পরিবারের বাইরে যার হাতে হাত রেখে অচেনা স্থানে চলে যাওয়া যায় সেই তো বন্ধু। জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যে যেখানেই থাক না কেন, চলার পথে বন্ধুত্ব নামের এই পাথেয়টির তুলনা বোধ হয় আর কিছুর সঙ্গেই চলে না। এ এমনই বিষয়, যেন কিছু না থাকলেও বন্ধুত্ব থাকলে চলে। আবার সব থাকলেও বন্ধুত্ব ছাড়া চলে না!

বন্ধু বা বন্ধুত্ব যা-ই বলি না কেন, জীবনে চলার ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে একজন বন্ধুকে তো পাশে চাই-ই চাই। হতে পারে সেই বন্ধুটা মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি, মামা-মামি, চাচা-চাচি, খালা-খালু, ফুফা-ফুফি, কাজিন, আত্মীয়-স্বজন কিংবা অন্য কেউ।

কিন্তু এই বন্ধুত্ব কি একটি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে হতে পারে? যদি হয় তা কি তবে শুধুই বন্ধুত্ব নাকি অন্য কিছু। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি উদ্ধৃতিতে বলেছিলেন, ‘ছেলে ও মেয়ে বন্ধু হতে পারে কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর নাহয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তারা পড়বেই।’ শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, ‘একজন ছেলে কখনো একজন মেয়ের বন্ধু হতে পারে না, কারণ এখানে আবেগ আছে, দৈহিক আকাক্সক্ষা আছে।’ একই কথা বলেছেন আইরিশ কবি Oscar Wilde, ‘নারী এবং পুরুষের মাঝে কেবলই বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অসম্ভব, যা থাকতে পারে তা হলো আকাক্সক্ষা, দুর্বলতা, ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা।’ ছেলে-মেয়ের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের মতামত-

 

পূজা মহন্ত

সংগীত বিভাগ (মাস্টার্স)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পৃথিবীতে যতগুলো সম্পর্ক আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক হচ্ছে বন্ধুত্ব। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে মা-বাবার সম্পর্ককে রেখে কীভাবে বন্ধুত্বকে বলতে পারি! সেক্ষেত্রে বলতেই হয় বন্ধুত্ব এমন একটা সম্পর্ক, যা সবার সঙ্গে গড়ে ওঠাটা জরুরি এবং গড়েও ওঠে। বন্ধুত্ব অনেক রকম হতে পারে যেমন- মায়ের সঙ্গে, বাবার সঙ্গে, ভাই, বোন কিংবা সমবয়সী ছেলে-মেয়ের মধ্যে। অনেকের ধারণা বন্ধুত্ব পরিবর্তনশীল। কিন্তু আমার ধারণা বন্ধুত্ব সবসময় একইরকম। যেটা সত্যিকারের বন্ধুত্ব, সেখানে পরিবর্তন আসবে না কোনোদিন। যদি আসে তবে সেটা কখনোই বন্ধুত্ব ছিল না। স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আজকাল বন্ধুত্ব বিষয়টা অনেকটাই সস্তা হয়ে গেছে। একটা মেয়ের সঙ্গে মেয়ের বন্ধুত্ব কিংবা একটা ছেলের সঙ্গে একটা মেয়ের বন্ধুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো অনেক কারণ রয়েছে তাদের কাছে। আমিও তার বাইরে নই! তবে আমি বোধহয় একটু বড় পরিসরে এটাকে নিয়ে ভাবতে পারি যে, ‘কেন হচ্ছে এমনটা!’ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষের সারাদিনের অসংখ্য কাজের মধ্যে অন্যতম একটা কাজ হলো ফেসবুকিং কিংবা সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমগুলো। এর ফলে বন্ধুত্ব বিষয়টা চলে গেছে ভার্চুয়ালি। সামনাসামনি যতটা আড্ডা হচ্ছে, তার চেয়ে অনলাইনে চ্যাটিং কিংবা ভিডিও কল কিংবা অডিও কলে কথা চালাচালি আড্ডা-গাড্ডা দেয়াটাকেই সবাই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিংবা একসঙ্গে আড্ডা দিতে বসলে ‘চল দোস্ত একটা সেলফি তুলি মাই ডে দেব!’ এ রকম একটা টেনডেন্সি থাকায় সত্যিকারের যে গভীরতা সেটা সত্যি একটা কোয়ালিটি সময় অতিবাহিত করছে কিনা তা বোঝা মুশকিল। ফলে বাড়ছে দূরত্ব আর বন্ধুরা হয়ে উঠছে তথাকথিত সাপ!

আবার যদি দেখতে যাই একটা ছেলে আর একটা মেয়ের বন্ধুত্ব, তবে আগের মতো এই বিষয়টি আর ট্যাবু হয়ে নেই। ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্বকে বেশিরভাগ পরিবারই স্বাভাবিকভাবে নিতে শিখেছে। তারপরও দেখা যায় একটা ছেলে একটা মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে চিন্তাই করতে পারি না। এর জন্যও হয়তো আমরা তরুণ সমাজও কিছুটা দায়ী। আমরা জানি, আমাদের দেশে কিছু বিষয় এখনো ট্যাবু আর তা হলো রাস্তাঘাটে চুমু খাওয়া কিংবা একটা ছেলে-মেয়ের অবাধ প্রেম। এটাকে আমরা অশ্লীলতার চোখেই দেখি। বলে নেয়া ভালো, আমি প্রেমিক-প্রেমিকার চুমু খাওয়াকে কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তারপরও হয়তো আমার চোখে যেটা প্রেম আমার বাবা-মার চোখে সেটা বেয়াদবি। এটা তাদের দোষ না, এটা জেনারেশন গ্যাপ। বর্তমানে ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস’ এই টাইপের নতুন নতুন কিছু টার্ম শুনতে পাওয়া যায়। এই কথাগুলো বড় আকার ধারণ করায় বন্ধুত্বটাকে বন্ধুত্বের মতো করে দেখতে পারে না অনেকেই।

বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক, যা প্রতিটি সম্পর্কের ভিত্তি। বন্ধুত্ব না থাকলে একটা সম্পর্ক কখনোই শক্ত হয়ে উঠতে পারে না। স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন সব সম্পর্কের একটা ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব।

 

নুসরাত জাহান

ইংরেজি বিভাগ

অনার্স (প্রথম বর্ষ)

কুমিল্লা মহিলা সরকারি কলেজ

বন্ধুত্ব এক অসীম সম্পর্কের নাম। যার বিশালতা বা গভীরতা অপরিমেয়। অন্ধ বিশ্বাসে যার হাতে হাত রেখে পথচলা যায় সেই তো বন্ধু। বন্ধু একটি সম্পর্ক, একটি প্রেম, একটি ভালোবাসা আর একটি আবেগের নাম। যে সম্পর্কের মাঝে থাকবে দুটি সমমনা মানুষ। সেখানে হতে পারে দুটি ছেলে, দুটি মেয়ে কিংবা ছেলে-মেয়ে উভয়ই।

জাতি হিসেবে আমরা যেমন নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ-শিশু সবাইকে নিয়েই পুরো মনুষ্যজাতিকে একসঙ্গে চিন্তা করে থাকি। তবে বন্ধুত্বের বেলায় কেন মানুষ হিসেবে চিন্তা করতে পারি না। একই লিঙ্গের দুটি মানুষের সম্পর্ক যদি বন্ধুত্বের ঠিকানা পেতে পারে, বিপরীত লিঙ্গের বেলায় কেন উঠবে প্রশ্নের আঙুল। একটি ছেলে এবং মেয়ের প্রকৃত বন্ধুত্বের কাছে অনেক সময় হার মানতে হয় সমগোত্রীয় বা সমলিঙ্গের তথাকথিত বন্ধুত্বকে। তবে হ্যাঁ, ছেলে-মেয়ের ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেক সময় প্রণয়ে রূপ দান করে কিন্তু সেখানে থাকে না কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ কিংবা ইচ্ছাহীনতা। এক চিলতে বিশ্বাসের ওপর ভর করেই নিজেকে অন্যের মাঝে নির্ভাবনায় সঁপে দেয়। ছেলে-মেয়ের সম্পর্কের বেলায় একজন প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার চেয়ে একটি প্রকৃত বন্ধুর সম্পর্ক থাকে সবার ঊর্ধ্বে। যদিও বন্ধুত্বের মাঝে একের প্রতি অন্যের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়, তবুও সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে দুর্বলতা চোখের কোণের জল দিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ফেলে।

বন্ধুর বিকল্প হতে পারে শুধুই বন্ধু। হোক সে বন্ধুত্ব ছেলেতে, মেয়েতে বা উভয়ের মাঝে। সংকীর্ণভাবে আমরা যেন সেই সম্পর্ককে শ্রেণি কিংবা লিঙ্গ বৈষমে ফেলে না দিই।

 

ওয়াহিদুর রহমান

বাংলা বিভাগ (চতুর্থ বর্ষ)

তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

বন্ধু বলতে আমাদের সমাজে একটা ছেলে আরেকটা ছেলের সঙ্গে, একটা মেয়ে আরেকটা মেয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক ভাবের আদান-প্রদান অথবা একে অন্যের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া কিংবা এগিয়ে আসাকে বুঝি। এ চিন্তাধারা সুদূর অতীত থেকেই চলছে। যেমন একটা ছেলের বন্ধু একটা ছেলেকেই কল্পনা করা হয়, পক্ষান্তরে একটা মেয়ের বন্ধু একটা মেয়েকেই কল্পনা করা হয়। কিন্তু কেন এই বৈষম্য? মানুষ অথচ ভিন্ন লিঙ্গ হওয়ার কারণে পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হতে পারছে না। এর প্রধান অন্তরায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।

একটা পরিবারের দুই ভাই-বোনের মধ্যে যদি বন্ধুসুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হতে পারে, তাহলে কেন ভিন্ন পরিবারের একটা মেয়ে তার বোনের জায়গায় ভালো বন্ধু হতে পারবে না?

সমাজ বলবে ভিন্ন লিঙ্গের একটা মানুষ বন্ধু হয় কীভাব? আমি বলব পরিবারের বোনটি যদি ভালো বন্ধু হতে পারে, তাহলে বাইরের একটা মেয়েকে ভালো বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে দোষ কী? আসলে আমাদের সমাজ এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে দোষারোপ করেইবা লাভ কী? কারণ আদিকাল থেকেই আমাদের সমাজটা আদর্শচ্যুত হয়ে গেছে। সমাজ তার সামাজিক নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছে। কণ্টকাকীর্ণ এ সামাজিক অবস্থার কারণে মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী পাচার, সমাজের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যার কারণে একটা মেয়ে একটা ছেলেকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে উৎকণ্ঠা বোধ করে। অনৈতিকতা হরহামেশাই সয়লাব হওয়ার কারণে সমাজ ছেলে আর মেয়ে দুজন পরস্পর পরস্পরের ভালো বন্ধু, এটাকে মেনে নিতে পারে না।

যা সমাজ নয় আমাদের ওই কৃতকর্মের ফসল। একজন ভালো বন্ধু নির্বাচিত হয় কীভাবে? পরস্পরের আস্থা এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই একটা সুন্দর বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। আর এই বন্ধুত্বের নিবিড়তা তখনই গভীরতা লাভ করে, যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি আস্থার দিক থেকে একচুলও না নড়ে। এমন গভীরতম বন্ধুত্ব থেকে প্রায়ই প্রণয়ও হয়ে থাকে। কারণ ভালো বন্ধুকে ঘরনী করতে পারলে লাভ বৈ ক্ষতি নেই। কারণ একজন আদর্শ ভালো মেয়ে বন্ধু হতে পারে একজন আদর্শ স্ত্রী। পক্ষান্তরে একটা আদর্শ ছেলে বন্ধু হতে পারে আদর্শ স্বামী। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দু’জন পরস্পর বন্ধু হওয়াটা দোষের কিছু নয়। বরং আদর্শ এবং সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। ছেলে-মেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সুসংহত করে। নারী-পুরুষের লিঙ্গ বৈষম্য দূরীভূত হয়।

নারী-পুরুষ একতালে এগিয়ে চলে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে। অতএব আমরা বলতেই পারি, একটি বৈষম্যহীন উন্নয়নশীল সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে ছেলে আর একটি মেয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দোষের আকর নয়। বরং এই সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ার যষ্টি।

 

আলমগীর সাগর

বিএ (অনার্স)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

বন্ধুত্ব শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়। বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক যেখানে হাসা যায়, কাঁদা যায়, মান-অভিমানের খেলা চলে, চলে খুনসুটি, কখনো ঈর্ষা, কখনো প্রতিহিংসা, প্রতিযোগিতা, ভালো লাগা, ভালো রাখা এবং দিন শেষে বন্ধুর স্বার্থ রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রাখা। সব মিলিয়ে বন্ধুত্বের একটি সম্পর্ক মানে পাঁচফোড়ন। সম্পর্কের সব উপাদান সংমিশ্রিত একটি সম্পর্ক। সব সম্পর্কের ওপর হলো বন্ধুত্বের সম্পর্ক। কেননা একজন ভালো বাবা অথবা মা হতে হলে সন্তানের একজন ভালো বন্ধু হতে হয়, একজন ভালো ভাই অথবা বোন হতে হলে থাকতে হয় ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তদুপরি একজন ভালো স্বামী বা স্ত্রী হতে হলেও দরকার ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক। গভীর বন্ধুত্ব থেকে হতে পারে ভালোবাসার সম্পর্ক। যে ভালোবাসার সম্পর্কে বন্ধুত্ব নেই, সে ভালোবাসা ভালো হতে পারে না। সম্পর্কের দৃঢ়তা মানেই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বে বয়সের কোনো বিভেদ নেই। সব বয়সের সঙ্গেই বন্ধুত্ব বিস্তার করা যায়। সুদৃঢ় এক সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যদি হয় বন্ধুত্ব থেকে, তবে সেই সম্পর্ক সবার ওপরে। বন্ধুত্বে যেমন বয়সের বা অন্য যেকোনো সম্পর্কের কোনো দেয়াল নেই, তেমনি দেয়াল থাকতে পারে না ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্বেও। তবে আমাদের সমাজে এই ক্ষেত্রে বেশ বড় রকমের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়। গুটিকয়েক উচ্চবিত্ত পরিবারে ছেলে আর মেয়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখা হলেও বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এই দৃষ্টিভঙ্গির অবস্থা ভীষণ শোচনীয়। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি মেয়ের সঙ্গে একটি ছেলের বন্ধুত্ব হলে সমাজ তা ভালো চোখে দেখে না। সমাজের এই সামাজিকতা রক্ষায় পরিবারের পূজনীয়রাও এই ব্যাপারটিকে ভালো চোখে দেখেন না। প্রকৃত অর্থে বন্ধুত্বে কোনো বৈপরীত্য থাকতে পারে না। কেননা বলা যায় না কোন বন্ধুত্বের সম্পর্কটি কত সুদূরপ্রসারিত হবে। ছেলে আর মেয়ের মাঝে গড়ে ওঠা একটি ভালো বন্ধুত্ব রূপ নিতে পারে একটি ভালোবাসার সম্পর্কের। কারণ ভালোবাসার সম্পর্কের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একে অপরকে বোঝা, যেটির অন্যতম উৎস হলো বন্ধুত্ব।

 

রোমান খান শুভ

অষ্টম সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

পৃথিবীতে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের সম্পর্ককে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম মধুর সম্পর্কের নাম হচ্ছে ‘বন্ধুত্ব’। এটারও আবার রকমফের আছে। তবে আমাদের সমাজে অধিক প্রচলিত বন্ধুত্ব বলতে একই লিঙ্গের সমবয়সী সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে বোঝায়। কিন্তু ভিন্ন লিঙ্গে মানুষে মানুষেও বন্ধুত্ব অর্থাৎ ছেলে-মেয়ের মাঝে বন্ধুত্ব সম্পর্কটাকে অনেকে মানতেই চান না। ছেলে-মেয়ের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব আছে শুনলেই একটা কথা হরহামেশাই শোনা যায়, ‘আরে এটা তো শেষ অবধি প্রেম বা প্রণয়ে গিয়েই ঠেকবে। কথাটাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না কোনোভাবেই। তবে সবার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। আসলে বন্ধু কখনো ছেলে-মেয়ে ভেদে হয় না। বন্ধুত্ব হয় ভালোবাসায়, পরস্পরের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস, শ্রদ্ধা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। ‘বন্ধু’ শব্দটার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেও সেটা বের হয়ে আসে। আর যারা এটা মেনে নেয়ার পক্ষে নন, তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন রোমান্টিক কবি বা সাহিত্যিকের মতামত বা উদ্ধৃতিকে বেদবাক্যস্বরূপ প্রদান করেন। আর সমস্যাটা ঠিক এখানেই। বেশিরভাগ মানুষের এই ভুল ধারণাটাই অনেক ছেলে-মেয়ের পবিত্র বন্ধুত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, আবার হয়তো অনেকে রোষানলে পড়ে অদম্য শক্তির জোরে টিকিয়ে রাখতে পেরেছে। এ রকম হাজার হাজার উদাহরণ আছে, যারা শুধু তাদের সম্পর্কের পরিসীমাকে পবিত্র বন্ধুত্বের মধ্যেই আবদ্ধ রেখেছেন সমীচীনভাবে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup