স্বাস্থ্য ফিচার : ভাইরাল ফিভার

ভাইরাল ফিভার এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। যে কোনো ভাইরাল ইনফেকশনের প্রথম লক্ষণই হলো জ্বর। বাচ্চাদের মধ্যে এ ধরনের ইনফেকশন খুব বেশি দেখা যায়। সত্যি বলতে বাচ্চাদের ইমিউন সিস্টেম বড়দের মতো শক্তিশালী হয় না। ফলে খুব সহজেই তারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

এ ধরনের জ্বরে সাধারণত কাঁপুনি, জ¦র, ক্লান্ত লাগা, গায়ে, হাতে-পায়ে ব্যথা হয়। সারা শরীরে র‌্যাশ হতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়ে। হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা, খেতে অনীহা, অনেক সময় বমি হয়, ডায়রিয়াও হতে পারে। শারীরিক উপসর্গ ও রোগীর মেডিক্যাল হিস্ট্রি, ভাইরাল ইনফেকশন নির্ণয় করার সবচেয়ে ভালো উপায়। কিছু ক্ষেত্রে আরো কয়েকটা পরীক্ষা করানো জরুরি- ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বা অ্যান্টিজেন চেক করার জন্য ব্লাড টেস্ট করানো জরুরি। ব্লাড বা অন্য বডি ফ্লুইডের কালচার টেস্ট।

এই জ্বরে বিশ্রাম নেয়া খুব জরুরি। এই সময়ে বাচ্চাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেবেন না। ভাইরাল ফিভার হলে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। ফলে অনায়াসে আরো মারাত্মক ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শরীর ঢুকে পড়তে পারে। জ্বর অবস্থায় স্কুলে পাঠানো একেবারেই উচিত নয়। এতে অন্য বাচ্চাদের ইনফেকশন হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাওয়ান। গোসল না করে মাথায় পানি দেয়া আর স্পঞ্জ করানো ভালো। একেবারে ছোট বাচ্চারা অনেক সময় নাক পরিষ্কার করতে পারে না। নাক থেকে সর্দি যেন বেরিয়ে যেতে পারে তার জন্য রাবার সাকশন বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন। গরম পানি দিয়ে মাঝে মাঝে বাচ্চার নাক পরিষ্কার করে দিন। যেন নাকে ময়লা জমে না থাকে।

জ¦র হলেই যে ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হবে তা নয়, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও হতে পারে। তাই বাচ্চার হাই ফিভার হলেই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনেক সময় আবার ভাইরাল ইনফেকশনে জ¦র হয় না। ফলে রোগ ধরতে সমস্যা হয়। তাই সচেতন থাকুন। যদি দেখেন বাচ্চার গা ম্যাজম্যাজ করছে, সহজেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে- তাহলে অবহেলা করবেন না, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সুস্থ থাকুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup