গরমের আউটফিট

সময় এখন গরমের। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রার মেজাজ। যান্ত্রিক পরিবেশে গরম যেন আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে দিন দিন। তাই এ সময় বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রয়োজন শরীরের ভেতরের আর্দ্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এ সময় পোশাকের ব্যাপারে বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন। পোশাক বাছাই করতে হবে একটু ভেবেচিন্তে। শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে এমন পোশাকই এ সময় পরা উচিত।

ফ্যাশন ডিজাইনারদের মতে, গরমের সময় হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরতে হবে। এমন পোশাক বাছাই করতে হবে, যা তাপ শোষণ করে কম। সেদিক থেকে গরমের জন্য সুতি কাপড়ই আরামদায়ক। তবে দুপিয়ান, বয়েল, চিকেন ও তাঁতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। কোনো উৎসব বা রাতের কোনো পার্টিতে পরা যেতে পারে লিনেন, মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান।

আর গরমের পোশাকের জন্য আদর্শ রঙ হলো সাদা। এছাড়াও গোলাপি, জলপাই সবুজ, আকাশি, হালকা হলুদ, ঘিয়ে হালকা ম্যাজেন্টা এ রঙগুলোর হালকা শেড গরমে উপযোগী। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। তাই এ ধরনের কাপড় পরিধান না করাই ভালো।

গরমে ছেলেদের পোশাক

এ সময় আরামদায়ক পোশাক হিসেবে ছেলেরা বেছে নিতে পারেন হাফশার্ট বা ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট কিংবা পলো টি-শার্ট। এ সময়টাতে ছেলেরা অনায়াসে বেছে নিতে পারেন টি-শার্ট। টি-শার্ট যেমন ফ্যাশনেবল, তেমনি আরামদায়ক। এখন গোলগলা ও কলার দুই ধরনের টি-শার্টই বেশ চলছে। বর্তমানে একরঙা ও চেক টি-শার্টের পাশাপাশি টি-শার্টের ক্যানভাসে নেই রঙ, তুলি কিংবা ডিজাইনের কমতি। টি-শার্টগুলো এখন নানা রঙ ও নকশায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রিয় ব্যক্তিত্বের ছবি, নানা রকম উক্তি, লোগো, রিকশা পেইন্ট, বর্ণমালা, রবীন্দ্র-নজরুলের কবিতার লাইন, প্রকৃতি, স্বাধীনতা, একুশসহ নানা মোটিফ। টি-শার্টে এখন নতুনত্ব হচ্ছে হাফ হাতার নিচের দিকে ও কলারে ভিন্ন কাপড়ের ব্যবহার। এসব ছাড়াও ফতুয়া গলার টি-শার্টও বেশ চলছে। এগুলোর হাতা বা নিচের দিকে পাইপিং দেয়ায় এসেছে নতুনত্ব। কাঁধে বা হাতায় একাধিক মোটা সেলাই দেয়া হচ্ছে। ফ্যাশনে এখন বেশ জনপ্রিয় পলো টি-শার্টও। পলো টি-শার্টে উজ্জ্বল রঙগুলোই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি লম্বালম্বি, আড়াআড়িসহ কয়েক রঙের চেকের পলো টি-শার্টও হাল ফ্যাশনে জনপ্রিয়। প্লাস পয়েন্টের কর্ণধার ও ডিজাইনার সাইফুল ইসলাম বিপুল বলেন, টি-শার্ট এবং পলো টি-শার্টের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাইপ এবং এক কালার এখন ট্রেন্ড। ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্টসহ প্রতিটি টি-শার্ট যেন একেকটি রঙ-তুলির ক্যানভাস। টি-শার্ট প্রিন্ট চললেও পলো টি-শার্টগুলোতে এখন একরঙা উজ্জ্বল রঙ বেশি ব্যবহার হচ্ছে। গরমে স্টেচিং নিট কাপড়ের টি-শার্ট আরামদায়ক।

গরমে এখন চেক শার্টের পাশাপাশি প্রিন্টের শার্টও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রিন্টের মধ্যে ফ্লোরাল মোটিফের হাফশার্ট তরুণ থেকে বয়স্ক সবারই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ফ্যাশন হাউজ লা-রিভের বিপ্লব বিপ্রদাশ বলেন, গরমে কটন, লিনেন কটন, অরবিন্দ কাপড়ের হাফ শার্ট বেশ আরামদায়ক হবে। ফুলের প্রিন্ট এখন অনেকেরই পছন্দ। শার্টের নকশায় এখন বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন শার্টের কাফে দুটি বোতাম থাকলে দুটি দুই রঙ দেয়া হচ্ছে। আবার শার্টের বোতাম লাগানোর জন্য বিপরীত রঙের সুতাও ব্যবহার হচ্ছে। ফিটিংয়ের ক্ষেত্রে বডি ফিটিং শার্টের ট্রেন্ড চলছে।

মেয়েদের পোশাক

চারিদিকে এখন ওয়েস্টার্নের জয়জয়কার। এই গরমে তাই মেয়েরা চাইলে টি-শার্ট, টপস, ফতুয়া, ম্যাক্সি টাইপ পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। গরমে টি-শার্টের চেয়ে আরামদায়ক পোশাক আর নেই। তাই চাইলেই মেয়েরা টি-শার্ট পরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। দেশে এখন অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেই টি-শার্ট পাওয়া যায়। যেগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইন পোস্টার প্রিন্ট করা থাকে, যা দেখতেও ভালো লাগে। এ সময় আরামে ঘুরতে-ফিরতে ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে টি-শার্টের জুড়ি মেলা ভার। আর এই পোশাক যে কোনো বয়সেই পরা যায় অনায়াসে। চাইলে মেয়েরা এ সময় কুর্তিও বেছে নিতে পারেন। বাজারে সুতি কাপড়ের কুর্তি এখন সব হাউজেই পাওয়া যায়। এগুলো একদিকে যেমন দেশীয় ঐতিহ্য প্রকাশ করে, তেমনি অনেক ফ্যাশনেবলও। সুতি কাপড়ের এসব কুর্তি বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের হয়। চাইলে যে কেউ কুর্তি পরে সবার নজর কাড়তে পারেন সহজেই। সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি আরো অনেক রকমের পোশাক এখন পরছে মেয়েরা। কিন্তু কর্মব্যস্ততাই বলি আর বিশ্বায়নের জোয়ারই বলি, দিনে দিনে বাঙালি মেয়েদের পছন্দের পোশাকে পরিণত হয়েছে টপস। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মিশেলে এসব টপসের লেংথ কখনো খাটো বা কখনো হয় লম্বা। আর বডিফিটিং এবং শর্ট স্লিভের। বর্তমানে টিনএজ ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরাই ফতুয়া বেশি পরেন। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে ঘর থেকে বের হতে প্রয়োজন আরামদায়ক পোশাক। এজন্য অনেক মেয়েই বেছে নিচ্ছেন ফতুয়া। হালকা কাজ, আরামদায়ক কাপড় আর দামও হাতের নাগালে থাকার কারণে ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের দৈনন্দিন পোশাকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এই পোশাক। বর্তমান চাহিদার বিষয় মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন ঘরগুলো তাদের সংগ্রহে রেখেছে বিভিন্ন রঙ ও ধরনের ফতুয়া। পাশাপাশি কাটছাঁটেও এসেছে ভিন্নতা। তাই খুব সহজেই ফতুয়া পরে দৈনন্দিন জীবন অনেক আরামদায়ক করে তুলতে পারেন। অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে স্লিভলেস পার্টি ড্রেসের ব্যবহার কম নয়। এক সময় গরমে স্বস্তির জন্য ব্যবহৃত হলেও হাল ফ্যাশনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে স্লিভলেস কামিজ। ফ্যাশন সচেতন অনেকেই এই সময়ে স্বস্তি আর স্টাইল বিবেচনায় এ ধরনের পোশাককেই বেছে নেন। স্লিভলেস অ্যালাইন টিউনিক একসময় আন্ডার গার্মেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ধীরে ধীরে এটি স্লিভলেস কামিজে রূপান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র একটি পোশাকে পরিণত হয়েছে। ফলে শিশু থেকে তরুণী, এমনকি মধ্যবয়সী নারীরও আজকাল পরিধেয় হয়ে উঠেছে স্লিভলেস কামিজ। তবে এ ক্ষেত্রে তরুণীরাই নিজেদের স্টাইলিশ লুকের জন্য স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজ বেশি ব্যবহার করেন।

গরমের দিনের বেলায় হালকা রঙ এবং রাতে গাঢ় রঙের ম্যাক্সি ড্রেস বা লং ড্রেস পরা যেতে পারে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে নানা প্যাটার্নের ম্যাক্সি ড্রেস রয়েছে। টাইডাই, শিবোরি, প্যাচওয়ার্ক ও মার্বেল ডাই করা হয়েছে এতে। এই ধরনের পোশাকের প্যাটার্নের জন্য লিনেন, জর্জেট ও নেটের কাপড় সবচেয়ে উপযোগী। কয়েক ধরনের কাপড় একসঙ্গে ব্যবহার করেও নকশায় বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে এখন। রাতের দাওয়াতে পরার জন্য হাউজগুলো কিছু লং ড্রেস নকশা করেছে, যার হাতে ও গলায় থাকছে হালকা কাজ। পোশাকের গলার কাটেও থাকছে বৈচিত্র্য। প্রায় সব মার্কেটেই ম্যাক্সি ড্রেস পাওয়া যায়।

প্রায় সব ফ্যাশন হাউজে নানা ডিজাইনের নারীদের স্লিভলেস পোশাক পাওয়া যায়। ওয়েস্টার্ন আউটফিটের হাউজ যেমন ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, ইয়েলো, লা-রিভে বিভিন্ন কাটিংয়ের স্লিভলেস পোশাক পাওয়া যায়। দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, নগরদোলা, রঙ বাংলাদেশ, সারা, অঞ্জন’স, জেন্টল পার্ক’য়ে খুঁজে পাবেন আপনার পছন্দের স্লিভলেস পোশাকটি। এছাড়া বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক মার্কেট, চাঁদনীচক, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পাওয়া যাবে স্লিভলেস পোশাক। চাইলে গজ কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো স্লিভলেস পোশাকটি।

শিশুদের পোশাক

গরমের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে থাকে শিশুরা। এতে পোশাক আরামদায়ক না হলে অস্বস্তিতে ভোগে তারা। শিশুর পোশাকে আরামের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশীয় বুটিক হাউজগুলোয় এখন বয়সভেদে নানা ধরনের পোশাকের আয়োজন দেখা যায়।

গরম সবার জন্যই অস্বস্তিকর। শিশুদের জন্য আরো কষ্টদায়ক। কারণ গরমে শিশুদের প্রচুর ঘাম হয়। এর থেকে সর্দি, কাশি, ঠাণ্ডাসহ বিভিন্ন অসুস্থতাও হতে পারে। তাই গরমে শিশুর পোশাক হতে হবে আরামদায়ক। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাকে শিশু যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, তেমনি সুস্থ থাকতেও সহযোগিতা করবে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঘুরে দেখা গেল, শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে নানা ধরনের পোশাক। মেয়েদের জন্য আছে ছোট ও বড় ফ্রক, স্কার্ট, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, ঘাঘরা কামিজসহ আরো অনেক পোশাক। ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট-প্যান্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট। পোশাকের ম্যাটেরিয়ালের ক্ষেত্রে আরামদায়ক সুতি কাপড়ই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কটন, লিনেন, ডেনিম ও গেঞ্জি কাপড়ের ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে শিশুদের আরামের কথা মাথায় রেখে। তবে প্রিন্টের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট দেখা যাবে কোনোটা ছোট বল, কোনোটা বড় বল, ফুল, জ্যামিতিক নকশা, তারা, ত্রিভুজ, স্ট্রাইপ, চেকসহ অসংখ্য নকশার প্যাটার্ন দেখা যায় কাপড়গুলোতে। কখনো একরঙা, কখনো কন্ট্রাস্ট, কখনো আবার মাল্টিকালার ব্যবহার করে পোশাকগুলোর ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। যেহেতু ছোটদের পোশাক, তাই বেশিরভাগ পোশাকেই উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি হালকা রঙও দেখা যাবে অনেক পোশাকে। তবে গ্রীষ্মের সময়টা পোশাকের ক্ষেত্রে সাদার প্রাধান্য সবসময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিই থাকে। পাশাপাশি আছে অফ হোয়াইট, পিঙ্ক, ফিরোজা, লেমন ও অন্য সব রঙের হালকা শেড। গরমের দিনে শিশুর পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া প্রয়োজন, যেন গায়ে বাতাস ঢোকে, সেই সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। হাতা কাটা ছোট ফ্রক, স্কার্ট, টপস, ফতুয়া মেয়েদের জন্য বেছে নেয়া যায় সহজেই। ছেলেদের জন্য বেছে নিতে পারেন ফতুয়া, টি-শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, হাফ প্যান্ট বা ট্রাউজার। তবে পোশাক যেন ঘামে ভিজে না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের পোশাক বদলে দিতে হবে।

গরমে অফিসের পোশাক

যাদের নিয়মিত বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয় তাদের সব ঋতুতেই কেতাদুরস্ত অবস্থায় থাকতে হয়। এক রঙের বানানো স্যুট যেমন, কালো ধূসর কিংবা নীলের সঙ্গে মেলাতে পারেন সাদা কলারের শার্ট। পুরুষের জন্য এই ক্ল্যাসিক পোশাক সব পরিস্থিতিতেই নিরাপদ। নারীরা বেছে নিতে পারেন প্যান্ট স্যুট কিংবা স্কার্ট স্যুট। রঙটা হওয়া চাই মার্জিত। যেমন- কালো, নেভি ব্লু কিংবা বাদামি, সঙ্গে থাকতে পারে সাদা কলার। পোশাক নিয়ে যেসব অফিসে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ নেই, তাদের জন্য পোশাকের অভাব নেই। তবে মনে রাখতে হবে, পোশাক মার্জিত হতে হবে। স্কার্ট কিংবা ট্রাউজারের সঙ্গে পাতলা কার্ডিগান হতে পারে নারীদের জন্য একটি পছন্দ। সঙ্গে পরতে পারেন চেক কিংবা স্ট্রাইপ ডিজাইনের হালকা রঙের শার্ট। পুরুষরা বেছে নিতে পারেন যে কোনো রঙের বোতামযুক্ত শার্ট, আর পরনে থাকতে পারে বানানো ফরমাল প্যান্ট কিংবা সেমি ফরমাল ধরনের খাকি গ্যাবাডিন প্যাট।

তবে পোশাক নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই এমন অফিসে কর্মীদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ পোশাক একজনের ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। তাই যা ইচ্ছা তাই পোশাক পরে অফিসে গেলে নিজেই বিব্রত বোধ করবেন। এক্ষেত্রে নিরাপদ পোশাক হলো গাঢ় রঙের জিন্স প্যান্টের সঙ্গে পোলো টি-শার্ট বা কলারযুক্ত গেঞ্জি। পোলো টি-শার্ট বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে হালকা ডিজাইন নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে সালোয়ার-কামিজ, টপস এবং পরনে জিন্স কিংবা সুতি স্ন্যাকস হতে পারে আদর্শ।

নারীদের জন্য হিল জুতার তুলনায় ‘ফ্ল্যাটস’ বা সমানতলার জুতা কিংবা স্যান্ডেল হবে আদর্শ। হিল পরতে চাইলে ‘প্লাটফর্ম হিল’ হবে সবচেয়ে আরামদায়ক এবং স্টাইলিস্ট। ‘ওয়েজেস’ জাতীয় জুতাও কর্মক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী। পুরুষের জন্য ফরমাল জুতা হলো অক্সফোর্ড, ডার্বি ও লোফার ধরনের জুতা। কালো জুতার তুলনায় একজোড়া বাদামি জুতা নজর কাড়বে বেশি, পোশাকেও যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা। তবে বাদামি জুতা পোশাকের সঙ্গে মানানসই করা কালো জুতার চেয়ে কিছুটা ঝামেলার বিষয়। তাই কালো জুতা বরাবরই নিরাপদ।

কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য ব্যাগটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়া চাই, সঙ্গে চাই পর্যাপ্ত জায়গা ও দীর্ঘস্থায়িত্বও। নারীদের জন্য টোট ব্যাগ বরাবরই আদর্শ, কারণ এতে প্রয়োজনের বেশি জায়গা থাকে। এতে পানির বোতল, মোবাইল, কলম, ল্যাপটপ, প্রসাধনী সবকিছুর জন্যই বিশেষ জায়গা রয়েছে। ব্যাগ নিয়ে চিন্তা করতে গেলে পুরুষের সারা জীবনের সঙ্গী ওই ব্যাকপ্যাক। আর হবে না-ইবা কেন, সবকিছুর জন্যই জায়গা আছে এতে। ল্যাপটপ, পানির বোতল, দুপুরের খাবার, নোটবুক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যা কিছুই প্রয়োজন হোক না কেন ব্যাকপ্যাকে সবকিছুই রাখা যায় অনায়াসে। আর আজকাল বাজারে বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাকপ্যাক পাওয়া যায়, তা অফিসে বেমানান হওয়া তো দূরের কথা বরং সহকর্মীদের হিংসুক করে তুলতে পারে সেসব ব্যাগ।

পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ

পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গরমে পোশাকের সঙ্গে মানানসই হালকা চটি বেশ আরামদায়ক। হাতে কাঠের বালা বা সুতোর চুড়ি পরতে পারেন। কানে পরতে পারেন পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে ছোট দুল। গরমে ধাতুর তৈরি গহনা না পরাই ভালো। এর বিকল্প হিসেবে পরতে পারেন প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি দুল, চুড়ি বা বড় মালা। ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ঝোলা ধরনের ব্যাগ। তার ভেতরে রাখতে পারেন একটি রোদচশমা।

ভাবতে হবে বৃষ্টির কথাও

গরমে আরামের কাপড় সুতি। কিন্তু বৃষ্টির দিনে সুতির আরাম ভুলে জর্জেট, শিফনসহ অন্যান্য কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়গুলো পরাই ভালো। ভিজে গেলে এই কাপড়গুলোর ক্ষতি তেমন হয় না। একটুখানি বাতাসে বা রোদে শুকিয়ে নিলেই একদম আগের মতোই হয়ে যায়। ভেজা দিনের বসন বলতে তাই জর্জেট, শিফন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের সিইও ফ্যাশন ডিজাইনার মারুফ চৌধুরী বলেন, এ সময়ে হঠাৎ বৃষ্টি তো হয়-ই, গরমটাও কিন্তু কমে না। এ দুই ব্যাপার মাথায় রেখেই তাই পোশাক নির্বাচন করা উচিত। শাড়ি পরুন আর সালোয়ার-কামিজ। এজন্য জর্জেট, শিফনের বিকল্প নেই। এসব কাপড় পাতলা। তাই দ্রুত শুকায় আর গরমেও কষ্ট হয় না। অ্যান্ডি সিল্ক কাপড়ও এ মৌসুমে পরার উপযোগী। এ ধরনের কাপড়ে সিল্কের ভাগটাই বেশি। তাই বেশ জমকালো দেখায়। দেশি ফ্যাশন হাউজগুলো এই কাপড় দিয়ে প্রচুর পোশাক তৈরি করছে। একটু ভারী কাজ করা অ্যান্ডি সিল্কের পোশাক নিশ্চিন্তে পরতে পারেন যেকোনো পার্টিতে। আবার সাদামাটা কাজের পোশাকগুলো পরা যাবে নিত্যদিনের ব্যবহারে। তৈরি পোশাক তো পাবেনই। সিল্কের কাপড়ের দোকানগুলোয় গজ হিসেবেও পাবেন। মসলিন কাপড়টাও এই সময়ে বেশ উপযোগী। অ্যান্ডি সিল্কের সালোয়ার-কামিজ আর মসলিনের ওড়না এই ঋতুতে এমন পোশাক বেশ কাজের। এছাড়া মসলিন শাড়িও পরতে পারেন। এই ঋতুতে জর্জেট বা শিফন শাড়ি পরলে ব্লাউজ পরতে পারেন সুতি অথবা ভয়েল কাপড়ের। কাপড়ের রঙ নির্বাচন করুন আবহাওয়া বুঝে। সাদা কাপড় যেমন বৃষ্টির দিনে মানানসই নয়, কালো কাপড়ও তেমনি পরা উচিত নয়। কারণ কালো কাপড় ভিজে গেলে ছোপ ছোপ দাগ হতে পারে। যেকোনো উজ্জ্বল রঙ বেছে নিতে পারেন। যেমন- ফিরোজা, লেবু, হলুদ, গোলাপি, লাল, কমলা ইত্যাদি। তবে খুব হালকা বা খুব গাঢ় রঙগুলো এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কারণ মেঘলা দিনে প্রকৃতি ম্রিয়মাণ থাকে। এই সময় আপনার পোশাকেই থাকা চাই রঙের বাহার।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup