রূপচর্চায় হার্বস

 

গরমে ত্বক-চুলের নানা সমস্যার সমাধানের নিয়মিত রূপচর্চা করুন। আর এ রূপচর্চায় আরাম পাবেন হার্বসের ব্যবহারে, যা খেলেও আপনাকে উপকার দেবে, সঙ্গে রূপরক্ষায় নানা পেস্ট বা প্যাক তৈরি করে লাগালেও ত্বক-চুলের উপকার হবে। উদ্ভিদে নানা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তাকে, যা ত্বক ও চুলের নানা সমস্যার সমাধানে অব্যর্থ। তুলসী, পুদিনা, নিম পাতা ইত্যাদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা উপকারের জন্য সবসময় দাঁড়িয়ে।

বহু যুগ ধরেই তুলসী ব্যবহার হয়ে আসছে রূপচর্চায়। পাতা তো বটেই তবে এর এসেনশিয়াল অয়েলও রূপচর্চায় একইরকম গুরুত্বপূর্ণ। ক্লেমিশ দূর করতে, তুলসী পাতার রস ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ভালোভাবে কেটে ত্বকে লাগিয়ে নিন। তাজা তুলসী পাতার ওপর কয়েক ফোঁটা পানি দিয়ে নাকের দু’পাশে পাঁচ মিনিট রাখুন। এবার হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা থেকে মুক্তি হবে।

আমলকীর গুঁড়ো এবং শুকনো তুলসী পাতার গুঁড়ো সমপরিমাণে মিশিয়ে অল্প পানি দিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে সামান্য নারকেল তেল মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। মাঝে মাঝে গোসলের পানিতে তুলসী পাতা ভিজিয়ে নিন।

থাইম শুধু সুঘ্রাণের জন্য আগে ব্যবহার হতো, তবে রূপচর্চার ক্ষেত্রে ব্যবহারে এর গুণের প্রসার ঘটেছে।

অল্প কয়েক ফোঁটা থাইম অয়েল আর পানি মিশিয়ে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। অ্যাকনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে থাইমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। থাইমের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা থাকায় স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে এবং খুশকি কমাতে উপকারী। এক কাপ পানিতে ৩ চা-চামচ শুকনো থাইম মিশিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু শেষে এই পানি ব্যবহার করুন।

ধনে পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য বিভিন্ন নিউট্রিয়েন্ট এবং ভিটামিন ‘সি’তে পূর্ণ এই হার্ব। ত্বকে ফ্রেশনেস আনার জন্য ওটমিল আধা কাপ, দুধ কোয়ার্টার কাপ, শসা কোয়ার্টার কাপ কুচি, একমুঠো ধনেপাতার সঙ্গে পেস্ট করে নিন। এবার মুখে লাগিয়ে শুকালে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। দু’চামচ দই, দু’চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং একমুঠো ধনেপাতা পেস্ট করে ১ টেবিল চামচ নারকেল দুধ ও এক চা-চামচ চালের গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট রেখে ম্যাসাজ করুন। নরম ঠোঁট পেতে ২ চা-চামচ ধনেপাতার রস ও এক চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে সারারাত ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। সকালে ধোঁয়ার পর কমফোর্টনেসটা চোখে পড়বে।

পুদিনা পাতা পরিচিত একটি হার্ব, যাতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘বি-৬’ ইত্যাদি। পুদিনা পাতা বহু বছর ধরে রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে।

এক কাপ পানিতে ১ মুঠো পুদিনা পাতা ৫ মিনিট ফুটিয়ে এতে ৪ চা-চামচ গোলাপজল এবং লেবুর রস মিশিয়ে ফ্রিজে স্টোর করে রাখুন। টোনার হিসেবে ভালো কাজে দেয়। ফুটসোক হিসেবে পুদিনা পাতা ফোটানো পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন, সঙ্গে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। অলিভ অয়েল এবং পুদিনা পাতা একসঙ্গে পেস্ট করে ফাটা গোড়ালিতে লাগালে উপকার হবে। পুদিনা পাতা, সামান্য লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ দই এবং অল্প পানি দিয়ে পেস্ট করে চুলে এবং স্ক্যাল্পে লাগান। ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রোজমেরিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং নানারকম ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস থাকায় এই হার্ব ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। সামান্য আপেল সাইডার ভিনেগার এবং রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে তুলোয় ভিজিয়ে গায়ে লাগান। এতে শরীরের দুর্গন্ধ দূর করবে। ব্রণ, অ্যাকনে থেকেও রোজমেরি ত্বককে রক্ষা করে রোজমেরি, সমপরিমাণ অর্গান অয়েল এবং রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগালে উপকার পাবেন। এক টেবিল চামচ রোজমেরি এবং এক টেবিল চামচ থাইম ২ কাপ পানিতে মিশিয়ে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই পানি দিয়ে চুল ধুলে চুল উজ্জ্বল দেখাবে। নিম পাতার সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার কিছু নেই। ছোটবেলা থেকেই ত্বকের সমস্যায় নিম পাতার পেস্ট, নিমপাতা ভেজানো পানি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

খুশকি থেকে মুক্তি পেতে এক মুঠো নিমপাতা ৪-৫ কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিমপাতা ত্বকের মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ভাব হারায় না। ১০-১২টি নিমপাতা এবং ২-৩ চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো একসঙ্গে পেস্ট করে মুখে লাগাতে পারেন। ডার্ক সার্কেল দূর করতে এক চা-চামচ নিমপাতার গুঁড়োতে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে চোখের নিচে লাগান।

নিয়মিত রূপচর্চায় প্রকৃতির সৃষ্ট এই হার্ব ব্যবহার করুন। ত্বক-চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।