বাই বাই ব্রেকআপ

শবনম ও সাকিবের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, আড্ডা দেয়া সবকিছুতেই তারা একসঙ্গে। দু’জন দু’জনকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না ওদের। এই তো সেদিনও টিএসসিতে বসে একসঙ্গে আড্ডা দিল অনেকক্ষণ। তারপর শবনমকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরেছে সাকিব। তারপর হঠাৎ করেই দু’জনের মধ্যে কী নিয়ে যেন সমস্যা হলো। তাতেই ব্রেকআপ!

আসলে সম্পর্কে সমস্যা আসবে এটাই স্বাভাবিক। সেজন্য ব্রেকআপ করে বসলে তো আর চলবে না। দরকার সমাধান। কীভাবে সেই সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করবেন তা জানিয়ে দিয়েছে জনপ্রিয় অনলাইন বিজনেস ইনসাইডার। এ নিয়ে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক রক্ষার কিছু উপায় বলে দেয়া হয়েছে। তাহলে দেখে নিন ভাঙা সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার উপায়গুলো-

১. প্রিয় মানুষটির কাছে নিজের ভুল স্বীকার করুন। তার কাছে প্রকাশ করুন আপনার ভুলের জন্য আপনি অনুতপ্ত। এটা আপনার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে বেশ ইতিবাচক হবে। এমনকি আপনার নমনীয়তা তাকেও অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে। তাই ব্রেকআপ কাটিয়ে উঠতে এটা একটা দারুণ টনিক হতে পারে।

২. তাকে মত প্রকাশের সুযোগ দিন। তাহলে সে বুঝবে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই সুযোগে তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করুন। নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। আর তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি তার পাশে রয়েছেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে থাকবেনও। মনে রাখতে হবে একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

৩. আপনাদের মাঝে ঠিক কী নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করুন। তারপর নিজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন। নিজের সমস্যাগুলো বের করতে পারলে তার সমাধানও খুব সহজেই করতে পারবেন। হতে পারে আপনার সমস্যাগুলো খুবই সামান্য। কিন্তু এগুলোই সম্পর্কে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সঙ্গীকে বলুন আপনি আপনার সমস্যাগুলো বুঝতে পেরেছেন। এগুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন। দেখবেন আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাতে সংশোধনের সুযোগ দেবে।

৪. আবার এমনো হতে পারে সমস্যা আপনার নয়, সমস্যা তার। সেক্ষেত্রে উত্তেজিত হবেন না। এতে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। তাই মাথা ঠাণ্ডা করে আপনাকে একটু বুদ্ধি করে এগোতে হবে। তার সঙ্গে মিশুন। তারপর সম্পর্ক একটু স্বাভাবিক হলে বা তার রাগ কমে এলে তাকে বোঝান। তবে সেটা যেন হয় গল্পের ছলে। গল্পের মাঝেই সে তার ভুলগুলো বুঝতে পারবে। সমাধানও সে নিজেই খুঁজে বের করবে।

৫. রাগের মাথায় মানুষ অনেক কিছু বলে ফেলে। আপনার প্রিয় মানুষটিও যদি এমন করে থাকে, তাহলে আপনার উচিত হবে না এটা নিয়ে রাগ করে থাকা। রাগের মাথায় বলা কথার জন্য সে হয়তো নিজেই অনুতপ্ত হবে। আপনার উচিত হবে তাকে সেই সময় দেয়ার। তবেই সে তার ভুলগুলো বুঝতে পারবে। তাই আপনার উচিত হবে না সঙ্গী রাগের মাথায় যা বলেছে সেটা নিয়ে ব্রেকআপের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার।

৬. আপনারা হয়তো অনেক আড্ডা দিয়েছেন, একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন। তার মধ্যে অনেক মজার মজার ও রোমান্টিক স্মৃতি মনের ফ্রেমে বাধা আছে। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সেসব স্মৃতি শেয়ার করুন। তাকে মনে করিয়ে দিন নিজেদের মজার কোনো ঘটনা। এটা আপনাদের সম্পর্ক মজবুত হবে। দু’জন দু’জনের মধ্যে নতুন রসায়ন খুঁজে পাবেন। আর এটাই তো একটি সুন্দর সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

৭. আপনার কোনো চেষ্টাই যদি কাজে না লাগে, তাহলে হতাশ হবেন না বা হাল ছাড়বেন না। কিছুদিনের জন্য তার থেকে দূরে থাকুন। যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। তাহলে সে যখন একা থাকবে, তখন আপনাকে অনুভব করবে। তার একাকিত্ব আপনার প্রয়োজনটা তাকে অনুভব করাতে বাধ্য করবে। দূরত্বই পারবে আপনাকে তার কাছে নিয়ে যেতে।

৮. ফোনে বা ফেসবুকে এসএমএস দেবেন না। এতে সে আরো বিরক্ত হতে পারে। তাই সম্ভব হলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। সরাসরি কথা বললে অনেক কঠিন বিষয়ের সমাধানও সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া সামনে থেকে কথা বললে পুরনো সেটাই ফিরে আসতে পারে। এ কারণে সামনাসামনি কথা বলাটা পুরনো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার ভালো টোটকা হতেও পারে।

৯. প্রিয় মানুষটির কাছে আপনি আগের মতো করে নিজেকে উপস্থাপন করুন। তাকে বুঝিয়ে দিন আপনি আগের মতো হয়ে গেছেন। পুরনো সমস্যার প্রসঙ্গগুলো এড়িয়ে যান। এগুলো নিয়ে তর্কে জড়ানোর দরকার নেই। তাহলে হয়তো সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে উল্টো নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

১০. তার সামনে আবেগ দেখাতে যাবেন না। যতদূর সম্ভব আবেগ এড়িয়ে চলুন। তাকে বোঝান তার সঙ্গে দেখা করে আপনি খুশি। তবে অতিরিক্ত আবেগ দেখাবেন না। তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব তার কাছে গুরুত্ব পাবে। তার সঙ্গে দেখা করে তার খোঁজ নিন, তার পরিবারের খোঁজ নিন। কিন্তু অবশ্যই আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।