প্রেম ব্রেকআপ বিয়ে এবং...

জমজমাট এক আড্ডায় বসেছিলেন নতুন প্রজন্মের তারকা অভিনেতা তাসকিন রহমান ও অভিনেত্রী পূজা চেরি। সেই আড্ডায় মন উজাড় করে কথা বলেছেন দু’জনে। ব্যক্তিজীবনের প্রেম, ব্রেকআপ, ভালোবাসার ছন্দের মানুষসহ অনেক কিছু অকপটে বলেছেন আনন্দধারার সম্পাদক রাফি হোসেনের সঙ্গে।

 

রাফি হোসেন : ঈদ আমাদের সবার কাছে স্পেশাল একটা ব্যাপার। ঈদ আসছে শুনলে মনটা কেমন যেন আনন্দে ভরে ওঠে। পূজা তুমি যেহেতু দেশে ঈদ কর, সেজন্য।

পূজা চেরি : একদম। অনেক আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করি।

রাফি হোসেন : তাসকিন তুমি বাইরে কীভাবে ঈদ উদযাপন কর?

তাসকিন রহমান : অভিয়াসলি আমার ঈদটা একটু অন্যরকম হয়। অবশ্যই বাংলাদেশের মতো এত সুন্দরভাবে সবার সঙ্গে মিলে ঈদ করার যে আনন্দটা, সেটা আমার খুব একটা হয় না।

রাফি হোসেন : মানে কিছু বছর ধরে। আগে তো বাবা-মায়ের সঙ্গেই ছিলে।

তাসকিন : এখন আমি খুব মিস করি। বাইরে অনেক সময় কাজের মধ্যে থাকতে হয়।

রাফি হোসেন : ঈদের দিনও ছুটি নাও না?

তাসকিন : বেশির ভাগ সময়ই সেটা হয় না। কাজ যদি বেশি থাকে, তাহলে সকালে হয়তো নামাজটা পড়ে কাজে চলে যাই। তারপর হয়তো বন্ধুদের আড্ডা। আসলে বাংলাদেশের মতো হয় না।

রাফি হোসেন : পূজা তুমি কীভাবে ঈদ উদযাপন কর?

পূজা : আমার শপিং করতেই হবে। ঈদ এলে জামাকাপড় কিনতেই হবে। অন্য কোনো উৎসবে জামাকাপড় না কিনলেও ঈদে কিন্তু আমাকে কিনতেই হবে। তারপর বন্ধুরা আমার বাসায় আসে, আমি যাই। মাঝে মাঝে একটু ঘুরতে যাই। এভাবেই আমার ঈদ উদযাপন করা হয়।

রাফি হোসেন : এবার ঈদে তো তোমাদের কোনো ছবি মুক্তি পাচ্ছে না?

পূজা : এবার ঈদে কোনো ছবি মুক্তি পাচ্ছে না কিন্তু ছবির শ্যুটিং চলছে।

তাসকিন : শ্যুটিং করছি দুটো ছবির, তার মধ্যে একটা কোরবানি ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

রাফি হোসেন : ছবিটা কি কোরবানি ঈদে মুক্তি পাবে?

পূজা : এটা এখনো নিশ্চিত না। অফিশিয়ালভাবে সেটা এখনো জানানো হয়নি।

রাফি হোসেন : আমার আশা, খুব দ্রুতই সেটা দেখতে পাব। পূজা তোমার তো মনে হয় এটা তাসকিনের সঙ্গে প্রথম কাজ। এখানে কি তাসকিন হিরো নাকি অ্যান্টি হিরো?

তাসকিন : এটা তো বলা যাবে না। এটা একটা সারপ্রাইজ।

পূজা : এটা সবার জন্য সারপ্রাইজ।

রাফি হোসেন : সহঅভিনেতা হিসেবে তাসকিন কেমন?

পূজা : আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছে, তারা সবাই-ই জানে আমি কেমন বন্ধুসুলভ। খুব সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যাই। যেমন সিয়ামের সঙ্গে কাজ করেছি, আদ্রিতের সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের সবার সঙ্গেই খুব সহজেই মিশে গেছি।

রাফি হোসেন : এবার বল তাসকিন সহশিল্পী হিসেবে কেমন?

পূজা : সহশিল্পী হিসেবে খুবই ভালো এবং কাজের প্রতিও সে খুবই সাহায্য করে।

রাফি হোসেন : সহশিল্পী হিসেবে পূজা কেমন?

তাসকিন : পূজার সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তবে ছবি শুরু হওয়ার আগে তার এত সুনাম শুনেছি যে, ইচ্ছা ছিল পূজার সঙ্গে কাজ করার। কারণ ভালো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা সবারই থাকে, যা আমারও ছিল। খুবই খুশি পূজার সঙ্গে কাজ করতে পেরে। ওর কাজের ব্যাপারে একটা কথা বলি ও চরিত্রটাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে।

রাফি হোসেন : তাসকিনের অভিনীত অন্য সিনেমাগুলো দেখেছো?

পূজা : অবশ্যই ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখার পর ভেবেছিলাম সে এত ভালো অভিনয় করে, চরিত্রকে কত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। এসব দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে।

রাফি হোসেন : তোমার কি তখন ইচ্ছে হয়েছিল ওর সঙ্গে কাজ করার? যেহেতু একজন অ্যান্টি হিরো হিসেবে কাজ করেছে।

পূজা : তখন সেভাবে ভাবা হয়নি। আপনারা জেনে অবাক হবেন, যখন ঢাকা অ্যাটাক দেখেছি, তখন আমরা মেহেরপুরে শ্যুটিং করছি। পুরো ইউনিট সবাই একসঙ্গে দেখেছি ছবিটা। আমাদের গানের শ্যুটিং চলছিল। শ্যুটিং শেষ হওয়া মাত্রই আমরা মেকআপ অবস্থাতেই হলে চলে যাই। সবার মুখে শুনেছি এত সুন্দর একটা ছেলে অভিনয় করেছে, যার চোখ দুটো খুব সুন্দর। অভিনয় নিয়ে কিছু বলব না।

রাফি হোসেন : কেন বলবা না?

পূজা : কারণ এত ভালো অভিনয় করে যে বলার কিছুই নেই।

রাফি হোসেন : দু’জনের কাছেই জানতে চাইব তোমাদের জার্নিটা প্রায় একসঙ্গেই শুরু। আসলে কেমন লাগছে তোমাদের? পূজা তো অনেক ছোট, নিশ্চয়ই ভালো লাগছে পূজার। কিন্তু তাসকিনের জন্য আসলে বিষয়টা কেমন?

তাসকিন : আমাদের বয়সের পার্থক্য হলেও কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে চরিত্রের সংযোগ ঘটাতে পেরেছি এই জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে সংযোগটা যদি না থাকে, তাহলে ওই চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তোলা খুব কঠিন। যেটা পূজার ভেতর রয়েছে, সে সুন্দরভাবে বিষয়টা ফুটিয়ে তুলতে পারে। এজন্য আমরা খুব সুন্দরভাবে অনস্ক্রিনে বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলতে পারি।

রাফি হোসেন : আসলে ভালো কাজ করার জন্য একে অপরের সঙ্গে সংযোগটা খুব জরুরি। কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিল লাইমলাইটে এসে বিষয়টা তোমরা কীভাবে দেখছ? আমরাই যেমন শোবিজে তোমাদের এতবার ডেকে ফেললাম, এই বিষয়গুলো কীভাবে উপভোগ করছ?

পূজা : আসলেই আমি খুব সৌভাগ্যবতী, প্রথমেই এসে এত বড় বড় জায়গা থেকে ডাক আসছে। এতটুকু সময়ে কে-বা পারে এত কিছু জয় করে নিতে। জানি না আমি এসে জয় করেছি কিনা। কিন্তু আমার মনে হয় দর্শকের কাছে এতটুকু হলেও পরিচিতি পেয়েছি। মেরিল-প্রথম আলোর দর্শকের তারকা জরিপের অ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছি। এজন্য খুবই সৌভাগ্যবতী মনে করছি। দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞ। জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবদুল আজিজ ভাই, শাহিন সুমন ভাইসহ সব সহকর্মীর কাছে কৃতজ্ঞ। আসলে ছোটবেলা থেকে একটা জিনিস মনে হতো, যখন আমি জুনিয়র আর্টিস্ট ছিলাম, তখন দেখতাম সবাই সিনিয়র আর্টিস্টদের সঙ্গে ছবি তুলছে, অটোগ্রাফ নিচ্ছে। তখন আমার মনে হতো আমার সঙ্গে কবে ছবি তুলতে চাইবে, অটোগ্রাফ নেবে। এটা ভাবতে ভাবতেই জাজ মাল্টিমিডিয়ায় কাজ করি পোড়ামন ২ ও নূরজাহান। যা-ই হোক, এখন তো কেউ অটোগ্রাফ নেয় না, সরাসরি সেলফি তোলে। খুব উপভোগ করি।

রাফি হোসেন : তাসকিন উত্তর দেয়ার আগে আমি একটু যোগ করি, তুমি কি জানো তাসকিন কিন্তু অনেক ঝামেলায় আছে। কারণ মেয়েরা ওকে এত বিরক্ত করছে। ও বলেছে অনেক মেয়ে এখন ওকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে।

তাসকিন : কিন্তু কথাটা আসলে ওই রকম ছিল না।

রাফি হোসেন : না, যদি ওই রকম হয় তাহলে তো ভালো।

তাসকিন : আমি যদি সকাল বেলায় হাতে কফি নিয়ে পেপার পড়ার সময় দেখতাম কেউ বলছে আমি প্রতিদিন প্রেমের প্রস্তাব পাই, তাহলে আমি কেয়ার করতাম না সেটাকে।

রাফি হোসেন : কেন কেন?

তাসকিন : আসলে বিষয়টা ওই রকম ছিল না। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এ রকম হয় নাকি? তখন আমি বলেছিলাম হতেই পারে, এ তো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এসব বিষয়ে তেমন একটা গুরুত্ব দিই না। চিন্তা করি দূরে দূরে মানুষ আমার কাজ ভালোবাসছে। এটা হতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। আমার এ ধরনের ভালোবাসাটা দরকার।

পূজা : আমার কাছে মনে হয় যেহেতু সে ভিলেন হিসেবে এসেছে, ক’জন ভিলেনই এ সুযোগটি পায়।

রাফি হোসেন : আমি কিন্তু কথাটি পজিটিভলি বলেছি। তুমি কেমন প্রেমের অপেক্ষায় আছ?

পূজা : একেবারে প্রেম নাকি সরাসরি বিয়ে?

তাসকিন : আসলে সময় চাই। আমি চাই সময় কাটাতে আমাকে ফোন করেই জিজ্ঞাসা করবে না যে আমার পরবর্তী ছবি কী? জানতে চাইবে আমি কেমন আছি, আমার দিনটি কেমন কাটছে।

রাফি হোসেন : আমি নিশ্চিত, তোমার সঙ্গে প্রেম করে সে এসব জানতে চাইবে।

তাসকিন : অবশ্যই আমি কেমন আছি, কী খেয়েছি, ডিনার করেছি কিনা এসব জানতে চাই।

রাফি হোসেন : আমি নিশ্চিত, সে তোমাকে অনেক প্রেমময় কথা বলে?

পূজা : বলে নাকি বলবে?

তাসকিন : আসলে আমি এই দিনগুলো খুব মিস করি। আজকাল তো এ রকম দেখা যায় না।

রাফি হোসেন : মানে তুমি বলতে চাচ্ছ, আজকের দিনে প্রেমের সংজ্ঞা চেঞ্জ হয়ে গেছে। ধর, হঠাৎ তোমার একজনকে ভালো লাগল।

তাসকিন : লাগতেই পারে।

রাফি হোসেন : ধর পূজাই তোমাকে বলল, ভালোবাসি। তুমি তো বললে যে সময়ের প্রয়োজন। কত সময়ের প্রয়োজন তোমার? কত সময় নেবে?

তাসকিন : আমি প্রশ্ন করব, তুমি কি ভালোবাসা বোঝো, ভালোবাসার মানে বোঝো?

রাফি হোসেন : এতদিনে স্কুলের মতো কথা বললে তো কেউ ভালোবাসবে না, তাই না?

তাসকিন : পূজা যদি এটি বলে তাহলে আমি বলব, তোমার মাথা নষ্ট হয়ে গেল নাকি?

রাফি হোসেন : কেন তুমি এটা বলবে?

তাসকিন : কারণ বাংলাদেশের সব ছেলে ওর জন্য পাগল আর ও কিনা আমাকে ভালোবাসবে। তবে জিনিসটা আসলে অনেক মজার হবে।

রাফি হোসেন : এটার জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

তাসকিন : দীর্ঘ সময়। একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি অল্প সময়ের মধ্যেই তার ভালো এবং খারাপ দিকগুলো বুঝে যাই।

রাফি হোসেন : যারা তোমার পেছনে পড়ে আছে আমি নিশ্চিত, এটা পড়ে তারা বুঝে যাবে তাসকিনের কেমন মেয়ে পছন্দ এবং তারা সেভাবেই এগোবে। পূজারটা শুনি কেমন ছেলে পছন্দ কর তুমি?

পূজা : ক্যামেরার পেছনে আমার মা আছে।

তাসকিন : হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরা ছেলেদের পছন্দ করবে, হিমু ধরনের ছেলেদের।

পূজা : না, হলুদ রঙ আমার পছন্দ না। কিন্তু হিমুকে পছন্দ করি। আমার মনে হয় যেহেতু আমি একটা কাজ করছি, সেহেতু আমি বর্তমানে আমার কাজ নিয়েই থাকতে চাই।

রাফি হোসেন : মা আছে বলে কী এমন বলছো?

পূজা : না, মা আছে বলে নয়। আমার মনে হয় আমার এখন কাজের প্রতি মনোযোগ দেয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাফি হোসেন : ঠিক আছে কিন্তু তুমি এটা বল যে তুমি কেমন ছেলে পছন্দ করবে।

পূজা : পরিবার থেকে যাকেই পছন্দ করবে তাকেই।

রাফি হোসেন : যাকে করবে তাকেই। ধর একটা মোটা কালো ছেলে ঠিক করল, তাকেই বিয়ে করবে?

পূজা : না না না। এতটুকু বিশ্বাস আছে যে আমার বাবা-মা ভালো ছেলেই ঠিক করবে।

রাফি হোসেন : আমাকে একটা কথা বল, তোমার কি কোনো নিজস্বতা থাকবে না?

পূজা : আমার মনে হয় যার সঙ্গে প্রেম করব বা যাকে বিয়ে করব, আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতে হবে তাকে। আমি খেয়েছি কিনা, কোনো কিছুতে ব্যথা পেয়েছি কিনা? মানে আমি ব্যথা পেলে সে-ও ব্যথা পেয়েছে এইরকম মনোভাব থাকতে হবে।

তাসকিন : মনে হচ্ছে কোনো সিনেমার কাহিনি শুনছি।

পূজা : এভাবে যেন সারাজীবন একসঙ্গে থাকতে পারি। সে আমার প্রতি যত্নবান থাকবে, আমিও তার প্রতি যত্নবান থাকব।

রাফি হোসেন : একটা কথা বল, তোমার কি মনে হয় ছেলেরা যত্ন না? দায়িত্বশীল না? চারিদিকে তো একজন সম্পর্কে জানার অনেক মাধ্যম রয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম রয়েছে?

পূজা : আমার তো মনে হয় এগুলো শুধু লোক দেখানো। ভালোবাসা যদি সত্যিই হয়, তাহলে এগুলো দেখানোর কি দরকার আছে?

তাসকিন : ফেসবুক এমন একটা মাধ্যম, যেখানে প্রেম করার পর মন ভাঙলেও স্ট্যাটাস দেয়। কিছুদিন পর ব্রেকআপ। কয়দিন পর ঠিকই একসঙ্গে।

রাফি হোসেন : আমার তো এসব কিছু মজাই লাগে।

পূজা : আমি প্রেম করব না। কারণ প্রেম করলে কষ্ট পেতে হয়। কষ্ট পেতে চাই না, তাই প্রেমও করব না।

রাফি হোসেন : কখনো কোনো সময় প্রেমে পড়নি? নাকি তোমার মা আছে বলে বলছ না?

পূজা : আমি তো আম্মুর সঙ্গে খুবই ফ্রি। আমার আম্মুর কাছে কোনো কিছু লুকাই না, সবই বলে দিই। কেউ যদি আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় সেটাও বলি। প্রেমে পড়েছি সেটা আমার কাজের।

রাফি হোসেন : এই বিষয়টা অনেক ভালো। আসলে পরিবারই সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মানুষের জীবনে তো উত্থান-পতন আসেই কিন্তু পরিবারে পাশে থাকলে সেগুলো খুব সহজেই সামলে নেয়া যায়।

তাসকিন : ভয় আর ভালোবাসা কখনো এক ছাদের নিচে থাকতে পারে না। আমার বাবা-মাকে যদি ভালোবাসি তাহলে এমন কিছুই করব না যাতে তারা কষ্ট পায়।

রাফি হোসেন : পূজা বলছিল যে শুধু প্রেম নিয়ে কথা বলছি এখন বলব ব্রেকআপ নিয়ে।

পূজা : আমি তো কখনো প্রেমই করিনি।

রাফি হোসেন : না, এই প্রশ্নটা তাসকিনের জন্য।

তাসকিন : আমার ক্ষেত্রে কখনো ব্রেকআপ ঘটেনি। কিন্তু আমি অনেকের ব্রেকআপ হতে দেখেছি।

রাফি হোসেন : জীবনে কি কখনো কোনো প্রেম করোনি?

তাসকিন : প্রেম তো করেছিই। আসলে ব্রেকআপটা হচ্ছে পারস্পরিক ব্যাপার। এটা একটা সাধারণ ব্যাপার। পরস্পর একসঙ্গে পরিকল্পনা করে ব্রেকআপের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রেকআপটা ভালো মনে হয় না।

রাফি হোসেন : এখন পর্যন্ত কয়টি ব্রেকআপ করেছো?

তাসকিন : একটাও না। আমার এখনো এই সুযোগটা হয়নি করে দেখার। কখনো কারো ওপর মন থেকে রাগ বা ঘৃণা পুষে রাখি না। মনে করি রাগ বা ঘৃণা থেকে যদি একটা বিচ্ছেদ হয়, তাহলে তার প্রভাবটা কিন্তু থেকে যায়। তাই এসব বিষয় এড়িয়ে চলি।

রাফি হোসেন : তুমি যেটা বললে দু’জনে কোনোকিছু যদি বুঝে করা হয়, তাহলে খারাপ প্রভাব পড়ে না। আসলে একটা সম্পর্ক যে সবসময় টিকে থাকবে সেটা তো নয়। শুধু প্রেমের ক্ষেত্রেই না, এটা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও হতে পারে।

তাসকিন : বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক। তবে সত্যিকারের ভালোবাসাতে তো ব্রেকআপ বলে কিছু নেই। এটা ভিন্ন একটা ব্যাপার।

পূজা : তবে অনেকেই ব্রেকআপের পরও ক্ষতি করার চেষ্টা করে।

রাফি হোসেন : তো কেন এমনটা হয় বলে মনে হয়?

তাসকিন : একটা ব্রেকআপ হওয়ার পরও একজন থাকে যে হয়তো বিষয়টা মেনে নিতে পারে না। আসলে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়।

রাফি হোসেন : একটা যে বিতৃষ্ণা সেটা থেকে যায়, তাই না?

তাসকিন : সব ক্ষেত্রে সত্যিকারের বন্ধুত্বটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কাজের ক্ষেত্রেও তাই। একজন সহশিল্পীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকাটা খুবই জরুরি।

রাফি হোসেন : নিশ্চয়ই কাজের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া ঠিকমতো না হলেও ভালোভাবে হবে না।

তাসকিন : আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, একসঙ্গে কাজের জায়গায় যাচ্ছি। ভালো-খারাপ সময় কাটাচ্ছি। যদি একে অপর থেকে সমর্থন পাই, তাহলে কাজটা স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। যদি সেটা না পাই, তাহলে তো কাজের ক্ষেত্রেও এর খারাপ প্রভাবটা পড়ে।

পূজা : বর্তমানে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে ‘শান’ নামে একটি ছবিতে কাজ করছি। এটা আমার তৃতীয় কাজ। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া খুবই ভালো।

রাফি হোসেন : সিয়াম না তাসকিন?

পূজা : যেহেতু ওর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। কিন্তু সহশিল্পী হিসেবে অনেক ভালো। সিয়ামের সঙ্গে এর আগে আরো দুটি ছবি করেছি। সিয়ামের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এতই ভালো, কী ভাবছি সেটা সিয়াম বুঝে যায়। আমাদের পরিচালক রায়হান রাফির সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া এত ভালো ছিল, সেটা ছবিতেও অনেক কাজে দিয়েছে।

রাফি হোসেন : আমি আশা করছি, সামনে তোমরা আরো একসঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু এই ছবির পরিচালক তো আলাদা?

পূজা : হ্যাঁ, এমএ রাহিম।

তাসকিন : হ্যাঁ ছবিতে খুব ভালো কাজ হচ্ছে। খুব ভালো সম্পর্ক সবার মাঝে। সবাই খুব মজা করে কাজটি করছি।

পূজা : ক্যামেরার সামনে আমরা যতটা সিরিয়াস, ক্যামেরার পেছনে ঠিক তার উল্টোটা। ক্যামেরার পেছনে অনেক মজা করি।

তাসকিন : শান ছবিতে প্রেম, আবেগ, অ্যাকশান সবই রয়েছে। অনেক ভালো গল্পের ছবি।

রাফি হোসেন : বাস্তব জীবনে কেমন মজা কর?

তাসকিন : বাস্তবেও তাই, আমি মানুষকে অনেক হাসাই।

পূজা : দর্শকদের বলব, আপনারা আমাদের অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন। শুধু আমাদের ছবি না, সবসময় সব বাংলা ছবির সঙ্গে থাকুন। সবাই হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখবেন। বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকুন, আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

তাসকিন : শ্রোতাদের উদ্দেশে বলতে চাই, ভালোবাসাই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ভালো ছবি হোক দর্শকদের বিনোদন। আপনাদের বিনোদন দেয়ার জন্য সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। তাই আপনারাও আমাদের পাশে সবসময় থাকুন।

 

অনুলিখন : রওনক ফেরদৌস

মেকআপ ও স্টালিং : ফারজানা মুন্নি, কিউবেলা

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।