স্মৃতিশক্তি বাড়ায় অ্যালমন্ড

ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন আর ফাইবার সমৃদ্ধ অ্যালমন্ডে আছে সুস্বাস্থ্যের আরো নানা গুণ। অ্যালমন্ড খেতে পারেন কাঁচা অথবা টোস্ট করে। আবার কিনতে পাওয়া যায় স্লাইসও। সিরিয়ালের সঙ্গে, ময়দা, তেল, বাটার বা অ্যালমন্ড দুধ। যেভাবে খুশি সেভাবে। সুস্বাস্থ্যে সত্যিই উপকারী।

বিভিন্ন রকমের ড্রাই ফ্রুটের মধ্যে অ্যালমন্ডের নিউট্রিশনাল ভ্যালু সব থেকে বেশি। পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন আপনি যদি অ্যালমন্ড খেতে পারেন, তাহলে এর মতো উপকারী ড্রাই ফ্রুট আর নেই। অ্যালমন্ডে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড, যা বিভিন্ন রকমের অসুখ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

 ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য অ্যালমন্ডের ভূমিকা অনন্য। প্রতিদিন সকালে ৩-৪টি অ্যালমন্ড দুধ অথবা পানিতে ভিজিয়ে বাচ্চাদের খেতে দিন। এতে স্মৃতিশক্তি ভালো হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে অ্যালমন্ড খেতে পারলে ভালো কোলেস্টেরল অথবা এইচডিএলের মাত্রা বাড়াতে আর খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা কম রাখতে সাহায্য করে।

অ্যালমন্ডে থাকা মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন এবং পটাশিয়াম হার্ট ভালো রাখতে কার্যকর। ভিটামিন ‘ই’ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে বা হার্টের নানা অসুখ হওয়ার আশঙ্কা দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালমন্ডের ম্যাগনেশিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে ও পটাশিয়াম ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণেও অ্যালমন্ড কার্যকর। অ্যালমন্ডে আছে ভিটামিন ‘বি’, যা চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন ‘বি’ থাকায় প্রেগন্যান্সির সময় অ্যালমন্ড খেলে মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে।

এক কাপ কাটা অ্যালমন্ডে রয়েছে- পানি ৬.৩১ গ্রাম, এনার্জি ৮২৮ কিলোক্যালোরি, প্রোটিন ৩০.২৮ গ্রাম, ফ্যাট ৭১.৪০ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩০.৪২ গ্রাম, ফাইবার ১৭.৯ গ্রাম, চিনি ৬.০১ গ্রাম, কোলেস্টেরল ০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ৫.৩১ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৮৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৬৮৮ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১০৪৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম, জিংক ৪.৪৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ০ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .২৯৩ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লোবিন ১.৬২৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘বি’৬ ০.১৯৬ মাইক্রোগ্রাম, বি১২ ০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ (RAE) ০ মাইক্রোগ্রাম, অ (১০) ৩ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট, ভিটামিন ‘ই’ ৩৬.৬৫ মিলিগ্রাম, ক্যাফেইন ০ মিলিগ্রাম।

প্রতিদিন ৪-৫টি অ্যালমন্ড খাওয়াই যথেষ্ট। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আগের রাতে ভিজিয়ে রাখা অ্যালমন্ড খান। পুষ্টিগুণে ভরপুর অ্যালমন্ড সুস্বাস্থ্যে উপকারী। তবে যাদের অ্যালমন্ডে অ্যালার্জি রয়েছে, তারা অ্যালমন্ড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।