সাক্ষাৎকার : একজন নোবেলম্যান

সারেগামাপার কল্যাণেই দুই বাংলায় এখন জনপ্রিয় একটা নাম নোবেল। বিভিন্ন ধরনের গান গেয়ে বিচারকদের পাশাপাশি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। আগামীতে আরো হৃদয় ছুঁয়ে যাবেন সবার। সারেগামাপার ছুটির অবসরে বাংলাদেশে এসে নিজের জীবনের অনেক একান্ত না বলা কথা ভাগাভাগি করলেন আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেনের সঙ্গে। তারই অংশবিশেষ।

রাফি হোসেন : নোবেলকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। বর্তমানে দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তোমার সারেগামাপার যাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত বলো আমাদের পাঠকদের।

নোবেল : আমার চাচাতো বোন একদিন হঠাৎ করে বলল জি বাংলায় একটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সারেগামাপা বলে। সেখানে আমাকে অডিশন দিতে বলল। চাচাতো বোনের কথা শুনে অডিশন দিতে গেলাম। তার পরের বিষয়টা তো সবাই জানেন।

রাফি হোসেন : সারেগামাপা দেখে মনে হয় বিচারকরা তোমাকে বেশ পছন্দ করে। তোমার তিনজন বিচারক শান্তনু মৈত্র, শ্রীকান্ত আচার্য্য, মোনালী ঠাকুর সম্পর্কে এবং উপস্থাপক যিশু সেনগুপ্ত সম্পর্কে তোমার কাছ থেকে জানতে চাই।

নোবেল : শান্তনু মৈত্র একজন ভালো কম্পোজার। তিনি এখন পর্যন্ত যতগুলো হিন্দি মুভিতে গান করেছেন, সবগুলো ভিন্ন ধরনের এবং অসাধারণ। এমন একজন গুণী মানুষের সঙ্গে থাকতে পারছি, তার মতামত জানতে পারছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। মোনালী ঠাকুর খুব ভালো একজন শিল্পী। অনেক দারুণ তার কণ্ঠ। তার কাছ থেকে যখন কোনো প্রশংসা পাই অনেক ভালো লাগে। শ্রীকান্ত আচার্য্য দাদার অনুপ্রেরণা আমার জন্য অনেক বেশী ভালোলাগার। যিশু দা আমার বন্ধুর মতো। খুবই অনুপ্রেরণা দেন। তিনি শিল্পী না হলেও মিউজিশিয়ান, ভালো ড্রামস বাজাতে পারেন। ভালো-মন্দ অনেক কিছু বোঝান আমাকে।

রাফি হোসেন : প্রথম থেকেই তুমি আত্মবিশ্বাস ছিলে নোবেল নামেই তোমাকে সবাই চিনবে, সারেগামাপার মাধ্যমে সেটা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি তুমি বিজয়ী না হও, তাহলে তোমার অনুভূতি কী হবে?

নোবেল : আমার কোনো অনুভূতি হবে না। সারেগামাপার বিজয়ী পাঁচবার হলেও আমার শ্রোতারা যে পরিমাণ ভালোবাসা দিয়েছেন এটা পাওয়া সম্ভব না। বিজয়ী হওয়া কোনো বিষয় না, তবে জিততে অবশ্যই চাইব। না জিতলে আমাকে যারা ভালোবাসেন একটু হলেও তারা কষ্ট পাবেন। আমি আমার জন্য জিততে চাই না। যদি সম্ভব হয় অবশ্যই জিতব।

রাফি হোসেন : তাহলে বলতে চাইছো বিজয়ী না হলে তুমি মেনে নেবে?

নোবেল : অবশ্যই মেনে নেব। এখানে সবাই ভালো গায়। এটা তো মাত্র শুরু হলো আমার সংগীত জীবনের। আরো অনেক পথ আমাকে যেতে হবে।

রাফি হোসেন : তুমি তাহলে গান নিয়েই থাকতে চাও?

নোবেল : আগেও গান নিয়ে ছিলাম, এখনো আছি, গান নিয়ে আগামীতেও থাকব।

রাফি হোসেন : তোমার বয়স এখন একুশ। এই যে হঠাৎ করে তোমার জনপ্রিয়তা, এই বাংলা ওই বাংলা দুইখানেই অনেক জনপ্রিয় তুমি। এটা তো আগে হয়নি তোমার জীবনে। কেমন লাগছে বিষয়টা?

নোবেল : আসলে জানতাম না এমন হবে। এখন যখন দেখছি এমন হচ্ছে, তখন সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি, যা হওয়ার হবে, এটা নিয়ে ভাবছি না। কিন্তু আমার স্বপ্ন আরো বড় ছিল। সমগ্র পৃথিবীজুড়ে কাজ করব। আমার বাবা-মা আমার এমন ইচ্ছার কথা শুনে বলত, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে সেগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে, আগামীতে আরো হবে।

রাফি হোসেন : তুমি তাহলে একক শিল্পী না ব্যান্ড নিয়েই এগিয়ে যেতে চাও?

নোবেল : একক শিল্পী হিসেবে কখনোই না, সারেগামাপায় ব্যান্ড নিয়ে পারফর্ম করতে পারছি না তাই। পারলে অবশ্যই করতাম। সুযোগ দিলে ব্যান্ড নিয়েই করতাম।

রাফি হোসেন : কত বছর বয়স থেকে তোমার গানের প্রতি আগ্রহ, গান করতে চাওয়া?

নোবেল : ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আমার ভালোলাগা ছিল। পাবলিক প্লেসে কানের মধ্যে আঙুল দিয়ে গান করতাম। কেননা কানে আঙুল দিয়ে গান করলে নিজের ভয়েজটা স্পষ্ট শোনা যায়। ২০১৫ সালে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মিউজিকের সঙ্গেই থাকব। ড্রিম থিয়েটারের গান শুনতে শুনতে আমার এমন সিদ্ধান্ত নেয়া। সারাদিন তাদের গান দেখতাম ইউটিউবে। ২০১২ সালে একজনের কাছে গিটার শিখতাম। তিনি আমাকে ড্রিম থিয়েটারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ড্রিম থিয়েটারের গান শুনতে শুনতে আমার মধ্যে আলাদা একটা অনুভূতি হতো। তারপর ২০১৬ সালে ঢাকায় এসে ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হলাম। ২০১৫ সাল থেকে মনে হয়েছে আমাকে গান করতেই হবে।

রাফি হোসেন : তাহলে বোঝা যাচ্ছে সারেগামাপার অডিশনটা তুমি সিরিয়াসলি নাওনি?

নোবেল : একেবারেই না। সবাই ঘুমাতে যায় রাতে আর আমি ঘুমাতে যাই সকাল ৭টা-৮টার দিকে। যেদিন সারেগামাপার অডিশন ছিল, সবাই সকাল ৪টা-৫টা থেকে দিয়াবাড়ীতে লাইন দিয়েছে অডিশনের জন্য। সেদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘুম থেকে উঠেছিলাম, ঘুম থেকে উঠে খুব ক্লান্ত লাগছিল। মাকে বলেছিলাম আমাকে ঘুম থেকে তুলে দিতে। মাকে বলেছিলাম, অডিশন দিতে যাব না। অনেক বড় প্রতিযোগিটা এটা। অনেক ক্ল্যাসিক্যাল জানা ছেলেমেয়ে এখানে অংশগ্রহণ করবে। আমার কিছু হবে না। মা বললেন, এত বড় জায়গায়, এত বড় বড় শিল্পীদের সামনে অংশগ্রহণ করবা, এটাই অনেক বড় পাওয়া। এটাই তোমার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। যাও অডিশন দিয়ে আসো।

রাফি হোসেন : তারপর তোমার মায়ের কথায় অডিশন দিতে গিয়ে টিকে গেলে। তোমার মা তোমাকে অনুপ্রেরণা দিত?

নোবেল : আমার মা অবশ্যই অনুপ্রেরণা দিত। আমরা তিন ভাই-বোন, আমি সবার বড়। কখনো আমি নিজেকে রিয়্যালিটি শোয়ের ম্যাটেরিয়াল ভাবিনি। কারণ আমার পথটা ভিন্ন। আমার পথের সঙ্গে এই পথের কোনো মিল নেই।

রাফি হোসেন : তারপর অডিশন দিয়ে তুমি টিকে গেলে। তখনো কি সিরিয়াসলি ভাবলে একটা কিছু করতে হবে?

নোবেল : প্রাথমিক অডিশন হওয়ার পর স্কাইপেতে তিনবার আমাকে অংশ নিতে হয়। যাদের পছন্দ হয়েছিল তাদের নম্বর নিয়ে গেছিল। অডিশন পেপারে ছবি ছিল না। জাজদের একজন আমার ছবি তুলে নিয়ে গেছিল। তখন কিছুটা আশাবাদী হয়েছিলাম। আমরা যে সাতজন টিকেছিলাম তাদের মধ্যে আমি কিছু না শিখে গিয়েছিলাম। বাকিদের একটা সংগীত ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। কেউ সেরাকণ্ঠ, কেউ ক্লোজআপ থেকে গিয়েছিল। তবে অংশগ্রহণ করার পর আমার বিশ্বাস একটু একটু করে বেড়ে যাচ্ছিল। মনে হলো আমিও ভালো গান করি। প্রথমদিকে ভয়ে ভয়ে থাকতাম এদের সঙ্গে হয়তো টিকতে পারব না। পরে দর্শকদের ভালোবাসায় ভাবলাম বাহ! আমিও তো ভালো। একটু একটু করে দেখলাম আমার একটা জায়গা আছে। প্রথমদিকে এটা ছিল না।

রাফি হোসেন : এই যে স্টেপ বাই স্টেপ টিকে গেলে। তখন কী প্রথম দিকের ছেলেখেলা ব্যাপারটা ছিল নাকি মনে হচ্ছে এখন একটা কিছু করতে হবে।

নোবেল : আমার তো এখনো মনে হয় না আমাকে দিয়ে কিছু হবে, ভেবেছিলাম দুয়েক রাউন্ড থেকে চলে আসব। কিন্তু দেখলাম বাদ হচ্ছি না। মানুষের ভালোবাসায় একটা জায়গা তৈরি হচ্ছে। আমার ভালোবাসার সবটা জায়গা দর্শকরা তৈরি করে দিয়েছে।

রাফি হোসেন : বিচারকরা তোমার সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা বলে, অনেক মার্ক দেয়। এখন তুমি স্টার। প্রথমে তো ছেলেখেলা ছিল। এখন কি বিষয়টা সেই পর্যায়ে রয়েছে নাকি মনে হচ্ছে কিছু একটা হতে হবে?

নোবেল : এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। তবে আমি মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, এরপর আর কী চাওয়ার থাকতে পারে। এসব রিয়্যালিটি শো থেকে যারা বের হয়েছে, তাদের অনেকেই হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইমরান ভাই, অরজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল তাদের একটা পরিচিতি গড়ে তুলেছে। মানুষের অনেক অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। সেটা কাজে লাগাতে চাই। আমার ব্যান্ড নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিযোগিতায় কী হবো এটা নিয়ে তেমন একটা ভাবনা নেই।

রাফি হোসেন : তার মানে একক শিল্পী হিসেবে তুমি পরিচিত হতে চাও না, ব্যান্ড নিয়ে পরিচিত হতে চাও?

নোবেল : আমি কখনো একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিতে চাই না। ব্যান্ডের সবাই মিলে কিছু একটা করতে চাই। যেমন এলআরবি, মাইলস, নগরবাউলের মতো কিছু একটা করতে চাই। আমি আমার মতো এগিয়ে যাব। আরো চারজনকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। তাদের কারোরই জনপ্রিয় হওয়ার শখ নেই। আমরা ভালো সংগীত করতে চাই। ভালো গান করতে চাই।

রাফি হোসেন : বাংলাদেশের গান এখন একটা নাজুক অবস্থার মধ্যে আছে। অ্যালবাম প্রকাশিত হয় না। নতুন ভালো গান নেই। এটা নিয়ে তোমার অভিমত কী?

নোবেল : আমার মনে হয় আমাদের অ্যালবাম প্রকাশিত হতে শুরু করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এতটুকু আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। আমাদের লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু, জেমসরা যেটা করে গেছেন, আমরা সেটা করে দেখাব।

রাফি হোসেন : এখন তো গান দেখার বিষয়, শোনার বিষয় না। কোটি কোটি লাইক একেকটা গানের। কিন্তু কী গান অনেকেই জানে না। তাহলে কী হলো বিষয়টা?

নোবেল : ভিউ দিয়ে গানের কোয়ালিটি বিচার করা যায় না। কিন্তু আমি এমন সংগীত সৃষ্টি করব না, যেটা মানুষ শুনবে না। মানুষকে শুনতেই হবে আমার সংগীত। শ্রোতা অবশ্যই গান শুনবে। তাদের জন্যই তো গান করব, কেন শুনবে না। আমি মিউজিশিয়ানদের জন্য গান করতে চাই না। যে গান সবাই শুনবে, সেই ধরনের গান করতে চাই।

রাফি হোসেন : তোমরা বললে ভালো গান করতে চাও। ভালো গানের সংজ্ঞা কী তোমার কাছে?

নোবেল : যে গান সব ধরনের মানুষকে স্পর্শ করতে পারে, তাকে আমার ভালো গান মনে হয়। আইয়ুব বাচ্চু, জেমসের গান সব শ্রেণির মানুষকে স্পর্শ করত। তাদের গান আমার ভালো গান মনে হয়।

রাফি হোসেন : তুমি নিজে একজন শিল্পী। তোমার কি মনে হয় এই ধরনের গান কখন সৃষ্টি হয়?

নোবেল : নিজের শেকড়কে বুকে ধারণ করে সংগীত করলে ভালো গান হওয়া অবশ্যই সম্ভব। বাংলাদেশে সংগীত করতে হলে এখানকার সোলটা থাকতে হবে। বাংলাদেশে আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, লাকী আখন্দ, আজম খান যেটা করে গেছেন, সেটা আমরা বিশ্বাস করি। এটাকে ভেতরে নিয়ে আমরা গান করতে চাই। শিকড়ের সঙ্গে থাকতে হবে। আইয়ুব বাচ্চু যেভাবে গিটার প্লেয়িং করেছেন, আর কারো পক্ষে এমন সম্ভব কিনা আমার জানা নেই।

রাফি হোসেন : তুমি বাংলাদেশের কোনো রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিলে কেউ তোমাকে এভাবে চিনত না। এতটা জনপ্রিয় হতে পারতে না।

নোবেল : নিজের দেশের জিনিস নিজের ঘরে রেখে খাচ্ছে না। অন্যের ঘরে রেখে খাচ্ছে।

রাফি হোসেন : তুমি প্রথাগতভাবে গান শেখোনি। কিন্তু অনেক কঠিন গান তুমি গাইতে পারো। এটা কীভাবে করো?

নোবেল : একটা গান শুনলে আমি গেয়ে দিতে পারি। এটা আমার বড় একটা গুণ। এছাড়া গান তোলার জন্য সারেগামাপাতে বেশ কয়েকদিন সময় পাওয়া যায়। সেই সময়ের মধ্যে গান তুলি। হারমোনিয়ামে গান করতে তেমন একটা ভালো লাগে না। তারপরও নিজের মতো গান তুলি। একটু প্র্যাকটিস তো করতে হয়। আমার ভয় কাজ করে না। তার কারণ আমি তো শিখে আসিনি। ভুল করলেও যায়-আসে না। খুব ভালো একজন লিসেনার আমি। অনেক গান শোনা হয়েছে। তবে আমার শোনা গানের বাইরেও গান করতে হয়েছে। যেমন ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’, ‘তুমি কত যে দূরে’, ‘কফি হাউজ’ গানগুলো।

রাফি হোসেন : ভক্তদের দেখলে কী করে নোবেল?

নোবেল : চোখে একটা কালো চশমা পরে নেই। যেন কিছুই দেখতে পাইনি। তার কারণ সামনে যে আমাকে আরো কিছু করতে হবে, সেই ক্ষুধাটা নষ্ট হয়ে যাবে। সেই কারণে ভক্তদের থেকে দূরে থাকি। সেটা ছেলে কিংবা মেয়ে যে-ই হোক।

রাফি হোসেন : তোমার আগামী পরিকল্পনা কী?

নোবেল : আগামী জুন মাসে আমার একটা সিঙ্গেল প্রকাশিত হবে। জুলাইতে সম্ভবত বড় একটা কিছু করব। সবাই আমার নতুন একটা গানের জন্য অপেক্ষা করছে। আমি চাই আমার শ্রোতারা আমার গানের সমালোচনা করুক। ভালো-মন্দ দেখিয়ে দিক। তাহলে আগামীতে আরো ভালো কিছু করতে পারব।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup