মজবুত উজ্জ্বল চুল

চুল সৌন্দর্যের প্রতীক। যতটা সুন্দর আপনি দেখতে তা আরো সুন্দর দেখায় আপনার চুলের কারণে। চুল যদি সুন্দর, ঝলমলে মজবুত না হয়, তাহলে মানানসই হেয়ার কাট বা স্টাইলিং কোনোটাই করলে ভালো লাগে না। তাই সৌন্দর্য রক্ষার্থে চুলের সঠিক যত্নের প্রয়োজন। চুলের যত্নে তেলের কার্যকারিতার কথা নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। তবে আপনার চুলে কোন তেল ব্যবহার করবেন সেটা আপনার চুলের ধরন বলে দেবে। তেলের চিটচিটে ভাবের জন্য আমরা অনেকেই চুলে তেল দেয়া থেকে বিরত থাকি। তবে আবার চুলের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়া মাত্র আমরা চুলে তেল লাগাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বিভিন্ন ধরনের তেল আমরা চুলের যত্নে ব্যবহার করে থাকি।

নারকেল তেল : এই তেল ব্যবহারে আপনার চুল তাড়াতাড়ি বাড়বে, ঘন ও মজবুত হবে। ভিটামিন আর এসেনসিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় তা স্ক্যাল্পে মরা কোষ দূর করে চুল বাড়াতে সাহায্য করে। খুশকি দূর করে, সূর্যরশ্মির তেজ থেকে চুলের ড্যামেজ হওয়া থেকে বাঁচায়। পরিষ্কার চুলে নারকেল তেল লাগান গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত। এবার চুল বেঁধে ঘরের বা নিজের কোনো কাজে মনোযোগ দিন ৩০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

জোজোবা তেল : ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। ‘সি’, ‘ই’, আয়োডিনসহ তিন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে এই তেলে। জোজোবা তেল স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজ ও খুশকিমুক্ত করে। চুল মজবুত করতে সাহায্য করে। চুল পড়া কমিয়ে চুল ঘন হতে সাহায্য করে। ছোট চুলের জন্য ১ টেবিল চামচ বড় চুলে ২ টেবিল চামচ জোজোবা তেল গরম করে লাগান। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

অভিল অয়েল : এক কথায় সর্বগুণসম্পন্ন তেল। ভিটামিন ‘ই’ তো রয়েছেই, সঙ্গে ওলিওক্যান্থল, যা অন্যতম প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। চুলে অলিভ অয়েল ব্যবহারে হেয়ার গ্রোথ বাড়াতে সাহায্য করে। স্ক্যাল্পে নিয়মিত ব্যবহারে খুশকি দূর করে। ফাঙ্গাস এবং আরো নানা স্ক্যাল্পের সমস্যা রোধ করে। চুলের শুষ্কতা দূর করে। চুলের স্টাইলিংয়ে যে কেমিক্যাল ব্যবহার হয়, তা যেন চুলের ক্ষতি না করে তাই অলিভ অয়েল চুলে ব্যবহার করা হয়। ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২ চা-চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। হালকা গরম অলিভ অয়েল স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করুন। স্ক্যাল্পে নানা সমস্যা দূর করে চুলের গোড়া মজবুত করবে।

অ্যালমন্ড তেল : অ্যালমন্ড তেলের হেলদি গুণাগুণ যা চুলের জন্য আশীর্বাদ। ওমেগা-৩-এর মতো ফ্যাটি অ্যাসিড, ফসফলিপিডস, ভিটামিন ‘ই’ এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে অ্যালমন্ড তেলে। এই তেল চুলকে নারিস করে মজবুত হতে সহায়তা করে। চুল পড়া রোধ করে, চুল ফাটা রোধ করে। ভেজা চুলে অ্যালমন্ড তেল ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে চুল আঁচড়ে নিন। হালকা গরম অ্যালমন্ড তেল চুলে, স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন ঘষে ঘষে। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল পড়া সবার জন্য একটি কমন সমস্যা। অ্যালমন্ড তেল চুলের বাড়তি তৈলাক্ত ভাব কন্ট্রোল করে। শুকনো স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগায়। ২ চা-চামচ অ্যালমন্ড তেলের সঙ্গে ২ চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুলে এবং স্ক্যাল্পে মাখুন। হালকা ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু হারবাল হলে ভালো হয়।

আমলা তেল : আমলার তেল স্ক্যাল্পে চুলের গোড়া মজবুত হতে সাহায্য করে। চুল সাদা হওয়া রোধ করে, চুল লম্বা হয়, চুল পড়া বন্ধ করে, খুশকিমুক্ত হতে, স্ক্যাল্পের শুষ্কতা দূর করে, আমলা তেলে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। নিউট্রিয়েন্টস এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস। আমলা তেল কিছুক্ষণ স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে নিন, তা পুরোপুরি স্ক্যাল্পে মিশে যায়। চুল পড়া কমাতে ২ চা-চামচ আমলা তেল, ২ চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে, চুলে দিয়ে পুরো শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। আমলা তেলের সঙ্গে আমলার রসও চুলের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত।

অর্গান তেল : অর্গান গাছের ফলের বীজ থেকে তৈরি হয় এই অর্গান তেল। এর ময়েশ্চারাইজেশন তো ভালো, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে এমোলিয়েন্ট, সিকাট্রি জ্যান্ট ইত্যাদি উপাদান, যা আর্দ্রতা প্রদান করার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে। চুলের হট অয়েল ট্রিটমেন্টে অর্গান অয়েল দারুণ কার্যকর। চুলকে হাইড্রেট করে, মসৃণ করে। নিয়মিত ব্যবহারে চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, নেতিয়ে পড়া চুলকে শাইন করতে সাহায্য করে, চুল ফাটা রোধ করে, স্ক্যাল্প ট্রিটমেন্ট, চুলের শাইনি ভাব ফিরিয়ে আনতে অর্গান তেলের জুড়ি নেই।

অয়ালনাট তেল : এই তেল চুল পড়া কমায়, খুশকি দূর করে, চুল বৃদ্ধি করে, অ্যান্টি ফাঙ্গাস হিসেবে কাজ করে। চুল উজ্জ্বল করে, চুলের মরা কোষ দূর করতে সাহায্য করে, স্ক্যাল্পে চুলকানি রোধ করে। চুলের গোড়া শক্ত করে চুল মজবুত করে।

যেকোনো চুলের স্টাইলিংয়ের জন্য চুলের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সপ্তাহে একদিন হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। শ্যাম্পু করার ৩০-৪০ মিনিট আগে তেল ম্যাসাজ করুন স্ক্যাল্পে। এতে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হবে। এবার টাওয়াল হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে চিপে মাথায় পেঁচিয়ে নিন। ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত চুল পরিচর্যায় এভাবে তেল ব্যবহার করুন। চুল মজবুত হবে। স্ক্যাল্পের সমস্যা কমবে। অলিভ অয়েল, মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সামান্য গরম করে চুলে লাগান, ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুলের কন্ডিশনার হিসেবে এই প্যাক দারুণ কাজ করে। চুল মজবুত রাখতেও সাহায্য করে।

 তেল চুলের জন্য উপকারী। চুল লম্বা, মজবুত, আর চুলের নানা সমস্যা দূর করতে তেলের বিকল্প নেই। নানা গুণসমৃদ্ধ বিভিন্ন উপাদানে তৈরি তেল আলাদাভাবে ব্যবহার না করে যদি সব কার্যকরী গুণসম্পন্ন উপাদানে তৈরি তেল একসঙ্গে পাওয়া যায়, তবে তা ব্যবহারে চুলের উপকার হয় বৈকি। তাই চুলের যত্নে সঠিক তেল ব্যবহার করুন। চুল উজ্জ্বল, মসৃণ ও মজবুত করুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup