ঈদের গহনা

ঈদের দিন সাজগোজ করে কিছুক্ষণের জন্যও বেড়াতে যান না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায় আজকাল। ঘুরতে বেরোতে না চাইলেও ঘরে বসে ঈদ উদযাপন করতে সামান্য হলেও সাজেন কম-বেশি সবাই। পুরুষরা অন্তত ঈদের পোশাকটি পরে নেন, নারীরা পোশাকের সঙ্গে হালকা গহনা। আর ঘরের বাইরে ঈদ করতে চাইলে অনেকেই ভারী গহনা বেছে নেন। তবে যা-ই পরুন না কেন, পোশাকের সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই।

নারীদের ঈদের কেনাকাটা শুধু পোশাক আর জুতোতে সীমাবদ্ধ থাকে না। ছোট এক জোড়া কানের দুল হলেও নারীরা গহনা কিনে থাকে। হালকা সাজ ও সিম্পল পোশাকের সঙ্গে গহনা হয় সিম্পল, আর ভারী সাজ ও জাঁকজমক পোশাকের সঙ্গে গহনা হয় গর্জিয়াস। তবে আবার ভারী সাজের সঙ্গে সিম্পল গহনাও বেশ মানিয়ে যায়।

লেস ইজ মোর

ঈদের পোশাক সাধারণত জাঁকজমকই হয়ে থাকে। তবে এখন কেউ একটি পোশাকে সন্তুষ্ট হতে পারে না। দিনের ও রাতের জন্য আলাদা পোশাক কিনে থাকেন অনেকে। অনেকে ঈদের সময় এক সঙ্গে অনেক পোশাক কিনে রাখে নতুন ডিজাইনের প্রাপ্যতার জন্য। এবারের রোজার ঈদের সময় বেশ গরমই থাকবে বলা যায়। দিনের বেলায় বাসা থেকে বের হলে মাথার ওপর রোদ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে দিনে পরার জন্য পোশাকটি আরামদায়ক ও সিম্পল হলে আপনার জন্যই ভালো হবে। সিম্পল নকশার জামার সঙ্গে গহনা হিসেবে ছোট কানের দুল, টপ, হাতে চুড়ি ও গলায় ছোট নেকলেস পরলে আর কিছু লাগে না। সিম্পল লুক কিন্তু অনেক সময় গর্জিয়াসনেসেরই চিহ্ন। এবার ঈদে সিম্পল গহনা কিনে ফেলতে পারেন।

কানে পরার জন্য রূপার ছোট ঝুমকাগুলো কিন্তু বেশ মানাবে যেকোনো পোশাকের সঙ্গে। রূপার ছোট গহনার কথা ভাবলে প্রথমেই হয়তো আড়ংয়ের কথা মনে আসবে। বেশকিছু অনলাইন শপ খুলে গেছে আপনাকে ভিন্ন ডিজাইনের রূপার কানের দুল দিতে। যেখান থেকেই কিনুন না কেন, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনলেই ঈদের সাজ পরিপূর্ণ হবে।

গলায় ছোট চোকার ধরনের নেকলেস বা সিম্পল নকশার পেন্ডেন্ট একটা এলিগেন্স যোগ করবে আপনার সাজে। পোশাক খুব সাদাসিধা হলে গলায় একটু গর্জিয়াস নকশার পেন্ডেন্ট পরে নিলে আপনার লুকও গর্জিয়াস হবে।

সোনা, রূপা, হীরা

ঈদের সময় অনেকের বিয়ের দাওয়াতও পড়ে যায়। এক্ষেত্রে গহনা পছন্দ করতে হলে অনেকেই সোনা, রূপা কিংবা হীরার দিকে ঝোঁকেন। ঈদ এবং বিয়ে দুটোই সারা যাবে এমন গহনা কেনার কথাই মাথায় থাকে। শপিং মল থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী গহনার ডিজাইন করে দিতে যেমন পছন্দ করে, তেমনই অনেকে রেডিমেড গহনাকে সবচেয়ে ভালো অপশন মনে করেন।

ডিজাইন করে গহনা বানাতে হলে হাতে কিছু সময় নিয়ে শপিং সেরে ফেলা উচিত। পোশাকের সঙ্গে যাবে এমন নকশা বানাতে আগে পোশাকটা কেনা জরুরি। আবার হাতে সময় না থাকলে অনেকে রেডিমেড সোনা, রূপা কিংবা হীরার গহনা কিনছেন। রেডিমেড গহনার ক্ষেত্রে আপনাকে নকশা ঠিকমতো বানানো হলো কিনা তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, সময়মতো গহনা হাতে পাবেন কিনা তা নিয়েও ভাবতে হবে না, শুধু দোকানে গিয়ে গহনা পছন্দ করলেই কাজ শেষ।

সোনা, রূপা এবং হীরার গহনাগুলো স্বাভাবিকভাবে দামি হওয়ায় বিশ্বাসযোগ্য জায়গাগুলো থেকেই কেনা উচিত হবে। রূপার গহনার ক্ষেত্রে অনলাইন শপগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। তবে অনলাইন শপের রূপার গহনাগুলো পুরোপুরি রূপার না। পিতলের ওপর রুপার কোটিং করা এই গহনাগুলো বিয়ের দাওয়াত এবং ঈদের দিন পরার জন্য একদম মানানসই।

শপিংমল নাকি অনলাইন শপ

যেখান থেকেই আপনি ঈদের গহনাটি কিনুন না কেন, আপনি চাইবেন আপনার টাকা যেন মার না খায়। এক্ষেত্রে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে অনলাইনে শপিং করতে ভয় পায়। গহনার দাম অন্যান্য জিনিসের থেকে বেশি হওয়ায় ক্ষতি করতে চাইবেন না অনেকে। আর অনলাইনে শপিং করায় আপনার গহনাটি আগে থেকে হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে প্রথমে ছোট কিছু অনলাইনে আনিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেব। ছবি ও বর্ণনার সঙ্গে পণ্য মিলে গেলে বড় জিনিস আনাতে দ্বিধা কেটে যাবে আপনার।

বড় শপিং মলের গহনার দোকানগুলোর রেডিমেড গহনার দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। দামাদামি করে খুব একটা কমানোও সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বড় শপিং মল থেকে গহনা কিনতে চাইলে পছন্দের ডিজাইন দিয়ে বানিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পুঁতি, পাথর, মুক্তা

পুঁতি, পাথর ও মুক্তা দিয়ে বানানো গহনা অল্প দামে পাওয়া গেলেও আপনার ঈদের পোশাকের এলিগ্যান্স বাড়িয়ে দেবে এগুলো। সব বয়সী নারীরা এই গহনাগুলো পরতে পারবেন এবং কম-বেশি সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে যাবে এগুলো। গহনার দোকান বা অনলাইন শপ, যেখানেই খুঁজুন না কেন অল্প দামের এই গহনাগুলো আপনার নজর কাড়বে। একই জিনিস বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দাম হওয়ায় দাম তুলনা করে নেয়া ভালো হবে কেনার আগে। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েই এগুলো বেছে নেয়া ঠিক হবে। খুব একটা কন্ট্রাস্ট যেন না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখলে ঈদের দিন এগুলো খুব ভালোভাবে চালিয়ে নিতে পারবেন। খুব বেশি ভারী না হওয়ায় গরমেও এগুলো পরে বেশ আরামে থাকবেন।

ইমিটেশন

সোনা, রূপা বা হীরার গহনায় খরচ না করতে চাইলে ইমিটেশন গহনা বেছে নিতে পারেন গর্জিয়াস লুকের জন্য। সব সময়ের মতো এ বছরও জমজমাট ইমিটেশন গহনার দোকানগুলো। এর কারণ বরাবরই সোনা, রূপা ও হীরার বিকল্প হিসেবে ইমিটেশন গহনা নারীদের কাছে প্রিয়। পাথর লাগানো এই গহনাগুলো হুবহু সোনা, রূপা বা হীরার মতো না হলেও অনেকে ভুল ভেবে আসল সোনা, রূপা বা হীরা ভেবে ফেলে।

অ্যান্টিক গহনা

অ্যান্টিক গহনার চাহিদা পুরো বছর ধরে থাকলেও ঈদের সময় এই গহনাগুলো কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। অ্যান্টিক গহনা সিম্পল বা গর্জিয়াস দুই লুকের জন্যই মানিয়ে যায়। অ্যান্টিক গহনার দোকান থেকে গহনা খুঁজে বের করা আবার আরেকটি কাজ। আলাদা কিছু খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয় ক্রেতাদের। তবে সময় দিলে পুরনো এই গহনাগুলোর মধ্যে থেকে চমৎকার কিছু খুঁজে ফেলতে পারেন।

যে গহনাই এবার ঈদ উপলক্ষে কিনুন না কেন, দাম বুঝে কেনাটা জরুরি। ঈদের সময় গহনার দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে পছন্দ ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয় করে ঈদের গহনার শপিং সেরে ফেলুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup