ঈদ অনুষঙ্গ : টুপি, জায়নামাজ, আতর

কিছুদিন বাদেই ঈদ। অনেকেই ঈদের কেনাকাটার কাজও সেরে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। সবাই নিজের সাধ্যমতো কিনে নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের পোশাক-আশাক। ঈদের সকালে সবাই নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে যাবেন। তবে নতুন পোশাকের সঙ্গে আতরের সুবাস আর মাথায় টুপি না থাকলে ঈদের সাজে একেবারেই পূর্ণতা আসে না। এ কারণে নতুন পোশাক কেনার পর ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে।

দোকানিরা জানান, রমজানের শুরু থেকেই টুপি-আতর-তসবির বিক্রি বেড়ে যায়। আর কেনাবেচার এই রমরমা ভাব চলবে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট, দক্ষিণের গেট-সংলগ্ন ফুটপাতের দোকানগুলোতে আতর-তসবির বিক্রিবাট্টা বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন দামের বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে টুপি, তসবি, সুরমা ও জায়নামাজ।

টুপি : সাধারণ পোশাক-আশাক সারা বছরই কিনতে হয়। কিন্তু টুপি? শুধু ঈদের আগেই খোঁজ পড়ে এ ইবাদত-অনুষঙ্গের। তবে যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাদের কাছে টুপির বড় সংগ্রহ এমনিতেই থাকে। তারপরও ঈদের আগে নতুন টুপি যোগ করে নতুন আনন্দ। বাজারে নানা ধরন ও মানের টুপি পাওয়া যায়। দেশে তৈরি টুপির সঙ্গে পাওয়া যায় পাকিস্তানি, আফগান, চীনা, ভারতীয় ও দুবাইয়ের টুপিও। এছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও আফগানিস্তানের টুপিও পাবেন। দেশে তৈরি সাধারণ একেকটি গোল টুপির দাম পড়বে ৮০ থেকে ২৫০ টাকা। সুতা দিয়ে তৈরি টুপির দাম পড়বে ৬০ থেকে ২০০ টাকা। বিদেশি টুপি কিনতে খরচ করতে হবে ৩৫০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। টুপির ডিজাইন বৈচিত্র্যের কারণে দামে তারতম্য আসবে। জরির কাজ করা গোল টুপি বা তুরস্কের উঁচু টুপির তুলনায় সুতার জালি টুপি ও উলের টুপির দাম কিছুটা কম পড়বে।

আতর : আতরের ঘ্রাণে কেমন যেন স্বর্গীয় এক অনুভূতি আছে। এ ঈদে আপনিও নিশ্চয় নিজেকে একটু স্বর্গীয় রূপে সাজাতে চান। কিনে ফিলুন আতর। দেশের বাজারের বেশিরভাগ আতরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। নানা ব্র্যান্ডের আতর পাওয়া যায় বাজারে। যেমন- আম্বার, হুগোবস, গুচি, রোম্যান্স, সিলভার, মেশক আম্বার, জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্যাদি। এছাড়া একেবারে দেশি ব্র্যান্ড হিসেবে বাজারে আছে উদ বা আগর নামের আতরও। বাজারে থাকা শতাধিক রকমের আতরের ছোট বোতলের দাম পড়বে ১০০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার মধ্যে। বড় বোতল পাওয়া যাবে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিত্তবান ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ২ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার আতরও।

জায়নামাজ : ঈদের নামাজের সময় ভালো একটা জায়নামাজে বসতে না পারলে আপনার কাছে একটু খালি খালি লাগতেই পারে। সুতরাং কিনে ফেলুন। দেশের বাজারে দেশি জায়নামাজের চেয়ে বিদেশি জায়নামাজই পাওয়া যায় বেশি। তুরস্ক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এমনকি বেলজিয়ামের জায়নামাজও পাবেন বাংলাদেশে। রঙ-নকশায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সব জায়নামাজ। কিনতে খরচ করতে হবে ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশীয় জায়নামাজের দাম কিছুটা কম। দেশি একেকটি জায়নামাজের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড়ের কোমলতা আকার ও ডিজাইনের মানের কারণেই দাম কমবে বা বাড়বে।

তসবি : ঈদের নামাজের পর খুতবা শুনতে শুনতে বা নামাজের আগে অপেক্ষায় বসে তসবির অভাব অনুভূত হতে পারে আপনার কাছে। তো দেরি না করে কিনে ফেলুন একটি তসবি। বাজারে নানা পদের তসবি আছে। কাঠ, পাথর ও ক্রিস্টালের তৈরি তসবিও পাবেন, যা হয়তো আপনার সংগ্রহকে আরো সমৃদ্ধ করবে। একেকটি তসবির দাম পড়বে ৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কোথায় পাবেন : টুপি, আতর, তসবি ও জায়নামাজ পাওয়া যায় ঢাকার সব শপিংমলেই। তবে সাধারণের নাগালের সহজলভ্য দামে পাওয়া যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটে। সেখানে ভবনের ভেতর ও বাইরে পাওয়া যাবে এসব সামগ্রী। মিলবে সুগন্ধে ম-ম করা আতরও। বায়তুল মোকাররম মার্কেট ছাড়াও এসব সামগ্রী পাওয়া যাবে কাকরাইল মসজিদ মার্কেট, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, গুলিস্তান ও মৌচাক মার্কেটে। তবে এসব সামগ্রীর ব্যাপারে যারা একটু সৌখিন, তারা এসব কেনার জন্য যেতে পারেন যমুনা ফিউচার পার্কসহ অভিজাত শপিংমলগুলোতে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।