স্বাস্থ্য ফিচার : রমজানে খেজুর

রমজান মাস, ঘরে ঘরে ইফতারে খেজুরের ব্যবহার নিয়মিত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন তিনটি করে খেজুর খেলে শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদহজম, কোলাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আর সেহরি বা ইফতারে খেজুর খেলে শরীর এনার্জি পায়। একটা সময় ছিল যখন ইফতারে প্রধান খাবার খেজুর আর পানি ছিল।

তুরস্ক, ইরাক, মরক্কোর খাবার-দাবারে খেজুরের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়। তবে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই নয়। পশ্চিমা দেশগুলোতেও খেজুরের চাহিদা রয়েছে। আমেরিকার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও দক্ষিণ ফ্লোরিডা খেজুর উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। সৌদি আরবে খেজুরের উৎপাদন সম্পর্কে নতুন কিছু বলার নেই। সেখানকার খেজুরের স্বাদই আলাদা। আমাদের দেশেও খেজুর উৎপাদন হয়। শীতের সময় খেজুরের রস থেকেই গুড় তৈরি করা হয়।

খেজুরের রস তো স্বাদের। আর খেজুরের পৃষ্টিগুণও অনেক। সুস্বাদু এই ফলে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, খনিজ ও ভিটামিন। বিশেষ করে যারা কনস্টিপেশন বা পেটের রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য খেজুর বেশ উপকারী। প্রচুর ফাইবার থাকায় নিয়মিত খেজুর খেলে বাওয়েল মুভমেন্ট ঠিক থাকে। ফলে পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয় না। বদহজম, অ্যাসিডিটি বা পাকস্থলীর আলসারের ক্ষেত্রেও উপকার করে খেজুর। তাই সারাদিন রোজা রাখার পর খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা উত্তম।

যাদের কিছুক্ষণ পর পর খাবার খেতে ইচ্ছা করে, তারা নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন। একসঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। রক্তস্বল্পতা দূর করতেও খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। সোডিয়ামের মাত্রা কম আর পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় হৃদযন্ত্রের সক্রিয়তা বাড়িয়ে তোলে খেজুর। উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেশিয়াম থাকার কারণে শরীর পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। খেজুরের মিষ্টির পরিমাণ এত বেশি থাকে যে এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। খেজুরে উপস্থিত খনিজ ও ভিটামিন হাড়কে শক্তপোক্ত করে তোলে। তাই অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, তামা, ভিটামিন কে ও অ্যাসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় নিয়মিত খেজুর খেলে বোন মেটাবলিজম ভালো থাকে। খেজুরে প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে ভূমিকা রাখে। খেজুরের পুষ্টিগুণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর শরীরে পর্যাপ্ত এনাজি আনার ক্ষমতা খেজুরের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে। এখন শুধু খালি খেজুর নয়, খেজুরের তৈরি নানা স্বাদের খাবারের চাহিদাও ব্যাপক। তাই শরীরে এ রমজানে ক্লান্ত না থাকার জন্য সেহরি ও ইফতারে খেজুর খান।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।