ঝড়ের মধ্যে কেবল মায়ের মুখ ভেসে উঠছিল : স্পর্শিয়া

ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ঝড় আমাদের চারপাশের পরিবেশ লণ্ডভণ্ড করে দেয়। গত বছর আমি ভয়ংকর এক প্রাকৃতিক ঝড়ের মুখে পড়েছিলাম। নাটকের শ্যুটিংয়ে গিয়েছিলাম। নাটকের নাম ছিল ‘কলস’। পুরো শ্যুটিং ইউনিটই ছিল আমার সঙ্গে। সেটা পাবনায় পদ্মার চর। শ্যুটিং ইউনিটে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মামুনুর রশীদ, জয়রাজ, সোহেল রানাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। ঝড়ে পুরো ইউনিট এলোমেলো হয়ে যায়। ক্যামেরা ছাড়া ইউনিটের বেশিরভাগ জিনিসপত্র উড়ে চলে যায়। আচমকা শুরু হয় ঝড়। কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। এমন তা-ব, তা বলার মতো না। আমাদের তাঁবু, চেয়ার, টেবিল, অন্য যন্ত্রপাতি সব উড়ে চলে যায়। আমরা প্রাণ বাঁচাতে সবাই মাটিতে শুয়ে পড়ি। সহকারী পরিচালক দুজন কোনো রকম ক্যামেরা বুকে নিয়ে মাটিতে পড়ে ছিল। এমন একটা অবস্থা যে, আমাদের উদ্ধারের কোনো পথ নেই। ঝড় থামার পর আমরা মুক্তি পাই। তখন নদীর মাঝখানে ছিলাম। ঝড়ে নৌকা তীরে আসে। তীরে আসার পর বিপদে পড়ি আরো। মনে হয়েছিল সে যাত্রায় আর বেঁচে ফেরা হবে না। কিন্তু বেঁচে ফিরেছি। ওই পরিস্থিতিতে নিজের কথা খুব একটা মনে হয়নি। নিজেকে নিয়ে চিন্তা হয়নি। চিন্তা হচ্ছিল মাকে নিয়ে। আমি ছাড়া তো মায়ের কেউ নেই। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার মাকে কে দেখবে? তার কী হবে? ¯্রষ্টার অপার কৃপায় ইউনিটের সবাই সুস্থভাবেই ফিরেছি। কষ্টের বিষয় হচ্ছে, ঝড়ের কবল থেকে বেঁচে ফেরার পর আবার ঝড়ের কবলে পড়ি। তবে মেঘ দেখে আগেই যেখানে ট্রলার ভেড়ে সেদিকে চলে আসি। সেখানকার লোহার ঘরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ঝড়ের কথা মনে হলেই আমার ওই দিনটার কথা মনে পড়ে। কী বিপদেই না পড়েছিলাম!

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup