ঝড়ের মধ্যে আম কুড়ানোর মজা ছিল অনেক : ক্রিকেটার শামীমা সুলতানা

আমার ছোটবেলা মাগুরার শ্রীপুর থানার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে কেটেছে। গ্রামের পাশে রয়েছে গড়াই নদী। কালবৈশাখি ঝড়ের সময় গাছে আম থাকে। আর ঝড়টা সাধারণত বিকেলের দিকে আসতে দেখা যায়। তাই ঝড় এলে আমরা ভাই-বোনেরা দল বেঁধে আম কুড়াতাম। আম নিয়ে কাড়াকাড়ি হতো। কে কত বেশি আম কুড়াতে পারত তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো। মাঝেমধ্যে বাবার বকা খেতাম, তবুও ঝড়ের মধ্যে আম কুড়ানোর মজা ছিল অনেক। বাবা এটি পছন্দ করতেন না। বলতেন, যদি গাছের ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে! বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটে! কিন্তু আম কুড়ানোর সময় আমাদের সেসব খেয়াল থাকত না।

ঝড় এলে প্রথমে নিজেদের বাড়ির গাছের আম কুড়াতাম। সেখানে শেষ করে আশপাশের বাড়ির গাছের আম কুড়াতে যেতাম। আম খাওয়ার চেয়ে কুড়াতেই বেশি মজা পেতাম। কে কতগুলো আম কুড়াতে পেরেছে, তা দেখেই মজা পেতাম অনেক। একটি আমে হয়তো সবার হাত পড়ত, তখন তা নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম।

ঝড় নিয়ে কষ্টের স্মৃতিও রয়েছে- আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে আমার বড় চাচার বড় ছেলের বাসা। উনি যখন নতুন বাসা বানান, তখন কালবৈশাখি ঝড় আসে। ঝড়টি এত শক্তিশালী ছিল যে উনার বাসার চাল উড়ে এসে পাশে লাউয়ের মাচা টপকে ২০০ গজের মতো দূরে গিয়ে পড়ে। আমার ভাই সেই ঘরের সঙ্গে ঝুলে ছিলেন। সেসময় বজ্রপাতের ফলে আঘাতও পেয়েছিলেন তিনি। তখন আমি চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তাম। সেটি আমাদের জন্য খারাপ সময় ছিল। চাচাতো ভাইকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গিয়েছিল।

গ্রামের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি আধা পাকা থাকে বলে ঝড়ের কারণে তাদের ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়। আম কুড়াতে ভালো লাগলেও যখন দেখি ঝড়ে অন্যদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তখন খুব খারাপ লাগে।

২০০৮ সালে আমি কলেজে ভর্তি হই। তখন ঝড়ে আমাদের বাড়ির বড় আমগাছটি ভেঙে যায়। তারপর থেকে আর তেমন আম কুড়ানো হয়নি। ওই গাছের একেকটি আম এক থেকে দেড় কেজি ওজনের হতো। সেই গাছটি ভেঙে যাওয়ার পর আমার আম-দুধ খাওয়ার ইচ্ছেটিও নষ্ট হয়ে যায়। ওই গাছটিকে আমি অনেক বেশি মিস করি। আমি ওই গাছে উঠে আম খেতাম।

ঝড়ে আমাদের রান্নাঘরের চালা দুই-একবার উড়ে গিয়েছিল, এছাড়া তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু গ্রামে অনেকের বাড়ি-ঘর ভেঙে যেত। তা দেখে খুব কষ্ট হতো। অনেক সময় দেখা যেত রাস্তার পাশের গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেত। যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হতো।

জনসাধারণের উদ্দেশে বলতে চাই, বৃষ্টির সময় আমরা অনেকেই বুঝি না যে, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব। অনেক সময় গাছের নিচে দাঁড়াই বা গাছের নিচে গাড়ি রাখি। এটি আমরা যেন না করি। কেননা গাছের ডাল ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই কষ্ট করে হলেও নিরাপদ জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব ঝড়ের সময় আশপাশে কোনো পাকা ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমরা একটু সচেতন হলে প্রাণহানির মতো ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারব।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।