‘ঝড় থেমে যায় অনেক ক্ষত রেখে যায়’ : আশনা হাবিব ভাবনা

তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, রায়েরবাজার স্যারের বাসাতে অংক করতে গেছি। পড়া শেষ করে বাসায় ফিরছি, পথের মধ্যে ভয়ংকর ঝড় এলো। সেদিন কী পরিমাণ ভয় পেয়েছিলাম বোঝাতে পারব না। তখন তো আর আমার কাছে ফোন থাকার কথা না। আম্মুকে আসতে বলব সেটারও কোনো উপাই নেই। চারদিক একেবারে অন্ধকার হয়ে এলো। কিছুই দেখা যায় না আশপাশে। যেদিকে তাকাই ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিছুদূর আসার পর দেখি আমার আম্মু লাইট নিয়ে আসছেন আমাকে নেয়ার জন্য। এই ঝড়ের ঘটনাটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। ঝড় দেখলে সেদিনের কথা খুব মনে হয়। মেয়ের প্রতি একজন মায়ের কতটা ভালোবাসা থাকে। তখন না অনুভব করতে পারলেও এখন বুঝি মায়ের ভালোবাসার বিষয়টা। কী মমতায় আমাকে খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছেন সেই অন্ধকার ঝড়ের মধ্যে।

আরেকটা ঘটনা আছে ঝড় নিয়ে। খ্যাতিমান পরিচালক সালাউদ্দিন লাভলুর একটা নাটকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করব। ভেতরে ভেতরে অনেক উত্তেজিত। কিন্তু পুবাইলে যাওয়ার পর ঝড় আর বৃষ্টি এলো। প্রথমবারের মতো নাটকের জন্য গ্রামে যাওয়া। ভাবছি এই ঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে নাটকের শ্যুটিং করতে হলে কী করব। আমার চরিত্র ছিল দুটো গরু নিয়ে সারা গ্রামে ঘুরে বেড়াব। তবে চারদিন ধরে বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে নাটকটির শ্যুটিং আর হয়নি। তবে অনেক ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এছাড়া নাটকের শ্যুটিংয়ে গিয়ে অনেক ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি। ঝড় এলে শ্যুটিং বাদ দিয়ে সবাই একসঙ্গে থাকি।

ঝড় এলে আমার রাস্তায় থাকা মানুষের কথা শুধু মনে হয়। তারা কীভাবে আছে, কী করছে? এটা আমার ছোটবেলা থেকে মনে হয়। মনে হয় আমিও তো ওদের মতো রাস্তায় থাকতে পারতাম। এমন অনেক ভাবনা আমাকে ঘিরে থাকে। ঝড় থেমে যায়, অনেক ক্ষত রেখে যায়।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।