সমস্যাহীন ত্বকে উজ্জ্বল রূপবতী

 

মিমি অনেক দিন পর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে এসেছে। সারা দিনের জার্নিতে খুব ক্লান্ত। এরই মধ্যে পাড়ার বোন চলে এসেছে দেখা করতে। আসলে ছোটবেলায় অনেক বেশি আসা হতো। এরপর পড়াশোনার চাপে অনেক দিন এদিকটায় আসা হয়নি। আর সবচেয়ে বড় কথা ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত মিমির মসৃণ ত্বকের প্রশংসা সবার মুখে। আজো পাড়াতো বোনরা তার ত্বকের প্রশংসা করতেই বসেছে। চট করে মিমি আয়নায় তাকাল, ধুলো-ময়লা জমে গেছে মুখে। এভাবে তো আর সামনে যাওয়া যাবে না। ব্যাগ থেকে বের করল তার ত্বক অনুযায়ী ফেসওয়াশটি। প্রাকৃতিক উপাদানে পরিপূর্ণ এ ফেসওয়াশটি নিমিষেই মিমির ত্বককে করে তুলল উজ্জ্বল। সত্যিই ঈর্ষণীয় মিমি! মনে মনে পাড়ার বোনদের চাহনি ঠিকই টের পেল মিমি। নিজের মধ্যে একধরনের উজ্জ্বলতা এনে দেয় এই ফেসওয়াশ মিমিকে। কাজেকর্মে উজ্জ্বল রাখে। বন্ধুদের মাঝেও ত্বকের প্রশংসা পায়।

যেকোনো বয়সের নারীই এখন বিভিন্ন কাজে সারা দিন ব্যস্ত থাকেন। কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে পা রাখতে হয় না, এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। আর তাই বাইরের ধুলো-ময়লা ত্বকে হানে হামলা। একেকজনের ত্বক একেক রকম। তাই ত্বকের ঝামেলাও থাকে একেক রকম। তবে যারা প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখেন, তাদের ত্বকের বাড়তি উজ্জ্বলতা যোগ হয়। ত্বক থাকে জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার।

কুমারিকা ফেসওয়াশ যা আপনার সুস্বাস্থ্যকর ত্বক তৈরিতে সাহায্য করবে। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কুমারিকা ফেসওয়াশ আপনার ত্বকের বাড়তি যত্ন নিয়ে ত্বক রিপেয়ার করবে। উজ্জ্বলতা বাড়াবে, জীবাণুমুক্ত রাখবে। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসওয়াশ ব্যবহারে ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে বিশেষ করে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব এবং অ্যাকনের সমস্যা। এই ফেসওয়াশে রয়েছে নিম, অ্যালোভেরা, লেবু ও শসা, যা ত্বকের ময়েশ্চারাইজারে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে নিম আশীর্বাদ। প্রাকৃতিক এই হার্বের গুণের শেষ নেই। ঔষধি গুণসহ রয়েছে ত্বকের হিলিংয়ের অসাধারণ ক্ষমতা। নিমের নানাবিধ গুণাগুণের জন্যই ত্বকের যত্নে তৈরি বিভিন্ন পণ্যে নিম ব্যবহার করা হয় এবং তা ত্বককে করে সুন্দর ও উজ্জ্বল। নিমের গ্রহণযোগ্যতা কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রিতে এতটাই প্রবল যে, এটি সাবান, শ্যাম্পু, ফেসপ্যাক, ফেসওয়াশ তৈরিতে ব্যবহার হয়। নিমপাতার ফেস প্যাক অ্যাকনের সমস্যা দূর করতে পারে সহজেই। ভিটামিন ‘ই’-এর উপস্থিতি ত্বককে সহজে শুষ্ক হতে দেয় না। নিমপাতার পানি গরম করেও তা ত্বকের জন্য ব্যবহার উপযোগী এবং তা মুখের ব্ল্যাকহেডস দূর করতেও সহায়তা করে থাকে। ত্বকে নিম ব্যবহারে ত্বক অ্যাকনে এবং পিগমেন্টেশনের সমস্যা দূর করে। মুখের র্যা শ বা দানা দানা ভাব দূর করে, ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা সমাধানে কার্যকর। ত্বকের ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না। অসময়ে ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করে। ডার্ক সার্কেল সমস্যা দূর করে ইত্যাদি। ত্বকের জন্য নিমের গুণাগুণ বলে শেষ করার নয়। তাই যেসব পণ্যে এই প্রাকৃতিক উপাদানের উপস্থিতি, তা সত্যিই ত্বকের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।

অ্যালোভেরা আপনার ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে একধাপ এগিয়ে। সূর্যরশ্মির তেজ থেকে অ্যালোভেরা ত্বককে রক্ষা করে। অ্যালোভেরার ঠাণ্ডা অনুভবে ত্বককে আরাম দেয়। ত্বকে দাগ, পোড়াভাব দূর করতে এর জুড়ি নেই। অ্যালোভেরা জেল যদি শুধুই ত্বকে ব্যবহার করা যায় সেটিও উপকারী। অ্যালোভেরার সঙ্গে ব্রাউন সুগার আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে তৈরি করুন ঘরোয়া স্ক্র্যাব, যা আপনার মরা কোষ দূর করবে। ত্বক বেশি শুষ্ক হওয়া রোধ করবে। অ্যালোভেরা ত্বকের মরা কোষ দূর করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে, ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে, ভালো ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। সহজে ব্যবহারে ত্বকের জৌলুস বাড়ায়। সানবার্ন দূর করে, অ্যাকনের সমস্যা থেকে বাঁচায়। অসময়ে ত্বকের বয়সের ছাপ রোধ করে। স্ট্রেচমার্ক দূর করতেও কার্যকর। অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ পণ্য নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের নানাবিধ সমস্যার সমাধান হয়।

শসা খেতে দারুণ। সবজি, সালাদ হিসেবে তো খাওয়া হয়, সঙ্গে শসায় পানির পরিমাণ রয়েছে প্রচুর। ঠাণ্ডা এই শসা ত্বকের জন্যও কার্যকর। শসায় ৯৬ শতাংশ পানি, যা আপনার ত্বককে হাইড্রেট করে রাখে। শুধু পানি নয়, সঙ্গে আছে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। গরমে শসা ব্যবহারে ত্বকে আরাম দেয়। ডার্ক সার্কেল দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। শসায় উপস্থিত বায়োটিন, ভিটামিন ‘এ’, ‘বি১’ ও ‘সি’ এবং পটাশিয়াম ত্বকের জন্য আশীর্বাদ। শসা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বকে নানা কারণে হয়ে থাকা দাগ দূর করে। শসা টোনার হিসেবে দারুণ কাজের আর যদি লেবুর রস মেশানো যায় এর সঙ্গে, তাহলে আরো ভালো। শসা ও শসার জুস দুই-ই ত্বকের জন্য ভালো।

লেবু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যাকনের সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। শুধু এক টুকরো লেবু বা লেবুর রস মুখে ব্যবহার করলে ত্বকে আসে বাড়তি উজ্জ্বল ভাব। লেবুর ভিটামিন ‘সি’ এবং সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের বাড়তি উজ্জ্বলতা বাড়ায় নিয়মিত ব্যবহারে। লেবুর রস বা লেবু ব্যবহারে ত্বকের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে জীবাণুমুক্ত করে। অ্যাকনের সমস্যা দূর করে। ত্বকে আনে বাড়তি উজ্জ্বলতা। ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন ফেস মাস্ক, ফেস প্যাক, ফেসওয়াশে লেবুর ব্যবহার ত্বকের বাড়তি যত্ন নেয়।

প্রাকৃতিক এই উপাদানে তৈরি পণ্য ত্বকে নিয়মিত ব্যবহারে আপনার লাভ ছাড়া ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কুমারিকা পিম্পল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ, যেখানে রয়েছে অ্যালোভেরা ও নিমের সমন্বয়, যা আপনার ত্বক পরিষ্কার করবে সুন্দরভাবে এবং পিম্পলস বা অ্যাকনের সমস্যা দূর করবে। ব্যাকটেরিয়ারের কারণে ত্বকে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়, তা দূর করে অ্যালোভেরা-নিম সমৃদ্ধ কুমারিকা ফেসওয়াশ। অ্যালোভেরা ত্বক মসৃণ করে, ব্রণের দাগ দূর করে ত্বক নারিশ করতে সাহায্য করে।

লেবু আর শসার মতো প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি কুমারিকা অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ, যা ভেতর থেকে ত্বক পরিষ্কার করে আর বাড়তি তেল দূর করে। সারা দিনে মুখে তেল, ধুলোবালি জমে ত্বকের যে ক্ষতি করে, তা কুমারিকা অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ ব্যবহারে নিমিষেই চলে যায়। ময়লা দূর করে, ত্বক পরিষ্কার রাখে। ন্যাচারালি গ্রো করে। লেবু ত্বক পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি তেল দূর করে এবং আবার অহেতুক তেলের উপদ্রব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। শসা ত্বককে রিফ্রেশ করে।

 ফেসওয়াশ ব্যবহার করার আগে মুখ, গলা ও ঘাড় পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এবার অল্প ফেসওয়াশ হাতে নিয়ে আলতোভাবে সার্কুলার মুভমেন্টে মুখে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিমিষে সুন্দর-রূপবতী। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখলে ত্বক অনুযায়ী পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে সঙ্গে উজ্জ্বল হবে। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন। ত্বকের সমস্যা নিয়ে বাড়তি চিন্তার প্রয়োজন নেই। ত্বকের যত্ন নিন সঠিকভাবে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।