গল্প শুনেই আমি ঝড়কে ভীষণ ভয় পেতাম : মাসুমা রহমান নাবিলা

আমি নাবিলা, বাংলাদেশের মেয়ে। বেড়ে উঠেছি দেশের বাইরে। তাই কালবৈশাখি ঝড়কে সামনে থেকে দেখার সুযোগ এতদিন আমার হয়নি। কালবৈশাখি ঝড়ের অনেক গল্প শুনেছি ছোট থেকেই। গল্প শুনেই আমি ঝড়কে ভীষণ ভয় পেতাম। বৃষ্টির সময় বাজ পড়লেই ভয়ে দু’হাতে কান ঢেকে চোখ বুজে ফেলি।

কিছুদিন আগেই কালবৈশাখির বিধ্বংসী চেহারা দেখেছি সামনে থেকে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম ওইদিন। মনে হচ্ছিল আমার সামনের সবকিছুই কাঁপছে।

ওইদিন আমি বনানীতে ছিলাম। যখন ঢুকলাম তখনো আকাশ বেশ পরিষ্কার ছিল। অনেক সময় কাজও করলাম। এরপর জানালা দিয়ে দেখি আকাশ কালো হয়ে গেছে। হালকা ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। আমার কিন্তু ভালোই লাগছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আমার সেই ভালোলাগা শেষ হয়ে গেল। প্রকৃতি তার রূপ পাল্টাল। আকাশ অগ্নিমূর্তি ধারণ করল। আর বাতাসও আকাশের সঙ্গে মিলে সেই অগ্নিমূর্তিকে এক ভয়ানক তাণ্ডবে রূপ দিল। প্রচুর ঝড় শুরু হলো। গাছের ডালগুলো বনানীর রাস্তাতে ভেঙে পড়ছিল। জানালা দিয়ে দেখছিলাম বাইরের দৃশ্যটা তখন খুবই ভয়ংকর ছিল। এমন ঝড় আমি কখনো দেখিনি। এ কারণে আমি ভয়ে অস্থির ছিলাম। এর মধ্যে ভবনটা মাঝে মাঝে কাঁপছিল। তাই আমি খুবই নার্ভাস ছিলাম। কিছু সময় পরই সেদিনের ঝড় থেমেছিল। ঝড় থামার পর আমি নিচে নেমে দেখি আমার গাড়ির পাশে গাছের ভাঙা ডাল ও পাতায় ভরে আছে। তখন আমার মনে হচ্ছিল কোনো দৈত্য একটু আগেই প্রকৃতিকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। পরে সংবাদে জানতে পারি সেদিনের ঝড়ে ঢাকায় তিনজন লোক মারা গিয়েছিল। এই সংবাদ শুনে আরো মর্মাহত ছিলাম। এটাই ছিল আমার দেখা প্রথম কালবৈশাখি ঝড়। অনেকের মুখেই কালবৈশাখির গল্প শুনেছি, তবে আমি সেদিনই জেনেছি এ ঝড় কত ভয়ংকর হতে পারে।

সেদিনের পর থেকে ঝড়ের কথা শুনলেই ভয়ে আমার বুক দুরুদুরু করে। কালবৈশাখি নিয়ে একবার সম্ভবত নানু বা দাদু একটি গল্প বলেছিলেন। গল্পটা ছিল এমন- সন্ধ্যার দিকে হঠা চারপাশ নিশ্চুপ হয়ে গেল। পশ্চিম আকাশটা যেন রাগে কালচে লাল। এর মধ্যেই বিদ্যু চলে গেল। ভয়ে সবার অবস্থা তো খুবই খারাপ। কিছুক্ষণ পরই গ্রামের মানুষগুলো একসঙ্গে হৈচৈ করছে। কেউ আজান দিচ্ছে, কেউ উলু দিচ্ছে। তার মধ্যেই টিন পিটিয়ে সাবধান করা হচ্ছে লোকজনকে। নদীর এপার-ওপার সব খান থেকেই টিন পেটানোর শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই জোর বাতাস বইতে লাগল। কিছুক্ষণ পরই শুরু হলো কালবৈশাখি ঝড়। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাড়ির চারপাশে নারকেল গাছগুলোর টিনের চালের সঙ্গে আঘাত লাগার বিকট শব্দ। সবাই তখন প্রার্থনা করছে। ঘণ্টাখানেক চলেছিল প্রকৃতির এই তা-ব। সকালে উঠে দেখা গেল এখানে-ওখানে গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে আছে। কৃষকরা তাদের ভিজে যাওয়া ধানগুলো শুকানোর চেষ্টা করছেন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।