পৃথিবীর সব মেয়ে একটি ফুলের মালার মতো : ঐশী

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়। বহু আগেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় লিখে গিয়েছিলেন- ‘সাম্যের গান গাই/আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই’। তাই মানুষ হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়েই একসময় শুরু হয়েছিল বিশ্ব নারী দিবস। বিশ্ব সমাজব্যবস্থায় সেই সাম্য অনেকটাই প্রতিষ্ঠা হয়েছে। নারী দিবসকে সামনে রেখে আমাদের বিশেষ আয়োজনে আনন্দধারার মুখোমুখি হন কণ্ঠশিল্পী ঐশী।

নারী দিবস আমার কাছে বেশ গুরত্বপূর্ণ। কারণ এই দিবসের একটা ঐতিহাসিক তাপর্য রয়েছে। ইতিহাস সচেতন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবেন, নারীরা দিনটি পুরুষের কাছ থেকে পাননি বরং নিজেরা আন্দোলন করে দিনটি অর্জন করেছেন। আমার কাছে এই দিনটির অর্থ হলো সেই নারীদের জয়, যাদের আন্দোলনে আমরা এমন একটি দিন পেয়েছি। আমি মনে করি পৃথিবীর সব মেয়ে একটি ফুলের মালার মতো। যেখানে সবাই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। নারী দিবস এলে এই ব্যাপারটা আমি খুব অনুভব করি।

আমার বেড়ে ওঠার পেছনে পুরো অবদান বাবা ও মায়ের। আমি মেয়ে বলে তারা কোনোদিন আমাকে আলাদা করে দেখেনি। প্রচুর স্বাধীনতা পেয়েছি মা-বাবার কাছ থেকে। নিজের ইচ্ছার কথা বলতে পেরেছি তাদের কাছে। আমি মনে করি, ৩৬৫ দিনই নারী ও পুরুষের সমমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষ বা নারীর নয়, এই পৃথিবী সবার।

এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের নারীরা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে গেছে। এমন সব চ্যালেঞ্জিং জায়গায় নারীরা এখন কাজ করছে ১০ বছর আগেও যেটা চিন্তা করা যায়নি। এদেশের নারীরা এখন প্লেন চালাচ্ছে, এভারেস্ট বিজয় করেছে। বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্টসে প্রায় ৩০ লাখ নারী কাজ করছে। তাদের দুই হাতের রোজগারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আসে। শুধু তা-ই নয়, নারীরা যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে, সেখানেই কাজ করছে। এই অধিকার তারা অনেক কষ্টে অর্জন করেছে কেউ তাদের দয়া করে দেয়নি। তবে এখনো ঘরে বা বাইরে নানান প্রতিকূলতায় নারী তার প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঘরে-বাইরে নারীর ওপর সহিংসতা। এই সহিংসতা এখন নানা রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ব্যাপারে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে তা ভয়াবহ রূপ নেবে। এ বিষয়ে কার্যকরী আইনও দরকার। শুধু তা-ই নয়, যেহেতু সমবয়সী ছেলেদের মাধ্যমে এই সহিংসতা হয়, তাই ছেলেদের এ ব্যাপারে সচেতন করা আগে জরুরি। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে ধরনের অসুবিধাগুলো রয়েছে, সেগুলো হলো রীতি-রেওয়াজ, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা, অপসংস্কৃতিসহ নানান কারণেই নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আজকাল নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির অনেক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এখন বাবা-মা শুধু তার ছেলেকেই নয়, স্কুলে লেখাপড়া করাতে চায় তার মেয়েকেও। অনেকে স্বপ্নও দেখেন মেয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে বড় কিছু একটা হবে। আমার মনে হয় ছোটবেলা যদি পরিবার থেকে নারীর প্রতি পুরুষের, পুরুষের প্রতি নারীর সম্মানের বিষয় বোঝানো হয় এবং কার প্রতি কী ধরনের আচরণ করতে হবে, সেটা যদি আগে থেকে বুঝিয়ে দেয়া হয়, তাহলে দেশের সমাজ ব্যবস্থাটা অন্যরকম হতো।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।