বলিউডের প্যাঁচের প্রেম

প্রেম বিষয়টি বলিউডে সর্বদা ভালোমন্দ দু’ভাবেই আলোচিত হয়েছে। যদিও কিছু তারকা প্রেমের ক্ষেত্রে সুখী সমাপ্তি খুঁজে পেয়েছেন, তবে কয়েকজন অভিনেতা আছেন যাদের সম্পর্কগুলি কদর্য নোটগুলিতে শেষ হয়। এখানে সেরকম বলিউডের কয়েকটি সত্যিকারের প্রেমের ত্রিভুজ সম্পর্কে বলা হবে।

অমিতাভ বচ্চন-রেখা-জয়া ভাদুরি: “দো আনজানে” ছবিতে কাজ করার সময় থেকেই অমিতাভ ও রেখার মধ্যে সম্পর্কটা বেশ দহরম মহরম –ই ছিল। বলা হয়, যদিও অমিতাভ সেসময় বিবাহিত ছিল তবুও গোপনে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিলো অভিনেত্রী রেখার সাথে। গুজবে আসে অমিতাভ-রেখা গোপনে বিয়েও করেছিলো কারণ ঋষি কাপুর ও নিতু সিং –এর বিয়েতে রেখাকে সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরিধানরত দেখা যায়। গুজবের মাঝে ১৯৮১ তে “সিলসিলা” নামে একটি ছবিও আসে যেখানে অমিতাভ, জয়া ও রেখার মাঝে একটি ত্রিমাতৃক সম্পর্কের চিত্রও তুলে ধরা হয়। তবে সব শেষে রেখা ও অমিতাভ তাদের সম্পর্ক বেশী দূর এগিয়ে নিয়ে যায়নি। অন্যদিকে অমিতাভ নিজের সংসারের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠে।

দীপিকা-রনবীর কাপুর-ক্যাটরিনা কাইফ: রনবীর ও দীপিকা তাদের রূপালী পর্দার শুরুর সময় থেকেই প্রেম করে আসছিলেন। তারা একে অপরকে বেশ পছন্দ করতেন এবং সম্পর্ক বেশ ভালই ছিল। কিন্তু তাদের সম্পর্ক মাত্র দু’বছর টিকেছে;আর সম্পর্ক ভাঙ্গার সিদ্ধান্তটা দীপিকার কাছ থেকেই আসে যখন তিনি জানতে পারেন রনবীর গোপনে ক্যাটরিনার সাথে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক ভাঙ্গার পর দীপিকা বেশ মুষড়ে পড়ে ছিল।

ঋত্বিক রোশান-সুজান খান-বারবারা মোরি: ঋত্বিক ও সুজানের সম্পর্কটা বেশ গভীর। ২০০০ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর প্রায় সব যায়গাতেই তাদের একসাথে দেখা যেত। কিন্তু সমস্যা বাঁধল একটি গুজবে যেখানে বলা হয় “কাইটস” ছবির স্যুটিংএর সময় অভিনেত্রী বারবারা মোরির সাথে ঋত্বিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ খবরে সুজান বেশ মনক্ষুন্ন হন এবং ঋত্বিকের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন; এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের সম্পর্ক ভেঙ্গে ২০১৪ তে তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। তবে ইদানীং তাদেরকে আবার একসাথে দেখা যাচ্ছে।

ঐশ্বরিয়া-সালমান-বিবেক: ঐশ্বরিয়া ও সালমানের সম্পর্কটা বেশ ভালই ছিল।  জানা যায়, ঐশ্বরিয়াকে মানসিক এমনকি শারীরিক ভাবেও আঘাতও করেন সালমান। সত্যি বলতে সালমানের প্রতি তেমন একটা আগ্রহও ছিলনা ঐশ্বরিয়ার। এমন সময়ে এক ছবিতে কাজ করতে গিয়ে ঐশ্বরিয়া সম্পর্ক জুড়ে তার সহ অভিনেতা বিবেক অবেরয় –এর সাথে। যদিও সেই সম্পর্কটা শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়।

ডিনো মরিয়া-বিপাশা বসু-জন আব্রাহাম: ডিনো মরিয়ার সাথে বিপাশার সম্পর্ক বেশ অনেকদিন ধরেই ছিল। তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার ঠিক পরপরই বিপাশা সম্পর্ক বাঁধেন জন আব্রাহামের সাথে। বিপাশা-জন বেশ অনেকদিন একসাথে কাটানোর পর ২০১১ তে দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলে। তবে ডিনো ও বিপাশার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা এখনও আছে।

শিল্পা শেঠী-অক্ষয় কুমার-টুইংকেল খান্না: ’৯৪ তে “ম্যায় খিলাড়ী তু আনাড়ি” ছবিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে অক্ষয়ের প্রেমে পড়েন শিল্পা শেঠী। বলতে গেলে শিল্পা বেশ আগ্রহী ছিলেন এই সম্পর্ক নিয়ে। পরবর্তিতে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় যখন অক্ষয় গাঁটছড়া বাঁধেন টুইংকেল খান্নার সাথে।

ক্যাটরিনা-সালমান-রনবীর কাপুর: “আজাব প্রেম কি গাজাব কাহিনী” ছবিতে কাজ করতে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রনবীর-ক্যাটরিনা। জানা যায়, সে সময়ে রনবীরের সম্পর্কটা দীপিকার সাথে ভালই ছিল। অন্যদিকে ক্যাটরিনা ও সালমানের মধ্যেও কিছুটা দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল। পরবর্তিতে রনবীর ও ক্যাটরিনা তাদের প্রাক্তন সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে একত্রিত হন।

শ্রীদেবী-মিঠুন চক্রবর্তী-যোগিতা বালি: ১৯৭৯ সালে মিঠুন চক্রবর্তী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী যোগিতা বালির সাথে। সেই সংসার তাদের এখনও টিকে আছে। তবে ১৯৮০ সালে খবরে আসে খুব গোপনীয়তার সাথে শ্রীদেবীর সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছেন মিঠুন। শ্রীদেবী যখন বুঝতে পারেন মিঠুন তার স্ত্রী যোগিতার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করবেন না এবং শ্রীদেবীকেও সামাজিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন না তখন তিনি মিঠুনের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। জানা যায়, এর আগে হেলেনা লুক নামক এক নারীর সাথে মিঠুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনিই ছিলেন মিঠুনের প্রথম স্ত্রী।

মোনা সৌরি-বনি কাপুর-শ্রীদেবী: মিঠুন চক্রবর্তীর সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর পরই শ্রীদেবীর মা শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময়ে সব দিক থেকে শ্রীদেবীকে সাহায্য করেন পরিচালক বনি কাপুর। সেসময় বনি কাপুর তার স্ত্রী মোনাকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন। তবে এর মধ্যেই বনি ও শ্রীদেবীর সম্পর্ক গভীরে প্রবেশ করে এবং এক পর্যায় বনি ও মোনার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

জাভেদ আকতার-হানি ইরানি-শাবানা আযমি: ১৯৮৪ সালে জাভেদ আকতার তার প্রথম স্ত্রী হানি ইরানীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করে শাবানা আযমিকে বিয়ে করেন। সেসময় তিনি দুই সন্তানের পিতা। শাবানার অভিভাবকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা গাঁটছড়া বাঁধতে পিছপা হননি। সে থেকে শাবানার সাথেই আছেন জাভেদ আকতার।

ধর্মেন্দ্র-প্রকাশ কৌর-হেমা মালিনি: ধর্মেন্দ্র প্রথম বিয়ে করেন প্রকাশ কৌর কে। এরপর “তুম হাসিন ম্যায় যাওয়ান” ছবিতে কাজ করতে গিয়ে প্রেমে পড়েন হেমা মালিনীর। সেই প্রেম জারি রেখে ১৯৮০ তে বিয়ে করেন হেমা মালিনীকে। জানা যায় বিয়ে করতে গিয়ে সামাজিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তারা দু’জনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ধর্মেন্দ্রের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেননি। 

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।