ফাগুন হাওয়ায়- ভাষার ছবি, প্রেমের ছবি

 

বায়ান্নে ভাষা আন্দোলনের সময়ে মফস্বলের মানুষের ভাবনা, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’। ছবিতে শুধু ভাষা আন্দোলনের বিয়য় উঠে আসেনি, উঠে এসেছে সেই সময়ের প্রেম। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘ফাগুন হাওয়ায়’ মুক্তি দেয়া হচ্ছে ভাষার মাসে। ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ছবিটা। অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, আবুল হায়াত, আফরোজা বানু, ফারুক হোসেন, সাজু খাদেম, বলিউডের যশপাল শর্মাসহ অনেকেই। টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় নির্মিত হয়েছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্মস। প্রায় ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছবির গল্প, চরিত্রে অভিনয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সিয়াম ও তিশা।

 সিয়াম বলেন, “ছবিটিতে অভিনয়ের বিষয়ে তৌকীর ভাইয়ের (তৌকীর আহমেদ) সঙ্গে কথা হওয়ার সময় থেকেই এক্সাইটেড ছিলাম। তার থেকেও বড় বিষয়, আমি কাজটা নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলাম। এমন একটা বিষয়ের ওপর তৌকীর ভাই সিনেমা নির্মাণ করবেন, ভাবতেই ভালো লাগছিল। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব পাওয়া, তার মতো একজন নির্মাতা, যিনি দেশের বাইরে থেকে এত এত অ্যাওয়ার্ড নিয়ে এসেছেন, তিনিই এ ছবিটা বানাচ্ছেন। ভালো ভালো শিল্পীরাও এতে অভিনয় করবেন। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, এখানে ডাক পাওয়াটা ছিল আমার জন্য অনেক গর্বের ও ভালোলাগার। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ আমাদের দেশের ছবি, আমাদের গর্ব করার মতো ছবি।”

‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিটি নিয়ে তিশা বলেন, ‘এ ধরনের গল্প নিয়ে আমাদের দেশে খুব বেশি সিনেমা নির্মাণ হয়নি। শিল্পী চান তার কিছু কাজ তিনি যখন থাকবেন না, যেন বেঁচে থাকে। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ তেমনই একটা ছবি। সবার উচিত ছবিটি দেখা।’

 সিয়াম বলেন, “ছবিটাতে আমি ছাড়া অন্য যারা অভিনয় করেছেন, সবাই কিন্তু অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ছবিতে ‘নাসির’ নামের চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। ভাষা আন্দোলনের সময় মফস্বলের তরুণদের সংগঠিত করার ভূমিকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। সাধারণ একজন মাটির মানুষ হয়ে ওঠা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। যারা দেখবেন তারা বুঝতে পারবেন।”

তিশা বলেন, এর আগে তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’ সিনেমাতে কাজ করেছি। তিনি যে বিষয় বা ভাবনার ওপর কাজ করেন, তা নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা করেন, তারপর ছবি বানাতে আসেন। তার প্রস্তুতি খুব সমৃদ্ধ অনেকের চেয়ে। যেভাবে পরিকল্পনা করেন, ঠিক সেভাবেই তা পর্দায় তুলে আনেন ছবিটাতে। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ভাষা আন্দোলন নিয়ে ছবি। আমাদের এখানে তেমন কাজ হয়নি ভাষা আন্দোলন নিয়ে। সেদিক থেকে ছবিটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। আমি একটা ভালো কাজের সঙ্গে সুন্দর একটি চরিত্র পেয়েছি, এটা অনেক বড় পাওয়া।’

 সিয়াম বলেন, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে অপ্রয়োজনীয় ‘হিরোইজম’ দেখা যাবে না। ‘চরিত্রটাকে যতটা মাটির কাছাকাছি নেয়া যায়, সে চেষ্টাই করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি চরিত্রটা সাধারণ মানুষের কাছে যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, সেভাবে করা হয়েছে।’

সিয়াম আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ মানুষজন যেমন সচেতন, আমিও তাদের মতোই। আমি দেশপ্রেম অনুভব করি, ভেতরে ধারণ করি। প্রেম নিয়ে আলাদাভাবে কখনো ভাবিনি। যতটা ভেবেছিলাম, যখন দেশের বাইরে ছিলাম। কারণ তখন আমার প্রত্যেকটা অ্যাক্টিভিটিই কিন্তু আমাকে বাংলাদেশের হয়ে রিপ্রেজেন্ট করতে বাধ্য করেছিল। আমরা প্রত্যেকেই যে যার অবস্থান থেকে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করি। এটার জন্য খুব এক্সট্রা-অর্ডিনারি কিছু করে ফেলতে হবে, বিষয়টা তেমন নয়। নিজের ভিতটা শক্ত রাখতে হয়, ভালোবাসার জায়গাগুলোকে ঠিকঠাক রাখতে হবে। আমার ধারণা, তাহলেই সব ঠিক থাকবে।’

তিশা বলেন, আমাদের পরবর্তী জেনারেশন ভাষা আন্দোলন নিয়ে খুব বেশি কিছু জানে না। মফস্বলে ভাষা আন্দোলনের চিত্রটা কেমন ছিল। ছবিতে প্রচুর পরিমাণে হিউমার রয়েছে। অভিনয়ের জায়গায় চেষ্টা করেছি চরিত্রটার সঙ্গে নিজেকে মেশাতে। যাতে মানুষও নিজেকে আমার চরিত্রটির সঙ্গে সংযোগ করতে পারে। চেষ্টা করেছি মানুষের যেন ভালো লাগে।’

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।