প্রত্যেক মানুষের মধ্যে শক্তি ও সম্ভাবনা রয়েছে

গোলাম সামদানি ডন, একজন সার্টিফায়েড করপোরেট ট্রেনার। ২০১৯ বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে তার বই ‘আনলিশ ইউর ট্রু পটেনশিয়াল’। বইটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত ভাষার সেলফ হেল্প বই। আনন্দধারাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসবই জানান তিনি।

আনন্দধারা : বইমেলা কেমন লাগছে?

গোলাম সামদানি ডন : দারুণ লাগছে। আমি তো রীতিমতো অবাক হয়েছি, মেলায় না এলে জানতেই পারতাম না মানুষ এত বই পড়ে এবং বই কেনে। আমার ধারণা ছিল মানুষ এখন বই পড়ে না, কিন্তু মেলায় এসে আমার সে ধারণা একদম পাল্টে গেছে।

আনন্দধারা : এবারের মেলায় আপনার কয়টি বই এলো?

গোলাম সামদানি ডন : আমরা একটাই বই এসেছে। বইটির নাম ‘আনলিশ ইউর ট্রু পটেনশিয়াল’। এটি বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভার্সনেই প্রকাশিত হয়েছে।

আনন্দধারা : কোন প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে আপনার বইটি?

গোলাম সামদানি ডন : এটি প্রকাশ করেছে অধ্যয়ন। তবে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নে।

আনন্দধারা : পাঠকদের থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

গোলাম সামদানি ডন : পাঠকরা তো বই কিনছেই, ভালো সাড়া পাচ্ছি। এটা আমার কথা নয়, প্রকাশক বলেছেন।

আনন্দধারা : আপনার বইটা সম্পর্কে কিছু বলুন-

গোলাম সামদানি ডন : এই বইটা বাংলাদেশের প্রথম ডুয়াল সেলফ হেল্প বই। যারা বাংলাতে পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য বাংলাতে আর যারা ইংরেজিতে পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য ইংরেজিতে। আমি চাই সবাই এই বইটা পড়ুক। এটা এমন একটা বই, যা সবার জন্য দরকারি। আমি চাই না ভাষা কারো জীবনের উন্নতির বাধা হয়ে দাঁড়াক। এ কারণেই বইটির দুটি ভার্সন প্রকাশ করেছি। আর পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে অসম্ভব রকমের শক্তি ও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কী সেই শক্তি বা সম্ভাবনা, যা এ বইটির মূল কনটেন্ট। আমরা নিজেরা নিজেদের ছোট করে দেখি, আমরা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগি, আমরা নিজেকে এবং আশপাশের মানুষকে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা বেশি করি। এ বইয়ের মধ্যে এমন কিছু টিপস, টুইটস ও ফর্মুলা দেয়া আছে, যা কেউ পড়লে তার নিজের মধ্যে থাকা সম্ভাবনাকে আনলক করতে পারবে। এটা প্রপার সেলফ হেল্প বই। পুরো বইটাই ইন্টার্যা কটিভ। এর মধ্যে কিছু গেমস ও অ্যাক্টিভিটিস আছে, যা পড়ার পর পাঠককে বলবে- এটা কর, এটা লেখ।

আনন্দধারা : বই নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

গোলাম সামদানি ডন : আমার প্রত্যাশা একেবারেই সাধারণ। আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে প্রথমেই নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে। সবাই যদি নিজেকে এগিয়ে নিতে পারি, সম্মিলিতভাবে দেশটাও এগিয়ে যাবে। এখন আমরা যদি নিজেরা চেষ্টা না করে যুক্তি খুঁজে বের করি যে, কেন আমার জীবনে উন্নতি হচ্ছে না বা কেন আমি উন্নতি করতে পারব না? তাহলে তো আমরা পিছিয়েই থাকব। কিন্তু আমরা যদি বসে বসে খুঁজে বের করি আমাদের শক্তি বা সম্ভাবনা কোথায়, তাহলে কিন্তু আমরা এগিয়ে যেতে পারব, উন্নতি করতে পারব। এসব বিষয়ে ভাবতে সাহায্য করবে এই বইটি। একই সঙ্গে এই বইটি থেকে নেটওয়ার্ক তৈরির কৌশল ও সঠিক বন্ধু নির্বাচনের কৌশলও জানা যাবে। তাই এই বইটি অবশ্যই পাঠকদের পড়তে হবে। অন্তত নিজের ভেতরের শক্তি ও সম্ভাবনাকে জানার জন্য মানুষ বইটি পড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

আনন্দধারা : পাঠকদের জন্য বার্তা-

গোলাম সামদানি ডন : পাঠকদের জন্য বলব- আপনি পারবেন। হতাশার কোনো কারণ নেই। আপনার মধ্যে সম্ভাবনা ও শক্তি দুটোই রয়েছে। শুধু দরকার সেগুলো আবিষ্কার করা। এজন্য আপনার সহায়ক হবে আমার এ বইটি।

আনন্দধারা : আপনার অনুপ্রেরণা কে?

গোলাম সামদানি ডন : আমি টরি রবিনসের অনেক বড় ভক্ত। টনি রবিনস হচ্ছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্রেনার। তিনি ট্রেনিং করান, ব্লগ লেখেন। এছাড়া তার বইয়ের ব্যাপক চাহিদা। তার থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

আনন্দধারা : একজন ট্রেনার হয়েও বই করার কারণ-

গোলাম সামদানি ডন : আসলে মানুষের জীবনে বইয়ের একটি আলাদা অবস্থান রয়েছে। মানুষ সবকিছু ফেলে দিলেও বই কখনো ফেলে দেয় না। শেলফের কোথাও না কোথাও যত্ন করে সাজিয়ে রাখে। ২০১৬ সালে আমরা ছয়টি ছোট ছোট পকেট বই করেছিলাম। তখনই আমি অনুধাবন করতে পারি এ রকম একটি প্রপার বই লাগবে। সেই চিন্তা থেকে এই বইটি করা। এছাড়া যে কোনো দেশের উন্নতির জন্য ক্রিটিক্যাল এবং অ্যানালিটিক্যাল চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ, যা গ্রো করে বই পড়ার মাধ্যমে। এটিও আমাদের এ বইটি প্রকাশ করার আরো একটি কারণ।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।