ব্রণের জন্য প্রাকৃতিক ফেইসওয়াশ

 যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা যদি কৃত্রিম আর কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট বেশি ব্যবহার করেন তাহলে তাদের মুখে ব্রণ সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। কারণ কোন কেমিক্যালটায় যে ত্বকের ব্রনকে আরো বেশি সংক্রমিত করবে সেই বিষয়ে আমাদের জানা থাকে না। আমরা সবাই জানি মুখে ব্রণ অবস্থায় সাবান বা ফেইসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ সাবান বা ফেস ওয়াশে প্রচুর পরিমাণে ক্ষার ও কেমিকেল থাকে, তাই সেটা আপনার মুখে ব্রণ অবস্থায় একদমই ব্যবহার করা ঠিক না। এই সময়ে আপনার ত্বক আরো সেনসেটিভ হয়ে যায়। তাই এই সময়ে আপনার ত্বকে নিতে হবে একটু বাড়তি যত্ন। ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া, ধুলো এবং তেল জমে এতে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। তাই চলুন আজকে জেনে নেব কীভাবে প্রাকৃতিক ভাবেই ফেস ওয়াশ করে নেওয়া যায়। আর তাই বিশেষজ্ঞরা প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করতে বলেন. মুখ ধোয়ার ফেইসওয়াশের ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই. আর তাই আজ নিয়ে এলাম ব্রণ সংক্রমিত ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরী কিছু ফেইসওয়াশের রেসিপি।

ব্রণের জন্য কিছু প্রাকৃতিক ফেস ওয়াশ এর রেসিপিঃ

➣উপটান ১চা চামচ, কাঁচা হলুদ বাটা ১ চা চামচ ,তাজা নিম পাতা বাটা, লেবুর রস বা কমলা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। আপনি চাইলে একটু বেশি পরিমাণে নিয়ে করতে পারেন এবং ৩/৪ দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রেখে ব্যবহার করা যাবে। প্রতিবার মুখ ধোয়ার সময় অল্প পরিমাণে নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি মাত্র ৭ দিন ব্যবহার করলে আপনার মুখের ব্রণ থেকে মুক্তি পাবেন।

➣কাঁচা দুধ ,হলুদ গুঁড়া ,অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বকের কোমলতা বাড়বে এবং সেই সাথে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করবে।

➣১ চা চামচ উপটান, ১ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ লেবুর রস, এবং ১ চা চামচ গোলাপ জল এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে ২/৩ মিনিট ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।  দিনে ৩ বার ব্যবহার করতে হবে। আপনি চাইলে এই মিশ্রণটি ৩/৪ দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রেখে সংরক্ষণ করতে পারেন। এই ফেস ওয়াশটা প্রাকৃতিক ফেস ওয়াশ এর মধ্যে অন্যতম।

➣১/২ চা চামচ আলু কুচি, ১/২ চা চামচ শশা কুচি, ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, ১ চা চামচ টক দই ও ১ চা চামচ পুদিনা পাতা দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২/৩ মিনিট ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের কালচে ভাব দূর করার সাথে সাথে মুখে আনবে লাবণ্যতা ।

➣পুদিনা পাতা ১ চা চামচ, দারুচিনি ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মধু ১ চা চামচ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ৩/৪ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি ৪/৫ ব্যবহারের করলেই ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

উপরোক্ত ফেস ওয়াশ গুলো অবশ্যই প্রতিদিন ৩ বার ব্যবহার করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার মুখের ত্বক পরিষ্কার করতে হবে কারণ আপনার মুখে সারা রাত ধরে অনেক তেল জমা হয়ে থাকে আর এ থেকেও ব্রণের সৃষ্টি হয়। বাইরে থেকে এসে সাথে সাথে মুখে ফেস ওয়াশ করে ফেলবেন বাইরের ধুলোবালি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন। অবশ্যই ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার মুখের ত্বক পরিষ্কার করতে হবে, কারণ এই সময়ে ত্বক পরিষ্কার না করলে সারা রাত ধরে আপনার মুখে রোগ জীবাণু বহন করে ব্রণের উপদ্রব বাড়িয়ে দেবে। এভাবে ত্বক পরিষ্কার পরিছন্ন রাখলে কিছু দিনের মধ্যে আপনি পাবেন ব্রণ মুক্ত লাবণ্যময় চেহারা।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।