হিচককের সেরা পাঁচ

নিজেকে ‘চলচ্চিত্রপ্রেমী’ মনে করেন অথচ আলফ্রেড হিচককের নাম শুনেননি এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। অদ্ভুত ও বিচিত্র সব চরিত্রের সঙ্গে গিরগিটির মত বহুরূপী কাহিনীতে কল্পনাতীত সব ‘টুইস্ট অ্যান্ড টার্নের’ কারণে সিনেমা জগতে হিচককের ডাক নাম ‘মাস্টার অব সাসপেন্স’। ১৮৯৯ সালের ১৩ অগাস্ট ইংল্যান্ডে জন্ম নেন হিচকক, ১৯২০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজে যোগ দেন। হিচককের পরিচালক হিসেবে জন্ম নেওয়ার সময়েই সবাক চলচ্চিত্রের জন্ম হয়। অনেক চলচ্চিত্র-বোদ্ধাদের মতে তিনি সর্বকালের সেরা পরিচালক, তবে সে তর্কে না যেয়ে এটুকু নির্দ্বিধায় বলা যায় ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্রের রূপরেখা পাল্টে দেওয়া সেসময়কার অল্প কয়েকজন পরিচালকদের মধ্যে হিচকক অন্যতম।

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং হরর জনরার টান টান উত্তেজনাপূর্ণ হিচককের সিনেমা কখনোবা আপনার মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে, কখনোবা বিব্রত করবে কিংবা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এসব অনুভূতিপূর্ণ সিনেমাই যদি আপনার প্রিয় হয় তবে এই লেখা আপনার জন্য, এতে জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের বিবেচনায় হিচককের সেরা পাঁচটি সিনেমার নাম তুলে ধরা হবে।

সাইকো (১৯৬০)

সর্বকালের অন্যতম সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ও হরর সিনেমার নাম ‘সাইকো’। হিচককের অন্যান্য ছবির চেয়ে কম খরচে করা হলেও এটি একটি আইকনিক সিনেমা। বহু বিখ্যাত চলচ্চিত্র সাইকোর থেকে দৃশ্যায়ন ধার করেছে। মুক্তির প্রায় ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও এই সিনেমার প্রভাব এতটুকু ম্লান হয়নি। রবার্ট ব্লখের উপন্যাস সাইকো উপন্যাস অবলম্বনে, মানসিক বিকৃতিতে আক্রান্ত এক খুনিকে ঘিরে ছবির কাহিনী নির্মিত হয়েছে। ছবির মূল চরিত্র নরমান বেটসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অ্যান্টনি পারকিনস, প্রধান নারী চরিত্র ম্যারিয়ন ক্রেইনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেনেট লেই। ছবির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মা-ছেলের মধ্যকার সম্পর্ক, যা অনেকের মতে হিচকক নিজের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন। তাঁর ছেলে বেলা সুখের ছিল না, সামান্য অপরাধে তার মা তাকে নানা ধরণের শাস্তি দিতেন।

সিনেমার আইএমডিবি স্কোর ৮.৫ (১০ এ) এবং মেটাস্কোর ৯৮ (১০০ তে)।

ভার্টিগো (১৯৫৮)

হিচকক নির্মিত সেরা সিনেমার দৌড়ে ‘সাইকোর’ সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাল্লা দেবে ‘ভার্টিগো’, সেরার মুকুট নিয়ে তর্ক যুদ্ধে যোগ দিতে আপনাকে দেখতেই হবে ছবিটি। ছবির নায়ক জেমস স্টুয়ার্ট ভার্টিগোতে আক্রান্ত, উঁচুতে উঠলেই মাথা ঘুরে যাওয়ার শিকার হন তিনি। ভার্টিগোতে আক্রান্ত মূল চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখা পুরো সিনেমাটিই আপনাকে এক ধরণের পরাবাস্তব ও বিব্রতকর অনুভূতিতে ভোগাবে। অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ জেমস স্টুয়ার্ট ওরফে স্কটির বন্ধু পত্নীর ওপর তার দাদীর আত্মা ভর করেছে, সত্যতা অনুসন্ধানে নেমে পরে স্কটি। খুন, পাগলামি ও অবসেশন অর্থাৎ হিচককিয় সব স্বাক্ষরই মিলবে এতে।

সিনেমার আইএমডিবি স্কোর ৮.৩ এবং মেটাস্কোর ১০০।

রিয়ার উইন্ডো (১৯৫৪)

ফটো সাংবাদিক জেমস স্টুয়ার্ট পা ভেঙ্গে ঘরে বসে রয়েছেন, ঘরের জানালা দিয়ে পাশের বিল্ডিংয়ে বসবাসরতদের জীবন দেখেন ক্যামেরার লেন্স দিয়ে। এক পর্যায়ে অন্যদের জীবনে অনধিকার প্রবেশ তার অবসেশনে পরিণত হয়, নজরদারির ফাঁকেই সাক্ষী হয়ে যান ভয়ংকর খুনের। রিয়ার উইন্ডো হিচককের সবচেয়ে থ্রিলিং মুভি হিসেবে ধরা হয়। ছবিটির জন্য সেরা পরিচালকের অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন হিচকক।

সিনেমার আইএমডিবি স্কোর ৮.৫ এবং মেটাস্কোর ১০০।

নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট (১৯৫৯)

মূল চরিত্র রজার থর্নহিল ম্যানহাটনের ম্যাডিসন এভিনিউয়ের একজন বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ীকে, যাকে ভুল করে ‘জর্জ ক্যাপলান’ নামক সরকারি এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে একটি বৈদেশিক চক্রান্তকারী সংস্থা। মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে, জীবন বাঁচানোর তাগিদে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছুটে চলেন থর্নহিল। থর্নহিল চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন ক্যারি গ্র্যান্ট, এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে দেখা মিলবে ইভা মারি সেন্ট, জেমস ম্যাসন এবং জেসি রয়েস ল্যান্ডিস।

সিনেমার আইএমডিবি স্কোর ৮.৩ এবং মেটাস্কোর ৯৮।

রেবেকা (১৯৪০)

হলিউডে প্রবেশের পর হিচককের প্রথম চলচ্চিত্র রেবেকা, যা সে বছর সেরা চলচ্চিত্র ও সিনেমাটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়। ইংরেজ লেখিকা ও নাট্যকার ড্যাফনি দ্যু মারিয়েইয়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লরেন্স অলিভিয়ার ও জোয়ান ফরটেইন। ড্রামা, রোমান্স ও মিস্ট্রি জনরার এই ছবির নাম রেবেকা হলেও চরিত্রটি মৃত, অন্যদিকে মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে যে চরিত্রকে (জোয়ান ফরটেইন অভিনিত) ঘিরে তার নামের উল্লেখ নেই এতে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ম্যাক্সিম দ্যু উইন্টার বিয়ে করেন এক তরুণীকে, পরিচয়ের পরেই প্রেম এবং দ্রুত বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে আসেন নিজের প্রাসাদ বাড়িতে। মিসেস দ্যু উইন্টার ক্রমশ উপলব্ধি করেন তিনি বাড়ির গৃহকর্তী হলেও এই বাড়িকে ঘিরে রয়েছে মৃত রেবেকার আত্মা!

সিনেমার আইএমডিবি স্কোর ৮.১।

এই পাঁচটির বাইরে তাঁর পরিচালিত স্ট্রেঞ্জার্স অন এ ট্রেইন, ডায়াল এম ফর মার্ডার, দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ, দি বার্ডস, টন কার্টিন, লাইফবোট, স্পেলবাউন্ড, নটোরিয়াস, রোপ, ফ্রেনজি প্রভৃতি চলচ্চিত্রও বেশ জনপ্রিয়, যার যেকোনোটি আপনার সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়ার যোগ্যতা রাখে।                  

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।