অফিসে বকা খেলে কি করবেন?

দিন তো সবার সমান যায় না। নতুন নতুন কাজ শুরু করলে ভুল করে বসের বা উর্ধ্বতন কর্মীর বকা খাওয়া খানিকটা অবধারিত, আবার অনেক ক্ষেত্রে অনেকদিন কাজ করা অভিজ্ঞ কর্মীরাও বসের বকা খেয়ে থাকেন। আর বকা খেতে ভালো লাগে না কারোই, অনেকের কাজের প্রতি অনীহা এসে যায়, অনেকে নিজের কর্মদক্ষতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা শুরু করেন, অনেকের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়। আবার অনেকে উল্টো বসের সাথে ঝগড়া করে নিজের চাকরিটাই হয়তো খুইয়ে বসেন। এর কোনটাই কাম্য নয়। কাজ করলে ভুল হবেই, ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে, তবে ভুলটাও কেউ না কেউ দেখিয়ে দিতে হয়, সেই অধ্যায়টাই সবক্ষেত্রে খুব ভাল অভিজ্ঞতা হয় না। কিন্তু সেজন্য মন খারাপ হয়ে গেলে, বা আপনার কাজে বিরূপ প্রভাব পড়া উচিত নয় মোটেই। আসুন জেনে নেই অফিসে বকা খেলে তা সামলাবেন কিভাবে।

কথা বলুন আপনার বসের সাথে: আপনার বস যদি আপনার কোন কাজের জন্য রাগারাগি করে থাকে, তার সোজাসাপ্টা কারণ আপনার করা ভুলে তার ক্ষতি হয়েছে, ছোট বা বড়। এবং ক্ষতি হলে রেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ইগো ধরে না রেখে তার সাথে ভাল করে কথা বলুন, ভুলটা কোথায় হয়েছে তা ভালো করে বুঝে নিন, এবং কিভাবে ভুলগুলো শুধরানো যায়, এবং ক্ষতি সংশোধন করা যায় তা নিয়ে কথা বলুন। আপনার বসও খুব সম্ভবত আপনার জায়গা পার করে এসেছেন একসময়, তাকে শিক্ষকের দৃষ্টিতে দেখতে পারলে বকাঝকা আর গায়ে লাগবে না।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন: বসের সাথে ঝগড়া করবেন না কোনভাবেই, কিন্তু নিজের কথাটাও অবশ্যই বলতে হবে। আপনি যে কাজটির জন্য বকা খাচ্ছেন, তাও অবশ্যই কোন কারণেই করেছেন, কোন কিছু ভেবে করেছেন, তা বুঝিয়ে বলুন আপনার বসকে। আর অনেকক্ষেত্রে আপনার বস আপনাকে ভুলও বুঝতে পারে, সেক্ষেত্রে মাথা ঠান্ডা রেখে তাকে বুঝিয়ে বলুন আপনি কেন কাজটি করেছেন। স্পষ্ট হোন, সরাসরি যোগাযোগে কখনও ভয় পাবেন না।

নিজের ভুলগুলো স্বীকার করুন: ভুল যখন আপনারই, সেটা স্বীকার করে নিতে কোন লজ্জা নেই। ভুল স্বীকার করে তা শুধরে নিতে পারলেই আপনি কাজে উন্নতি করতে পারবেন। আর যদি আপনি গোঁ ধরে নিজের ভুল স্বীকার না করেন, তাহলে আপনার বস আরও রেগে যাবেন, আপনাকে অযোগ্য ভেবে চাকরি নট করেও দিতে পারেন। আর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিজের ভুল শুধরানোর সত্যিকার চেষ্টা যদি করতে পারেন, আপনার বসের মনও গলে যেতে বাধ্য।

সমাধান দিন: শুধু নিজের ভুল স্বীকার করে নিলেই সব শেষ হবে না, নিজের ভুলের সমাধান দেয়ারও চেষ্টা করুন। ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে ভেবে চুপ করে থাকবেন না। ভালো ও কার্যকরী সমাধান দিলে আপনার বস উল্টো খুশি হয়ে যেতে পারেন আপনার উপর।

কখনও ঝগড়া করবেন না: বসদের ঝাড়ি অনেক কঠোর হতে পারে, অনেক অপমানজনকও হতে পারে। অনেকেই হয়তো অপমানিত বোধ করলে উল্টিয়ে কথা বলতে ইচ্ছা করবে। তবে সাবধান! এই ভুল কখনও করবেন না। সমালোচনা সবসময়ই তিক্ত, উর্ধ্বতন কারও থেকে আরও বেশি। তা মেনে নিতে শিখুন, এবং এই তিক্ত আফটারটেস্ট যেন আপনাকে আরও মিষ্টি কিছুর জন্য লড়াই করার উদ্দীপনা দেয়। কথার পিঠে কথা না বলে, কিভাবে আরও ভালো কাজ করে বসকে ইম্প্রেস করা যায় তা নিয়ে ভাবুন ও কাজে জোর দিন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।