রুপালি পর্দায় এবছর যেসব সুপারহিরো

মার্ভেল, ডিসি-সহ হলিউডের অনেক ফিল্ম স্টুডিওই কমিক বইয়ের সুপারহিরোদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মান করছে। চোখ ধাঁধানো চিত্রায়ন, গ্রাফিক্স, পোশাক ইত্যাদি মিলিয়ে কমিক বইয়ের চরিত্রগুলো একেবারে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে পর্দায়। কমিকস পাঠকেরা তো বটেই সাথে অন্যান্যরাও সুপারহিরো মুভিগুলো দেখতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এবছর সুপারহিরোদের নিয়ে নির্মিত কয়েকটি ছবির তথ্য।

 

ক্যাপ্টেন মার্ভেল

মুক্তির তারিখ : ৮ মার্চ ২০১৯

পরিচালক :  আনা বডেন, রায়ান ফ্লেক

অভিনয়ে :  ব্রি লারসন, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, জুড ল, ক্লার্ক গ্রেগ।

চরিত্র সূত্র :  মার্ভেল কমিকস

গল্প : গল্পের বর্ননা অনুযায়ী মূল চরিত্রের সুপারহিরো প্রাথমিকভাবে একজন বিমান বাহিনীর অফিসার র‌্যাঙ্ক কর্মকর্তা যার নাম ক্যারোল ডেনভারস। প্রথম দিকে সে ঐশ্বরিক ক্ষমতা বিহীন একজন সাধারণ মানুষই থাকেন। পরবর্তিতে এক বিস্ফোরণে তার জীবন যখন সঙ্কটাপন্ন তখন মার-ভেল নামক এক হিরোর ডি.এন.এ ব্যবহার করা তার জীবন রক্ষা করা হয়। এই ঘটনার পর ডেনভার পায় নতুন এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা এবং সুপারহিরো হিসেবে তার নাম হয় মিস মারভেল। এরপর সে যোগদান করে ক্রি -দের দলে। ক্রী হচ্ছে একপ্রকার নীল প্রজাতির এলিয়েন যারা প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে মানুষের থেকে অনেক এগিয়ে।  অন্যদিকে স্ক্রল নামে আরেকটি এলিয়েন গোষ্ঠী আছে যাদের সাথে ক্রি -দের যুদ্ধ সবসময় লেগেই থাকে। বর্ননা অনুযায়ী স্ক্রল –রা হচ্ছে খল চরিত্রের যারা সবকিছু ধ্বংস করে কর্তৃত্য করতে চায়। ছবিতে দেখা যাবে এই স্ক্রল -দের পৃথিবী থেকে হটাতে তাদের সাথে নতুনভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হয় ক্রি –রা। এখানে মিস মার্ভেলের ভূমিকা সুপারহিরো হিসেবে সবচেয়ে বেশী। মূল লেখকদের বর্ননা অনুযায়ী মিস মারভেল হচ্ছে পুরো মারভেল কমিকসের সবচেয়ে শক্তিশালী নারী চরিত্র।    

 

শেজাম

মুক্তির তারিখ : ৫ এপ্রিল ২০১৯

পরিচালক : ডেভিড এফ. স্যান্ডবার্গ

অভিনয়ে : জাখারি লেভি, অ্যাশার এঞ্জেল, মার্ক স্ট্রং।

চরিত্র সূত্র : ডিটেকটিভ কমিকস

গল্প : বিলি ব্যাটসন একজন টিন-এজ বালক। ঘটনাক্রমে একদিন হটাৎ এক অদ্ভুত স্থানে এক বৃদ্ধের সাথে তার দেখা হয়। সেই ব্যক্তি জানায় বিলির সততার কারনে তাকে তার পছন্দ হয়েছে এবং সে তাকে কিছু ঐশ্বরিক ক্ষমতা দিতে চান। বিলির প্রশ্নে বৃদ্ধ জানায় তার নাম শেজাম। পরবর্তিতে দেখা যায় এই শেজাম শব্দটি উচ্চারণ করলেই বিলি ফুঁস করে একটি সুপারহিরো হয়ে যায় এবং তার অবয়ব পরিবর্তন হয়ে সে একটি পুর্নবয়স্ক যুবকে পরিণত হয়। ছবিতে সুপারহিরো অ্যাকশনের পাশাপাশি কিছুটা কমেডির ছোঁয়া আছে।

হেল বয়

মুক্তির তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০১৯

পরিচালক : নীল মার্শাল

অভিনয়ে : ডেভিড হার্বার, আয়ান ম্যাকশেন, মিলা জভোভিচ।

চরিত্র সুত্র : ডার্ক হর্স কমিকস

গল্প : গল্পের প্রাথমিক বর্ননা অনুযায়ী বলা যায়, ট্রেভর ব্রুটেনহোল নামক এক তরুণ বিজ্ঞানী একটি আগুনের ত্রিমাত্রিক দরজা তৈরি করেন বিশেষ কারণে। পরবর্তিতে একদিন দরজাটি দিয়ে একটি অদ্ভুত নবজাতকের আবির্ভাব ঘটে যার ত্বক ছিল লাল বর্নের, মাথায় ছিল দুটি শিং এবং একটি হাত পাথরের। শিশুটিকে কোলে নিয়ে ট্রেভর দেখতে পান একটি ছেলে শিশু এবং তিনি একে দত্তক নেন। আগুনের ত্রিমাত্রিক দরজা থেকে আগমন হওয়ায় শিশুটির নাম রাখা হয় হেল বয়। পরবর্তি সময়ে সেই ছেলে পুলিশ বাহিনীর বিশেষ যোদ্ধা হিসেবে সকল মিশন সম্পন্ন করতে থাকে। চক্রাকারে একটা সময়ে ঐ আগুনের ত্রিমাত্রিক দরজা দিয়ে আরও কিছু অদ্ভুত শক্তির আবির্ভাব ঘটে মানব পৃথিবীতে আর তখনই শুরু হয় খারাপদের হাত থেকে পৃথিবী বাঁচানোর যুদ্ধ। আর এই ঘটনা নিয়েই থাকছে এবারের “হেলবয়” ছবির প্রকাশ।         

 

অ্যাভেঞ্জারসঃ এন্ড গেম

মুক্তির তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০১৯

পরিচালক : জো, অ্যান্থনি রুশো

অভিনয়ে : জশ ব্রলিন, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভান্স, স্কারলেট জোহান্সসন, পল রুড, ক্রিস হেমস্‌ওর্থ, মার্ক রাফেলো সহ আরও অনেকে।

চরিত্র সুত্র : মার্ভেল কমিকস

গল্প : গতবছর মুক্তি পাওয়া “অ্যাভেঞ্জারসঃ ইনফনিটি ওয়ার” এর দ্বিতীয় অংশ এই ছবি। ইনফিনিটি ওয়ার -এ ভিলেন থ্যনোস সবাইকে পরাজিত করে “ইনফিনিটি স্টোন” নামক ছয়টি পাথর সংগ্রহে সফল হয় এবং কয়েকজন সুপারহিরো সহ পার্থিব জীবনের অর্ধেক ধুলিস্মাত করে ফেলেন, ব্যাপারটা অনেকটা এমন ছিল ছ’টি পাথর যুক্ত করে যেই পরাশক্তির অধিকারী হতে চেয়েছেন থ্যানোস তার মূল্য হিসেবে অর্ধেক পৃথিবীর জীবন হারাতে হয়। তাই “এন্ড গেম” -এর মূল আকর্শন গতবারের পরিণতি থেকে প্রত্যেক সুপারহিরোর মুক্তি, থ্যানোসের পরাজয় এবং সকলের পুনরুদ্ধার।

 

 

ডার্ক ফিনিক্স

মুক্তির তারিখ : ৭ জুন ২০১৯

পরিচালক : সিমন কিনবার্গ

অভিনয়ে : সোফি টার্নার, জেনিফার লরেন্স সহ আরও অনেকে।

চরিত্র সুত্র : মার্ভেল কমিকস

গল্প : এক্স ম্যান গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মিউট্যান্ট হচ্ছেন জিন গ্রে। ঘটনাক্রমে পৃথিবীর বাইরে এক উদ্ধার করণ মিশনে এলিয়েনদের সাথে যুদ্ধের সময় একটি রহস্যময় মহাজাগতিক শক্তি দ্বারা আঘাত পেয়ে জিন প্রায় নিহত হন। পরবর্তিতে এই শক্তি জিন গ্রে কে এক নতুন জীবন দেয় এবং তাকে সম্পুর্ন বশ করে ফেলে। এর পেছনের কারণ হচ্ছে এলিয়েনদের ইচ্ছা জিন গ্রে –এর ঐশ্বরিক শক্তি ব্যবহার করে পুরো মহাবিশ্বে রাজত্ব স্থাপন করা। এখন জিন কে এই অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং পৃথিবিকে এলিয়েনদের হাত থেকে বাঁচাতে অন্যান্য মিউট্যান্টদের যুদ্ধ নিয়েই এই ছবি।       

 

স্পাইডার ম্যানঃ ফার ফ্রম হোম

মুক্তির তারিখ : ৫ জুলাই ২০১৯

পরিচালক : জন ওয়াটস

অভিনয়ে : টম হল্যান্ড, জেইক গ্যালেনহল, জেনদায়া, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন।

চরিত্র সুত্র : মার্ভেল কমিকস

গল্প : “অ্যাভেঞ্জারসঃ এন্ড গেম” -এর গল্পের পটভূমির ঠিক পরের সময়টি দেখানো হবে এই ছবিতে। সবার প্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার ম্যান বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছে নানাবিধ অন্যায় প্রতিরোধের মাধ্যমে। এরই মাঝে তার সচরাচর জীবন থেকে একটু সরে বন্ধুদের সাথে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে যায় এবং বিপত্তি বাঁধে ঠিক তখনই মিস্টেরিও নামে এক ভিলেনের আবির্ভাবের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মিস্টেরিও নামক এই বড় হুমকি থেকে স্পাইডার ম্যান তার বন্ধুদের বাঁচাতে পারবে তো ?  

 

দি নিউ মিউটেন্টস

মুক্তির তারিখ : ২ আগস্ট ২০১৯

পরিচালক : যশ বুন

অভিনয়ে : মেসাই উইলিয়ামস, এলিস ব্রাগা, চার্লি হিটন।

চরিত্র সুত্র : মার্ভেল কমিকস

গল্প : এক্স ম্যান সিরিজের গল্পের ধারা থেকেই এই ছবির গল্পের সূত্রপাত। এক্স ম্যানের সেই পুর্ব পরিচিত মিউট্যান্ট গুলোর পাশাপাশি নতুন কিছু মিউট্যান্টের আবির্ভাব ঘটবে যাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা কিছুটা আলাদা এবং অভিনব হবে।

 

জোকার

মুক্তির তারিখ : ৪ অক্টোবর ২০১৯

পরিচালক : টড ফিলিপ্‌স

অভিনয়ে : যোয়াকিন ফিনিক্স, জাজি বীট্‌স, রবার্ট ডি নিরো।

চরিত্র সুত্র : ডিটেকটিভ কমিকস

গল্প : ডিটেকটিভ কমিকসের জনপ্রিয় সুপারহিরো ব্যাটম্যানের চিরশত্রু হচ্ছে জোকার। প্রত্যেকবারই সে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে ব্যাটম্যানকে সমস্যায় ফেলে দেয়। তবে মজার ব্যাপার হল কমিক বইয়ের ইতিহসে জোকার এমনই এক ভিলেন যাকে ভক্তরা নায়কের থেকে বেশী ভালবাসে। ভক্তদের মাঝে অনেকদিন ধরে তাদের এই প্রিয় চরিত্রের একক ছবি দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। অবশেষে তা পূরণ হবার পথে। হিথ লেজারের পর জ্যারেড লেটো "সুইসাইড স্কোয়াড" ছবিতে এই চরিত্রে অভিনয় করেছিল; তাকে নিয়েই এই নতুন একক ছবি শুরু হওয়ার কথা। ধারণা করা হয় জ্যারেডের জোকার ভক্তদের মন তেমন একটা জয় করতে পারেনি বিধায় তার পরিবর্তে যোয়াকিন ফিনিক্সকে এই চরিত্রে নেওয়া হয়েছে। তবে রূপালী পর্দায় এ পর্জন্ত হিথ লেজারের জোকারকেই সবচেয়ে ভালো ধরা হয়। এখন দেখা যাক যোয়াকিন সবার মন জয় করতে পারেন কিনা।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।